হাওরে বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মাঝে আসে!

Print

বৃষ্টির প্রভাবে কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকাগুলো এখনও উত্তাল। আগাম বন্যায় হাওর এলাকায় ভেসে গেছে সোনার ফসল। ফসল ভেসে যাওয়ায় কৃষকদের চোখের নিচে কালো রেখা যেন ঘুমহীন রাতের অজানা কাব্যই রচনা করছে।
প্রকৃতির সৃষ্ট দুর্যোগ কাটিয়ে না ওঠার আগেই আবার নতুন করে ভাগ্য বিড়ম্বিত পরেছেন হাওরবাসী। হাওরবাসীকে আলোকিত করতে আসা বিদ্যুতের আলোও এখন ছলচাতুরি করছে তাদের সঙ্গে।

দিন-রাতে পল্লী বিদ্যুতের এমন তামাশাপূর্ণ আচরণে বিপন্ন জনজীবনের এমন বাস্তব চিত্রই দেখা গেলো কিশোরগঞ্জের ইটনা হাওরের পুরাতন বাজারে। ফলে ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তিতে নেই দুর্ভাগা হাওরবাসী। জমি জিরাত হারানো বিলীন জীবনে সন্ধ্যার পর পরই নেমে আসা নিকষ কালো অন্ধকারে হাওরের পরিবেশ ভয়ার্ত হয়ে ঠেকছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালের দিকে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুতের থাকলেও রাতে অনেক সময় বিদ্যুতের কোনো খবর থাকে না। কোনো কোনো সময় ২৪ ঘণ্টারও বেশি বিদ্যুতের দেখা মেলে না। ফলে হাওরের বাসিন্দারা বিদ্যুতের এমন লুকোচুরিতে অতিষ্ঠ হয়ে ভরসা খুঁজার চেষ্টা করছেন সৌর বিদ্যুতে। অন্তত এ বিদ্যুতের আলোয় তবুও গুটগুটে অন্ধকারের হাত থেকে নুন্যতম নিস্তার যদি মিলে!

তবে এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছেন, হাওর এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাই প্রধান সমস্যা। হাওরে বাতাসে বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে, তারও ছিড়ে যায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছা সম্ভব হয় না। আবার অনেক সময় নদীতে চলাচলকারী কার্গো জাহাজের কারণে খুঁটি ভেঙে পড়ে যায়। মূলত এসব কারণে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়।
ইটনা হাওর এলাকার পুরাতন বাজারে মুদি ও চা দোকানিসহ কম করে হলেও প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার ব্যবসায়ী রয়েছেন। প্রবল বৃষ্টির হানায় দোকানিদের অনেকেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ঘরে ফিরেছেন।
পল্লী বিদ্যুতের অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে কথা হয় বাজারের একটি চায়ের দোকানে। সৌর বিদ্যুতে মিটিমিটি আলোয় চায়ের দোকানের জ্বলন্ত একটি চুলোয় কেটলিতে টগবগে ফুটছিলো গরম পানি। চুলোর পাশেই দাঁড়িয়ে নিজের দোকানে বসে বিরতিহীনভাবে চা বানিয়ে যাচ্ছিলেন স্থানীয় আনসার কমান্ডার মরতুজ আলী। বয়স তার পঞ্চাশের কোটায়।
পল্লী বিদ্যুৎ নিয়ে তার কথায় প্যারোডি করে একজন বলতে শুরু করলেন, বিদ্যুৎ যখন ছিল না তখনই ভাল ছিলাম। এখন তো আবার বিদ্যুৎ যায় না, আসে!
তার সঙ্গে যোগ দিয়ে সাইফুল ইসলাম বাবুল নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, বিদ্যুতের অভাবে মোবাইল ফোনও চালু করতে পারছি না। অথচ পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের অজুহাতের শেষ নেই।

বিদ্যুৎ নিয়মিত না থাকলেও বিদ্যুৎ বিলের দায় থেকে হাওরবাসীকে রেহাই দিচ্ছে না স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। সাইফুল ইসলাম বলেন, ৬৪ ইউনিট ব্যবহার করে যেখানে তার মাসিক বিল সর্বোচ্চ দেড়শ টাকা হবার কথা সেখানে গতমাসে বিল এসেছে প্রায় হাজার খানেক টাকা।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মনির উদ্দিন মজুমদারের সঙ্গে কথা হয় ।
তিনি বলেন, ইটনায় একটি বিদ্যুতের লাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা যাচ্ছে না। তবে তারা সংযোগ পুনঃস্থাপনে চেষ্টা করছেন।
পরবর্তীতে এ জেনারেল ম্যানেজারের তৎপরতায় ঘণ্টা খানেক পর বিদ্যুৎ আসলেও খুব একটা স্থায়ী হয়নি। ঘণ্টা দেড়েকের মাথায় কয়েক দফা বিদ্যুতের ভেল্কিবাজির মুখে পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত রাত ১১টাইয়ও বিদ্যুতহীন ছিল এ উপজেলা।
আর এ নিকষ কালো অন্ধকারের মধ্যেই যেন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে ছিল এ বাজার থেকেই মাত্র দেড়শ গজ দূরের জেলা পরিষদের আধুনিক ডাক বাংলো।
তবে কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ইটনা অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ নাজিমুল হক রাজু বলেন, নিকলী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে চামড়া বন্দরের সুতারপাড়া গ্রামের ডুবি নামের একটি এলাকায় মিটার পুড়ে গেছে। ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা যাচ্ছেন। রাতেই লাইন সচল হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 108 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ