স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের সঙ্গে লড়বেন যুবনেতা নিরব

Print

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী উত্তাপ বইছে ঢাকা-১২ আসনেও। শিল্পাঞ্চল তেজগাঁও-শেরেবাংলা নগর ও রমনার একাংশ নিয়ে গঠিত এই আসনে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন বেশ কয়েকজন নেতা।
প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদেরই মাঠে কম-বেশি তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুই দলে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও কার্যত মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও বিএনপি থেকে যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব। দুজনের পক্ষ থেকেই নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকরা নানাভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

২০০৩ সালে উপনির্বাচনে এই আসনে বিজয়ী হন বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালু। তার কোনো তৎপরতা অবশ্য এবার তেজগাঁও এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে কয়েকজন প্রার্থী পোস্টার ও ব্যানারে শুভেচ্ছা বার্তাসহ নানাভাবে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ : ঢাকা মহানগর উত্তরে অবস্থিত ঢাকা-১২ আসন এলাকা। তবে এই আসন থেকে এবার নৌকার টিকিট পেতে পারেন বর্তমান এমপি আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি এই আসন থেকে টানা দুবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইতে পারেন সাবেক এমপি ডা. এইচ বি এম ইকবাল, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নেতা আবুল কালাম আজাদ। তারা পৃথকভাবে নির্বাচনী এলাকায় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়াও মিছিল, মিটিং ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ঢাকা-১২ আসনটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।
তা ছাড়া এলাকায় আসাদুজ্জামান খান কামালের ইমেজ ভালো। সৎ ও সজ্জন হিসেবে এলাকায় তিনি জনপ্রিয়। এলাকার উন্নয়নের দিকেও তার নজর রয়েছে। কর্মসূচি ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হয়। অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও দ্বন্দ্ব যা ছিল মিটে গেছে। সব মিলিয়ে এককভাবে শক্ত অবস্থানেই রয়েছে আওয়ামী লীগ। এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও তিনি নির্বাচনী এলাকার নেতা-কর্মীদের নিয়মিত সময় দেন। সে কারণে মনোনয়ন দৌড়ে তিনিই শীর্ষে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিএনপি : হারিয়ে যাওয়া ঢাকা-১২ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি। সে লক্ষ্যে এবার প্রার্থী বদলের সম্ভাবনাও রয়েছে। অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রার্থী বেছে নিতে পারে দলটি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের পক্ষে নির্বাচন করেছিলেন বর্তমান ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. সাহাবউদ্দিন। তিনি এবারও মনোনয়ন চাইবেন। এর আগে ২০০৩ সালে উপনির্বাচন করেন বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালু। তবে একাদশে তিনি নির্বাচন করবেন কিনা স্পষ্ট নয়। স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব।
ওই এলাকায় ছাত্র রাজনীতির হাতেখড়ি নিরবের। মাথায় দুই শতাধিক মামলার খড়গ সত্ত্বেও স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ সব অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীর সঙ্গেই তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। দুঃসময়ে তিনি নেতা-কর্মীদের পাশেও ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছেন তিনি। নেতা-কর্মীদের একটি অংশের আলোচনায় আছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর নামও।
তবে তিনি আইনি জটিলতায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক তেজগাঁওয়ের সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারও মনোনয়নপ্রত্যাশী। তার বিরুদ্ধেও ৯০টি মামলা রয়েছে। দলের মনোনয়ন প্রসঙ্গে সাইফুল আলম নিরব বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘শৈশব-কৈশোর থেকে আমার বেড়ে ওঠা তেজগাঁও এলাকায়। ছাত্র রাজনীতিরও হাতেখড়ি এখানে। দল চাইলে এই আসনে আমি নির্বাচনে প্রস্তুত। যে কোনো পরিস্থিতিতে ধানের শীষের প্রতীককে বিজয়ী করবই ইনশাল্লাহ। ’ আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার নিজেকে প্রার্থী উল্লেখ করে বলেন, ‘আমিও এই এলাকায় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমারও যোগাযোগ আছে। বিএনপি মনোনয়ন দিলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে আমিও সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 293 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ