২০৪০-এ এশিয়ার সুপারপাওয়ার জাপান!

Print

২০৪০ সালে পূর্ব এশিয়ার নেতৃত্ব দেবে জাপান। বিজনেস ইনসাইডারে জর্জ ফ্রিডম্যান ও জ্যাকব সাপিরো তাদের প্রতিবেদনে এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তাদের দাবি প্রমাণ করার জন্য তারা যুক্তিযুক্ত কারণও উপস্থাপন করেছেন। জর্জ ফ্রিডম্যান ও জ্যাকব সাপিরো দুইজনই আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক।
সারা বিশ্ব যেখানে এশিয়ার সুপারপাওয়ার হিসেবে চীনকে মনে করে সেখানে এই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যিই বিস্ময়কর। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানকে কোণঠাসা করার জন্য যে নীতি যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছিল তার মধ্যেই জাপানের শক্তি জেগে ওঠা সহজ কথা নয়। জাপান যাতে ফের শক্তি অর্জন করতে না পারে সেজন্য জাপানের সামরিক শক্তি বাড়তে দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে চীনে সুপারপাওয়ার হয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু এই দুই আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক দিচ্ছেন ভিন্ন তথ্য। তাদের মতে চীনের জন্য ভবিষ্যতে গুরুতর সমস্যা অপেক্ষা করছে।

জাপানের জনসংখ্যা চীনের দশ ভাগের এক ভাগ। চীনের তুলনায় জাপানের ঋণ বেশি। একটি দেশকে সুপারপাওয়ার হতে হলে অবশ্যই তাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে। চীন ও জাপান যথাক্রমে বিশ্বের দ্বিতীয় ও তৃতীয় অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ। কেন এই দুই বিশ্লেষক মনে করছেন জাপান ভবিষ্যতের সুপারপাওয়ার তা দেখা যাক।
চীনের অর্থনীতি : ২০১৫ সালের চীনের বার্ষিক উৎপাদনের একটি মানচিত্র দেওয়া হলো। অঞ্চলভেদে ভাগ করা হয়েছে এখানে। চীনের পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে এই মানচিত্র নেওয়া হয়। মানচিত্রে চীনের অঞ্চলগুলোতে বার্ষিক উৎপাদনের পরিমাণ দেখানো হয়েছে। প্রচুর পার্থক্য দেখা যাচ্ছে এখানে। এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলের উৎপাদনের পরিমাণে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। চীনের অর্থনীতি এখনও যে দুর্বল তা বোঝা যায় এর মাধ্যমে। চীনের অধকাংশ অঞ্চল ভারী শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।
দারিদ্র্য চীনের বড় দুর্বলতা : চীনের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। ১৯৮১ সালে চীনের এক বিলিওন মানুষ ৩.১০ মার্কিন ডলার প্রতিদিন আয় করতো। ২০১০ সালে এই মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬০ বিলিওনে। চীনে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত এলাকার অধিকাংশই উপকূল ঘেঁষে, বাকি অংশের মানুষ চরম দরিদ্র।
চীনের বিশাল জনসংখ্যা : চীন জনবহুল একটি রাষ্ট্র এবং বিশ্বে তার অবস্থান চতুর্থ। জনসংখ্যা একটি দেশের জন্য শক্তি। সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই। কিন্তু বিশাল আকারের এ দেশ এবং অতিরিক্ত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে চীনকে খরচ করতে হচ্ছে বেশি। চীন স্থলে শক্তিশালী কিন্তু জলপথে নয়।
জাপানের অর্থনীতি : চার দ্বীপ নিয়ে জাপানের অবস্থান। কিউশু, শিকোকু, হংসু ও হোক্কাইডো। হংসু দ্বীপের জাপানের অর্থনীতিতে অবদান ৮৭%। শহরের মধ্যে টোকিও সবচেয়ে বেশি জিডিপিতে অবদান রাখছে। বিশ্বের যে কোনো শহরের থেকে টোকিওর জিডিপি বেশি, যা ১.৪৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জাপানের সুবিধা : জাপানের ১.৩ বিলিওন জনতার মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন হয়েছে। সমুদ্রে জাপানের প্রভাবও রয়েছে। চীনের মতো জাপানে শুধু নির্দিষ্ট এলাকা থেকে উৎপাদন বেশি হয় না। সব এলাকা থেকে অবদান এক।
জাপানের চ্যালেঞ্জ : জাপানের অর্থনীতি আমদানির ওপর নির্ভন করে। বিশেষ করে কাঁচামাল ও কৃষিপণ্য আমদানি করতে হয়। শক্তিও আমদানি করতে হয় জাপানকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান সক্রিয় হয়েছিল তেলের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ টিকিয়ে রাখার জন্য। ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর জাপান ৮০ শতাংশ শক্তি আমদানি করেছিল।
জাপানের সুযোগ : জাপান উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা, স্বয়ংক্রিয়তা ও রোবট প্রযুক্তিতে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করে। জাপানিরা খুব একটা বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের না। যা তাদের অভিবাসননীতিতে প্রভাব ফেলে। জাপানের কোনো শত্রু নেই। এটি একটি দ্বীপরাষ্ট্র। কোনো বিপ্লব ছাড়াই খুব দ্রুত জাপান অর্থনীতিতে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। জাপানের শুধু কোনো সামরিকবাহিনী নেই। যার মাধ্যমে তার উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারবে।
যদিও চীন এখন সবচেয়ে শক্তিশালী। এখানে আসলে চীনের দুর্বলতাকে তুলে ধরা হলো। যা ভবিষ্যতে তাদের সামনে এগিয়ে যেতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 199 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ