হিন্দু শিক্ষার্থীদের গো মাংস পরিবেশন, ক্যান্টিন মালিক বহিষ্কার

Print

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে গত শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) চারুকলার ক্যান্টিনে রান্না করা গরুর মাংসের তেহারি হিন্দু শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ করার দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন চারুকলার ক্যান্টিন মালিক জাকির হোসেন।
গত রবিবার জাকিরকে সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরখাস্ত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জাকির চারুকলা সংলগ্ন কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি গত বছর থেকে ঢাবির চারুকলা অনুষদ ক্যান্টিন পরিচালনা করছিলেন তিনি।
তাকে বরখাস্ত করার কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘জাকির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ওই ক্যান্টিন চালাচ্ছিলেন।’
যেদিন চারুকলায় হাজার হাজার মানুষের ভিড় হয়, সে উৎসবের দিন ক্যান্টিনে গো-মাংস পরিবেশন করে চারুকলায় জাকির গোলমাল সৃষ্টি করেন বলেও জানান প্রক্টর।
এ বিষয়ে চারুকলার শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে তাদের চারুকলা ক্যান্টিনে গরুর মাংস পরিবেশন হয় না। কিন্তু জাকির হোসেন এমন কাজ ক্ষমার অযোগ্য।
তবে পহেলা বৈশাখের সকালে নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতির জন্য রাতভর কাজ করা কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে তেহারি খেয়ে, তা অন্য সহপাঠীদের নিয়ে খাওয়ান। ওই তেহারি গরুর মাংস দিয়ে রান্না করার বিষয়টি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ক্যান্টিন ভাঙচুর এবং ক্যান্টিন মালিক জাকিরকে বেধরক মারধর করে।
মঙ্গল শোভাযাত্রার আগে ওই উত্তেজনার এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং জাকিরকে ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার তাৎক্ষণিক ঘোষণা দেন।
এ ঘটনার জন্য চারুকলার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দোষারোপ করে জাকির সেসময় জানিয়েছিলেন, ছাত্রলীগ নেতা সোহাগসহ বৈশাখ উদযাপন প্রস্তুতি কমিটির কয়েকজন এই কাজের মধ্যে তার কাছ থেকে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বাকী করেন। তারাই ক্যান্টিনে গরুর তেহারি খেয়ে ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে’ তা হিন্দু সহপাঠীদের খাইয়ে তার বিরুদ্ধে লাগিয়েছেন।
এছাড়াও, পহেলা বৈশাখের সার্বজনীন মঙ্গল শোভাযাত্রা ঘিরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টায় পরিকল্পিতভাবে জাকির এ কাজ করেছেন কি না- সে সন্দেহ প্রকাশ করেন চারুকলার কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী।
কী কারণে এটা করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চারুকলার কারুশিল্প বিভাগের চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহাম্মদ মোল্লাকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন প্রাচ্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান মলয় বালা এবং সহকারী প্রক্টর ও মৃৎশিল্প বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম।
এ ব্যাপারে অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ওই ঘটনায় কারা জড়িত তা বের করতে তদন্ত করা হচ্ছে। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 295 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ