১৯ সাল থেকেই মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু

Print

গত ২৫ বছরে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। শত চেষ্টার মধ্যেও অবনতি হয়েছে, যা এখনও চলমান। প্রায় ১০ লাখ গাড়ির শহর ঢাকা। বাসে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ পাঁচ-সাত কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করা যায়। যা গত ১০ বছর আগেও দ্বিগুণ ছিল। দিন দিন পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে মেট্রোরেল প্রকল্প। বলতে গেলে, যোগাযোগ ব্যবস্থায় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে চলমান প্রকল্পটি। চোখের পলকে ছুটবে ট্রেন। উত্তরা থেকে মতিঝিল আসতে সময় লাগবে মাত্র ৩৭মিনিট। পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর ছাড়বে এসি ট্রেন। অথচ এখন যানজটের কারণে উত্তরা যেতে কত সময় লাগবে তা বলা মুশকিল। হয়ত এ রকম একটি বাস্তবতার কথা যানজটে বসে অনেকেই কল্পনা করতেন। আহা! যদি এমন হতো। অল্প সময়ে পাড়ি দেয়া সম্ভব হতো দূরের পথ। রাস্তায় কোন ভোগান্তি থাকবে না; যা এখন বাস্তবের পথ ধরে হাঁটছে…।
সম্পূর্ণ এলিভেটেড মেট্রোরেলে প্রতি ঘণ্টায় উভয়দিকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত থাকবে ১৬টি স্টেশন। সাড়ে তিন মিনিট অন্তর অন্তর ট্রেন থামবে। থাকবে আধুনিক রেল স্টেশন। চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে রাস্তা থেকে স্টেশনে প্রবেশ করা যাবে। ‘র‌্যাপিড পাস’ কার্ড দিয়ে ট্রেনের ভাড়া পরিশোধ করতে পারবেন যাত্রীরা। আবার টিকেট কেটে ভ্রমণেরও সুযোগ থাকবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলবে প্ল্যাটফর্মের প্রবেশদ্বার। বিদ্যুতে চলবে দ্রুত গতিসম্পন্ন এ ট্রেন।
বর্তমান সময়ের সঙ্গে এ রকম চিন্তা মেলালে সত্যিই অবিশ্বাস্য মনে হয়। আসলে কি আমরা প্রযুক্তিনির্ভর, উন্নত ও বিশ্বমানের যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে শামিল হতে যাচ্ছি। হ্যাঁ, সত্যি। এখন বলতেই হবে, এটি এখন আর কল্পনার কিছু নয়। কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের অগ্রগতি ছাড়িয়েছে ১২ ভাগ। তবে সুবিধা ভোগ করতে আরও কিছুদিন কষ্ট সইতে হবে। ২০১৯ সালের শেষের দিকে নগরবাসীর জন্য মেট্রোরেলের শুভ সূচনা হবে। ২০৩৫ সালের মধ্যেই নগরবাসী উপভোগ করবে মেট্রোরেল প্রকল্পের সকল সুবিধা।
কিন্তু কেমন হবে আসলে এই মেট্রোরেল। প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত যাত্রাপথে সত্যিই কি একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে নগরবাসী। নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেট্রোরেল মানেই উন্নত ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা। বিশ্বের ঘনবসতি শহরগুলো মেট্রোরেল ও পাতালরেল নির্মাণের মধ্য দিয়ে যোগাযোগ খাতে বিপ্লব এনেছে; যা রাজধানী ঢাকাতেও সম্ভব। এছাড়া উড়াল সড়ক বা অন্য কোন উপায়ে যানজট পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হওয়া কঠিন বলেও মনে করেন তারা।
তারা বলছেন, যানজট এড়াতে মেট্রোরেলের বিকল্প নেই। প্রকল্পটিই হবে যানজট নিরসনে সবচেয়ে কার্যকর। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রাজধানীর যানজটের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) অনুযায়ী প্রস্তাবিত সব মেট্রোরেল নির্মাণের প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের।
ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন ॥ সত্যিই, এক অবিশ্বাস্য রকম বাস্তবতা চোখের সামনে দেখা যাবে। গত ২৫ বছরে রাজধানীর সড়কপথে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। বর্তমানে বাসে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করা যায়। অথচ বেশ কয়েকটি উড়াল সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পরিবহন। পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। প্রায় ১০ লাখ গাড়ির এই শহরের রাস্তা দিন দিন অচল হতে থাকবে; এমন ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। চলমান এই সঙ্কট সমাধানের একমাত্র রাস্তা মেট্রোরেল। সামনের দিনগুলোতে এছাড়া পরিস্থিতি উন্নতির দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেই। অর্থাৎ ২০১৯ সাল থেকেই দেখা যাবে প্রতি চার মিনিট পর পর ১ হাজার ৮০০ যাত্রী নিয়ে ছুটছে মেট্রোরেল। ঘণ্টায় চলাচল করবেন প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী।
চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানো যাবে ॥ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাস্তার মাঝ বরাবর উড়াল পথের (ভায়াডাক্ট) ওপর স্থাপিত ডবল রেললাইন থাকবে। ছয় মিটার চওড়া এই উড়ালপথে উভয়দিক থেকে ট্রেন চলাচল করতে পারবে। রাস্তার ওপর ঝুলন্ত স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, দৈর্ঘ্য হবে ১৭০ মিটার। নিচতলায় হবে টিকেট কাউন্টার ও স্বয়ংক্রিয় প্রবেশদ্বার। চলন্ত সিঁড়ির মাধ্যমে যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে পৌঁছবেন। ইলেক্ট্রিক ট্রেন চলবে বিদ্যুতের সাহায্যে। প্রতি সাড়ে তিন মিনিট পর ট্রেন স্টেশনে থামবে। সরকারের ১০টি অগ্রাধিকার প্রকল্পের একটি মেট্রোরেল। প্রকল্পের অগ্রগতিকে করতে মেট্রোরেল আইন-২০১৫ প্রণয়ন করেছে সরকার। ভূমি অধিগ্রহণে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে আইনে।
২৮ জোড়া ট্রেন চলবে ॥ পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবার পর মোট ২৮ জোড়া মেট্রোরেল চলাচল করবে রাজধানীতে। রাস্তার মাঝ বরাবর উপর দিয়ে উত্তরা থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত যাবে এই মেট্রোরেল। প্রতি মেট্রোরেলে ৬টি কোচ থাকবে। প্রতি স্কয়ার মিটারে ৮ জনের হিসাবে ব্যস্ততম সময়ে ১ হাজার ৮০০ যাত্রী চলাচল করতে পারবেন। মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা লাগবে; যার ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকাই দেবে জাইকা। বাকি ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা জোগাবে সরকার। তবে এ সুবিধার যাত্রা শুরু হতে আরও অপেক্ষা করতে হবে দুই বছরের বেশি সময়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের একটি অংশের যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে।
বুধবার মেট্রোরেল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে মেট্রোরেল দৃশ্যমান হবে। তিনি জানান, প্রকল্পের অগ্রগতি এখন পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ ভাগ। যথাসময়ে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার বিষয়েও আশাবাদী মন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে প্রথম পর্যায়ে আগারগাঁও পর্যন্ত এরপর ২০২০ সালে মতিঝিল পর্যন্ত শেষ হবে। ঢাকায় আরও দুটি মেট্রোরেল প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন জানিয়ে তিনি বলেন, এমআরটি লাইন-১ এবং ৫-এর জন্য জাপান সরকার অর্থ বরাদ্দ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। লোন চুক্তি হয়ে গেছে। ওই দুটি মেট্রোরেলের বড় অংশ আন্ডারগ্রাউন্ড হবে।
আট প্যাকেজের প্রকল্প ॥ রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত ও যানজটমুক্ত করতে আটটি প্যাকেজে ভাগ করে এগিয়ে চলছে গণপরিবহন আধুনিকায়ন প্রকল্প মেট্রোরেল লাইন-৬-এর কাজ। মেট্রোরেল প্রকল্প পরিচালনা করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এটি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি কোম্পানি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথম প্যাকেজে উত্তরা তৃতীয় পর্বে মেট্রোরেলের ডিপোর কাজ চলছে। দ্বিতীয় প্যাকেজটি হলো ডিপোর অবকাঠামো নির্মাণের কাজ। উত্তরা ডিপো থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার লম্বা মেট্রোরেল লাইনে স্টেশন থাকবে ১৬টি। এলাকা ভাগ করে ৪টি প্যাকেজের আওতায় এসব নির্মাণ কাজ সম্পাদন করা হবে। উত্তরা ডিপো থেকে পল্লবী পর্যন্ত ৩ নং প্যাকেজ। পল্লবী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৪নং প্যাকেজ। আগারগাঁও থেকে কাওরান বাজার ৫নং প্যাকেজ, কাওরান বাজার থেকে মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ৬নং প্যাকেজ। ৭ নং প্যাকেজ হলো বিদ্যুতের কাজ। ৮নং প্যাকেজের আওতায় সম্পন্ন করা হবে ট্রেন কেনার কাজ। ইতোমধ্যে ট্রেনের বগি কেনার বিষয়ে রেল মন্ত্রণালয় একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
এসব প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ১ নং প্যাকেজের উন্নয়ন কাজ চলমান। দুই, তিন, চার এবং আট নং প্যাকেজের কাজের ইভ্যালুয়েশনের শেষ পর্যায়ে। সাত নং প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি কিছুটা রয়েছে। ৫নং প্যাকেজ (আগারগাঁও থেকে কাওরান বাজার), ৬নং প্যাকেজ (কাওরান বাজার থেকে মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংক)- এই প্যাকেজ দুটি প্রি-কোয়ালিফিকেশন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আছে। মেট্রোরেল লাইন-৬-এর প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০১৪ সাল পর্যন্ত ধরা হলেও ২০১৯ সালে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করার টার্গেট নিয়ে কাজ চলছে।
রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে ও গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা-এসটিপি (স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান) গ্রহণ করে। এই পরিকল্পনার আওতায় ৩টি রেলভিত্তিক ও ৩টি বাসভিত্তিক গণপরিবহন রুটের সুপারিশ করা হয়। বিগত ২০০৯-১০ সালে ঢাকা শহরে একটি প্রাথমিক সমীক্ষা চালিয়ে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (জাইকা) চাহিদার ভিত্তিতে মেট্রো লাইন-৬-এর সুপারিশ করে।
জাইকার সুপারিশের আলোকে ২০১২ সালে এমআরটি লাইন-৬ বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয় সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মেট্রোরেল প্রকল্পের বেসিক ডিজাইন সম্পন্ন হয় ২০১৪ সালে। এরপর ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘মেট্রোরেল বিল ২০১৫’ পাস হয়। ২০১৬ সালের ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেল লাইন-৬ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন।
উত্তরায় রাজউকের প্রায় ৫৯ একর জমিতে মেট্রোরেলের ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ চলছে। ৫৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজ পেয়েছে টোকিং কনস্ট্রাকশন। তাদেরই এদেশীয় সহযোগী সিনাম ইঞ্জিনিয়ারিং। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৮ সালে শেষ হবে ডিপো নির্মাণের কাজ। একই সময়ে চলবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল রুট নির্মাণের কাজ।
প্রথম প্রকল্পের রুট ॥ মেট্রোরেল লাইন-৬-এর রুট এলাইনমেন্ট হলো উত্তরা তৃতীয় পর্ব-পল্লবী-রোকেয়া সরণির পশ্চিম পাশ দিয়ে খামারবাড়ি হয়ে ফার্মগেট-হোটেল সোনারগাঁ-শাহবাগ-টিএসসি-দোয়েলচত্বর-প্রেসক্লাব-বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত। ১৬টি স্টেশন হচ্ছে- উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, দক্ষিণ পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, শাহবাগ, টিএসসি, প্রেসক্লাব ও মতিঝিল।
যাত্রা শুরু ॥ যানজট কমবে। বদলে যাবে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের চিত্র। উন্নত দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মেলাবে বাংলাদেশ। সেই স্বপ্নের বুনন শুরু হয়েছে উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায়। এছাড়া আশপাশজুড়ে প্রকল্পের কাজ এখন দৃশ্যমান। রড দিয়ে পিলারের খাঁচা তৈরি তেমনি বোরিংয়েরও কাজ চলমান। যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে। বিশাল এলাকাজুড়ে চলছে কর্মযজ্ঞ।
রাজধানীর উত্তরায় দিয়াবাড়ি খালের দুই পাশে বিশাল জমি। এই এলাকায় খালের ওপর সেতু নির্মাণ হয়েছে। এর উত্তর পাশে কয়েকদিন ধরে জোরেশোরে চলছে নির্মাণ কাজ। খালের দু’পাশে মাটি ভরাটের পর সমান করা হচ্ছে। ডিপো স্থাপনের কাজ জোরেশোরে এগিয়ে চলছে। এখান থেকেই ২০২০ সালে চলবে দেশের প্রথম মেট্রোরেল। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় সয়েল টেস্টের কাজও এগিয়ে চলছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মেট্রোরেল রুট-৬ এর পাশাপাশি আরও দুটি রুট নির্মাণের প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মেট্রোরেল রুট-১ (এমআরটি-১) হচ্ছে গাজীপুর থেকে ঝিলমিল প্রকল্প পর্যন্ত ৪২ কিমি দীর্ঘ। প্রথম পর্যায়ে এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর এবং খিলক্ষেত হতে পূর্বাচল পর্যন্ত প্রায় ২৭ কি.মিটারের কাজ করা হবে। এর মধ্যে প্রায় ১০ কিমি হবে আন্ডারগ্রাউন্ড। যদিও এ দুটি প্রকল্পের কাজ পরিকল্পনায় রয়েছে, অগ্রগতি কম।
সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, মহানগরীর পূর্ব-পশ্চিমে সংযোগ বাড়াতে চূড়ান্ত করা হয়েছে মেট্রোরেল-৫ (এমআরটি-৫) এর রুট। রুটটি নারায়ণগঞ্জের ভুলতা থেকে গাবতলী পর্যন্ত ৩৫ কিমি দীর্ঘ। প্রাথমিক পর্যায়ে ভাটারা থেকে গাবতলী-হেমায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিমি কাজ করা হবে। এর মধ্যে ৬ কিমি আন্ডারগ্রাউন্ড। ইতোমধ্যে জাইকা মেট্রোরেল রুট-১ ও রুট-৫ নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে।
গণপরিবহন অবকাঠামো নির্মাণ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামছুল হক বলেন, ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে সবচেয়ে সফল ভূমিকা রাখবে মেট্রোরেল। ফ্লাইওভার পৃথিবীর কোন দেশে যানজট দূর করতে পারেনি। ঢাকায়ও পারবে না। ফ্লাইওভারের সুফল স্বল্পমেয়াদী। মেট্রোরেলের সুফল দীর্ঘমেয়াদী। যাদের গাড়ি আছে, শুধু তারাই ফ্লাইওভারের সুফলভোগী। মেট্রোরেল মানেই গণপরিবহন। এর সুফল পাবেন সাধারণ মানুষ।
ঋণচুক্তি স্বাক্ষর ॥ মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬ নির্মাণের জন্য তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের একটি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে ইতালিয়ান দুটি কোম্পানির এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে এ চুক্তি হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড এবং সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনের সিপি-২ চুক্তি হয়। এছাড়া আলাদাভাবে ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে সিপি-৩ ও ৪ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 109 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ