১৯ দফা দাবিতে মাঠে বিএনপি

Print

বর্তমান সরকারের মেয়াদ আছে এখনো এক বছর ৯ মাস।এরই মধ্যে দেশের অন্যতম প্রধান বৃহত্তম দল বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করছে। বিএনপির পুনর্গঠনের পাশাপাশি চলছে নির্বাচনী ইশতেহারের খসড়া প্রস্তুতি।আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই মুহূর্তে এমপি প্রার্থীদের বায়োডাটা সংগ্রহ করা হচ্ছে। নির্বাচনী মাঠ গোছানোর জন্য দলের নেতাকর্মীরা ঢাকা ছেড়ে এলাকায় গিয়ে গোপনে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
তবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথাও বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বলছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ব্যাপক জ্বালাও-পোড়াও এর ঘটনা ঘটিয়ে সেই নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি।তবে এবার আর তেমন আন্দোলনের পথে যাচ্ছেন না তারা।
নাম প্রকাশ করা না শর্তে বিএনপির এক নেতা জানায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে কোণঠাসায় পরেছে দলটি। একদিকে দলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়হীনতা আর বিচ্ছিন্নতায় দৃশ্যমান অস্তিত্ব সংকটে। অপর দিকে আগামী নির্বাচন বর্জন করলে বিএনপি নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকিতে পড়বে।
দলীয় সূত্রমতে, এরই মধ্যে সংসদীয় ৩শ’ আসনের জন্য যোগ্য প্রার্থী খোঁজা শুরু করেছে বিএনপি। বিশেষ করে ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে যারা নির্বাচন করতে আগ্রহী তাদের সঙ্গে কথা বলেছে দলের হাইকমান্ড।এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির কয়েকজন হাইপ্রোফাইল নেতাকে নির্বাচনী এলাকা ঠিক করে দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াত, গণসংযোগ, সাংগঠনিক সভা ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে নির্বাচনের আওয়াজ ছড়িয়ে দিতে।ইশতেহার প্রণয়নে গেল প্রায় ১০ বছরের সার্বিক রাজনীতি, দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সরকারের অপশাসনের বিষয় ফোকাস করা হচ্ছে। এছাড়া ভিশন ২০৩০ নামে একটি লক্ষ্য নির্ধারণও করা হয়েছে। আগামী ১ থেকে ২ মাসের মধ্যে ভিশন ২০৩০ এর ইশতেহারের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা জানান, একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সেলের তত্ত্বাবধানে এখন মাঠ জরিপ চলছে। এই জরিপে আগামী নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।বিশেষ করে ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির যেসব এমপি প্রার্থী ছিলেন তারা এবারও থাকছেন মূল আলোচনায়।জরিপে দলের প্রতি নেতাদের ত্যাগ, আদর্শের প্রতি কমিটমেন্ট, গত আন্দোলনে ভূমিকা এবং এলাকার সাধারণ মানুষসহ দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
এর আগে খালেদা জিয়া তার দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, সবাইকে এখন থেকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।তৃণমূলের কর্মী সমর্থকসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ঢাকা ছেড়ে নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় যেতে হবে।
খালেদা জিয়ার এমন নির্দেশের পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিএনপির মহাসচিবসহ হেভিওয়েট নেতারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সভা-সমাবেশ করছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান জানান, বিএনপি নির্বাচনের জন্য সব সময় প্রস্তুত। দলের ভেতরে সব সময় প্রস্তুতি থাকে।নির্বাচন সামনে রেখে দলের ভেতরে-বাইরে বিভিন্ন তৎপরতা চলছে। নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদেরও ভীষণ আগ্রহ আছে।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী জানান, বিএনপি কোনো নাটকে অংশ না নিয়ে একটি সত্যিকার অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। এ লক্ষে সব সময় দলের প্রস্তুতি আছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 155 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি