স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ভাতা পাচ্ছেন না ইন্টার্ন চিকিৎসকরা!

Print

এখনও মাসিক পনেরো হাজার টাকা মাসিক ভাতা পাচ্ছেন না বাংলাদেশের বেশ কিছু বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। তাদের কে দেয়া হচ্ছে পূর্বের নির্ধারিত ১০০০০/- টাকা বা তারও কম। দু একটি ক্যাম্পাসে কোন ভাতাই দেয়া হচ্ছে না শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের।

২০০৯ সালে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৬৫০০/- টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০০/- টাকা নির্ধারণ করা হয়৷ সেই থেকে তারা দশ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পেয়ে আসছিলেন৷ কিন্তু সময়ের সাথে সাথে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও বাড়ছিলো না শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের ভাতা৷ পরবর্তীতে ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গত বছরের শুরুর দিক থেকে বেশ কিছু সময় যাবত তারা আন্দোলনের ডাক দেন৷ এতে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ, সভা, স্মারকলিপি পেশ ও কর্মবিরতির মত কর্মসূচী পালন করা হয়৷ আন্দোলনের একপর্যায়ে ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিস চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা করার ঘোষণা দেয়। উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধির কথা আসলেও এড়িয়ে যাওয়া হয় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে কর্মরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের কথা।

সরকারী মেডিকেল কলেজ গুলোতে আগস্ট মাস থেকেই বাড়তি ভাতা প্রদান করা শুরু হলেও অধিকাংশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় নেয়। অল্প কিছু বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সরকারি প্রজ্ঞাপনের সাথে মিল রেখে ভাতা বাড়ালেও অধিকাংশই প্রতিষ্ঠানই ভাতা বাড়াতে চায়নি। এর ফলে বেসরকারি পর্যায়ে মাসিক ভাতা পনের হাজার টাকা করার দাবীতে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা আন্দোলন অব্যাহত রাখে। অধিকাংশ ক্যাম্পাসেই আন্দোলন সফলতার মুখ দেখলে গো ধরে বসে কিছু প্রতিষ্ঠান।

তারা কোনভাবেই বর্ধিত অর্থ প্রদানে রাজী নয়। তাই সেখানে এখনও প্রদান করা হচ্ছে মাত্র ১০ হাজার টাকা৷ আশ্চর্য হলেও সত্য কিছু ক্যাম্পাসে এর চেয়েও কম ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এ সময়ে এতো কম ভাতায় আদৌ একজন চিকিৎসকের জীবিকা নির্বাহ করা সম্ভব কি না এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তরুণ চিকিৎসক ও অভিভাবক মহলে। কর্তৃপক্ষের এহেন উদাসীনতায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গুলোর শিক্ষানবিস চিকিৎসকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ হাজার টাকা করে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে রাজধানীর গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ, ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ, এনাম মেডিকেল কলেজ, পপুলার মেডিকেল কলেজ, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ প্রভৃতি ক্যাম্পাসে। এছাড়াও সিলেটের নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ ও জালালাবাদ রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজে ১৫ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হয়। তারা  জানান, শিক্ষার্থী ভর্তির সময় ইন্টার্ন ভাতা বাবদ দশ হাজার টাকা করে জমা নেয়া হলেও বর্তমান ভাতার সাথে বৈষম্য এড়াতে তারা সমপরিমান টাকাই ভাতা হিসেবে দিচ্ছেন।

রাজধানীর এম এইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজ, ডেল্টা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টাঃ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখনও ১০ হাজার টাকা করে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। মার্কস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের কোনো ভাতাই প্রদান করা হয় না৷ কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজে ১২ হাজার টাকা, কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ, ময়নামতি মেডিকেল কলেজে, চট্টগ্রাম ইউএসটিসি মেডিকেল কলেজে ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়৷ রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজে ১২৫০০ টাকা ও চট্টগ্রাম বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাত্র ৮ হাজার টাকা প্রদান করা হয়৷

ইন্টার্ন ভাতা ১৫ হাজার টাকা করার দাবিতে এখনো কিছু কিছু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আন্দোলন চললেও কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া দিচ্ছে না৷ তারা বলছেন- ভর্তির সময় ইন্টার্ন ভাতা বাবদ ১০ হাজার টাকা করে জমা নেয়া হয়েছিলো বিধায় এখন এর চেয়ে বেশি দেয়া সম্ভব না৷ আর যারা ভর্তির সময় এই টাকা দেয়নি তাদের কোনো ভাতাই দেয়া হচ্ছে না৷

এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, “একই দেশে একই স্তরে দু’রকম ভাতা পদ্ধতি অবশ্যই অনাকাঙ্খিত৷ এ প্রকট বৈষম্য কোন ভাবেই মানা যায় না৷ কলেজ কতৃপক্ষ ভর্তির সময় ইন্টার্ন ভাতা বাবদ মাসিক ১০ হাজার টাকা করে যে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা নিয়েছিলো তা গত পাঁচ বছরে বিনিয়োগ করে অনেক টাকা আয় করেছে৷ তাছাড়া আমরা হাসপাতাল কে সচল রাখতে প্রচুর শ্রমও দিয়ে যাচ্ছি। এ হাসপাতাল থেকেও তাদের আয় অনেক বড় অংকের। যেখানে অনেক বেসরকারিতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালো ১৫ হাজার টাকা করে ভাতা দিতে পারছে তারা পারছে না কেন? এটা নিছক বঞ্চনা ও প্রতারণা৷” বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য তারা মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও চিকিৎসকদের অভিভাবক সংগঠন বিএমএ’র হস্তক্ষেপ কামনা করেন৷

উল্লেখ্য, এ ক্ষেত্রে উজ্জ্বল ও অনুসরণীয় ব্যতিক্রম ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তারা মাসিক ভাতা হিসেবে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের দিচ্ছে সতেরো হাজার টাকা।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 333 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ