ধরুন, আপনি লিফটে আছেন। লেভেল ২২ এ আপনার অফিস। লেভেল ১৯ পর্যন্ত এসেছেন। কিন্তু হঠাৎ-ই একটা ঝাঁকুনি অনুভূত হলো এবং এরপরই টের পাচ্ছেন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে আপনি লিফটসহ নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছেন। এই ভয়ঙ্কর মুহূর্তে কী করবেন?

নিশ্চয়ই এই উত্তেজনাকর মুহূর্তে ভাবার সময় একেবারেই নেই যে কী করবেন। কিন্তু না, মাথা ঠান্ডা রেখে ভাবতে হবে। এমন কিছু পন্থায় শরীরকে লিফটের ভেতরে স্থাপন করতে হবে যেন আঘাতটা শরীরের উপর দিয়ে হালকাভাবে গেলেও প্রাণের উপর দিয়ে না যায়। আজকের এই প্রতিবেদনে জেনে নিন, হঠাৎ আসা এমন ভয়ঙ্কর মুহূর্তে কী করবেন?

লিফট আসলে কীভাবে কাজ করে? ছবি: সংগৃহীত

লিফটের ক্যাবল হঠাৎ ছিঁড়ে গেলে আসলে কী হয়?

হাইড্রোলিক লিফট ব্যতীত ক্যাবল চালিত লিফট বেশ কয়েকটি ক্যাবল দ্বারা সংযুক্ত থাকে যার মূল ক্যাবলটি ছিঁড়ে গেলে পরপর সবগুলো ক্যাবলই অকেজো হয়ে পড়ে কেননা লিফটের পর্যাপ্ত ভারটি তখন আর সহায়ক ক্যাবলগুলো নিতে পারে না। এর ফলে লিফটি দ্রুত নিচে পড়ে যেতে থাকে।

অন্যদিকে হাইড্রোলিক লিফটে একটা কেন্দ্রীয় হাইড্রোলিক পিলার থাকে যেটা লিফটবক্স এর ভারসাম্য রক্ষা করে। যদি এই হাইড্রোলিক পিলারটি অচল হয়ে পড়ে তখন লিফটি দ্রুত পড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে এর সাথে যুক্ত কিছু সহায়ক শেকল। এই শেকলগুলো পড়ে যাওয়ার গতি কিছুটা কমিয়ে আনতে সহায়তা করে তবে এটিও বেশিক্ষণ লিফটটিকে ধরে রাখতে পারে না।

করণীয় কী?

আমাদের বাস্তব জীবনটা নিশ্চয়ই কোনো অ্যাকশন মুভির পার্ট না যে হঠাৎ করে বা মুভির ভিলেন লিফটের ক্যাবল কেটে দিল আর আপনি মুভির নায়ক হিসেবে লাফিয়ে লিফটের উপরে উঠে গিয়ে কোনো ক্যাবলে ঝুলে পড়লেন। এই ধরনের কাল্পনিক ঘটনা মুভিতেই সম্ভব, বাস্তবে নয়। তাই হঠাৎ আসা এই ধরনের দুর্ঘটনা থেকে নিজেকে বাঁচাতে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। এমআইটি সেন্টার ফর বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একদল গবেষক এমন দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বাঁচার কিছু পন্থা বাতলে দিয়েছেন। পাশাপাশি জানিয়ে দিয়েছেন এ সময়ে কোন বিষয়গুলো করা একেবারেই অনুচিত। যেমন;

গবেষকরা বলছেন, লিফট ছিঁড়ে পড়াকালীন লাফানো একেবারেই অনুচিত। ছবি: সংগৃহীত

যা করবেন না:

১. লাফ দেয়ার চেষ্টা করবেন না: অনেকেই বলে থাকেন যে, লিফট ছিঁড়ে পড়ার সময়ে লাফ দিতে হবে যেন শরীরের ভারসাম্যের সাথে লিফট পড়ার ঝাঁকুনির ভারসাম্য ঠিক থাকে। গবেষকরা বলেন, এই কাজটি ভুলেও করতে যাবেন না। তাছাড়া লিফট বিচ্যুতির মুহূর্তে লাফ দেয়া তো দূরের কথা নিজের শরীর নিয়ন্ত্রণ করাই যায় না। কেননা আমরা জানি না যে, আমাদের শরীরের কোন অংশটি আগে মাটিতে আঁছড়ে পড়বে। সুতরাং, আঘাত বেশি না পেতে চাইলে লাফালাফি বন্ধ করুন।

২. দাঁড়িয়ে থাকবেন না: আমরা যখন দাঁড়িয়ে থাকি তখন আমাদের শরীরের সব ওজন পায়ে গিয়ে ভর করে। ফলে লিফট পতনের সময়ে কোনোভাবেই দাঁড়িয়ে থাকবেন না। কেননা পড়ে যাওয়ার সময়ে শরীরের ওজনের ১০ গুণ বেশি ওজন পায়ে এসে আঘাত করতে পারে এবং এতে পা গুরুতরভাবে আহত হতে পারে।

লিফট পতনের সময়ে লিফটের মাঝামাঝিতে একেবারে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়া উচিত। ছবি: সংগৃহীত

যা করবেন:

এমআইটি সেন্টার ফর বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর গবেষকরা বলেন, লিফট পতনের সময়ে একজনের লিফটের মাঝামাঝিতে একেবারে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়া উচিত। এতে পা ও হাত ছড়ানো অবস্থায় থাকতে হবে। তারা বলেন, এটি একটি নিরাপদ কৌশল। কেননা এতে করে শরীরের সব অংশে শক্তি সমানভাবে বিরাজ করবে এবং নির্দিষ্ট কোনো অংশে ওজন বেশি থাকবে না, ফলে আঘাতও বেশি পাবে না। আঘাত পেলেও তা শরীরের সব অংশে সমানভাবে পাবে।

তবে লিফটে বেশি মানুষ থাকলে সবাই একসাথে বসে পড়তে পারেন। এতে করে দাঁড়িয়ে থাকলে অস্থিতে যে চাপ পড়বে বসে থাকলে তুলনামূলক চাপ কম পড়বে।