হাসপাতাল চলছে পাঁচ ডাক্তারের জোড়াতালিতে

Print

জনবলের অভাবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকার পরও চিকিৎসক সংকটের কারণে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শত শত রোগী।
সরকারি লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা অপারেশন থিয়েটার এবং সরঞ্জমাদী ব্যবহার না হওয়ায় ঝংয়ে ধরেছে। চিকিৎসক অভাবের কথা স্বীকার করে স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা বলছেন শূন্যপদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

২০১৪ সালে ৫০ শয্যা থেকে ১শ শয্যায় উন্নিত করা হয় সৈয়দপুর হাসপাতালকে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জমাদি, ঔষুধপত্র দেয়া হয় হাসপাতালের অনুকূলে। কিন্তু চিকিৎসকের অভাবে সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায় নিয়মিত মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক দিয়ে চালানো হচ্ছে সৈয়দপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার লাখো মানুষের চিকিৎসা সেবা। সার্জারি, এ্যানেসথিয়া, নাক, কান, গলা, শিশু, রোগ ও চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রতিদিন শত শত লোক চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এছাড়া সংকট রয়েছে নার্সসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীও।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার সুলতানা নাসেরা তুলি জানান, আমরা চাপের মধ্যে রয়েছি। ভিতরে ১শ জন রোগী থাকার কথা থাকলেও দুই’শের কাছাকাছি রোগী ভর্তি থাকেন। তাছাড়া বহিঃবির্ভাগে তো রয়েছে। দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রোগীদের পুরোপুরি সেবা দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।
সৈয়দপুর শহরের শেরে বাংলা নগর এলাকার সোহেল আরমান জানান, হাসপাতালে গিয়ে কোন লাভ হচ্ছে না। চিকিৎসক না থাকায় ফিরে আসতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে তারা সাফ জানিয়ে দেন এই বিভাগের কোন চিকিৎসক নেই এখানে। তাছাড়া অল্প চিকিৎসক থাকায় খারাপ আচরণ করে থাকেন রোগীদের।
একই শহরের নতুন বাবুপাড়া মহল্লার সাকির হোসেন বাদল অভিযোগ করে বলেন, অর্থোপেডিক চিকিৎসক না থাকায় সব রোগীকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। হাড় ভাঙ্গা, মচকা রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অতিদ্রুত জনবল দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আরিফুল হক জানান, হাসপাতালে ৫০ শয্যারই জনবল নেই। যেখানে ১২জন চিকিৎসক প্রয়োজন কিন্তু সেখানে আছেন মাত্র ৫জন। এখন ১শ শয্যায় উন্নিত হয়েছে। সে হিসেবে আরো অনেক প্রয়োজন। নিয়মিত পাঁচ জনের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসককে প্রেষণে এনে হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হয়। তারপরও সাধ্যমত আমরা সেবা দিয়ে আসছি রোগীদের।
জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুর রশিদ জানান, ১’শ শয্যা হাসপাতালের জন্য ২৯জন চিকিৎসক থাকার কথা কিন্তু রয়েছে মাত্র ৫ জন। যা আগের ৫০ শয্যার জন্যই পর্যাপ্ত নয়। তিনি বলেন, অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জমাদি রয়েছে কিন্তু সংকটের কারণে সেটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই সংকট কেটে গেলে রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যাবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 75 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ