৩৩ ক্রেডিট বাতিলের দাবিতে রুয়েটে তৃতীয় দিনেও আন্দোলন চলমান, টানটান উত্তেজনা

Print

আহমেদ ফরিদ, রাবি প্রতিনিধি: ৩৩ ক্রেডিট বাতিলের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো সোমবারও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ (১৪ ও ১৫ সিরিজ) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এ দাবিতে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করে আসছে।

এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিভিন্ন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তবে প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি উল্লেখ করে বলেন, আমরা ৩৩ ক্রেডিট বাতিল চাই। বাতিল করে আগের ক্যারি অন সিস্টেমে ফেরত যেতে চাই। আগের সিস্টেমে কারো কোনো ব্যাক লক থাকলে পরের বছর সুপার লক সিস্টেমে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ ছিলো। এবং পরের বছর পরীক্ষা দিয়ে সেটা কাভার করা যেতো। বাংলাদেশের সকল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পদ্ধতিটাই প্রচলিত আছে। কিন্তু বর্তমানে রুয়েটে এক বছরে ৩৩ ক্রেডিট না তুলতে পারলে তাদেরকে ফেল করিয়ে দেওয়া হয়। বলা যায়, আমাদের ওপর এক্সপেরিমেন্ট চালানো হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, আজ আমরা শেখ হাসিনা হলের সামনে অবস্থান নিয়েছি। সেলিম হলের সামনে সকালে শিক্ষকরা আনসারদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের গায়ে হাত তুলেছে। যারা আন্দোলন করছে তাদেরকে হুমকি দিয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সেই সঙ্গে তাদের ওপর হামলাকারীদের বিচার চায় বলেও দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

শেখ হাসিনা হলের আন্দোলনকারী ১৪ সিরিজের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সকাল ৮টার দিকে শিক্ষকরা এসে আমাদের মাইক দিয়ে ডাকে ক্লাসে যাওয়ার জন্য। কিন্ত আমরা ক্লাসে যেতে রাজি না হলে তারা আমাদের হুমকি দেয়। এসময় আমাদের ভিসি স্যার হুমকি দিয়ে বলেন, তোমাদের সামনে দুইটা অপশন, হয় তোমরা ক্লাসে যাবা নয়তো তোমাদের অনির্দিষ্টকালীন ছুটি দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের বেসমেট বন্ধুরা মিছিল নিয়ে আমাদের হলের দিকে আসছিলো, কারণ আমাদের হল থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছিলো না। তখন আমরা সব মেয়ে হল থেকে বের হয়ে মিছিলে গেছি। আমরা সেলিম হলের মোড়ে যাওয়া মাত্রই, বিপরীত দিক থেকে স্যাররা এসে আমাদের চিহ্নিত করার জন্য আমাদের ফটো তুলতে আর ভিডিও করতে থাকে। আমাদেরকে বহিষ্কার করা হবে বলেও হুমকি দেন তারা। এসময় স্যাররা শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছে। আর আমাদের মেয়েদের জোর করে হলে ঢুকিয়েছে। আমাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বলেছে, যদি কেউ হল থেকে বাইরে যাও তবে তার আবাসিকতা বাতিল করা হবে। এমনকি আমাদের বাবা-মার কাছে চিঠি পাঠিয়ে ডাকা হবে। আমরা যেনো বের হতে না পারি সেজন্য গেট তালাবদ্ধ করা হয়। আমরা চাইছিলাম আমাদের বন্ধুরা বাইরে স্লোগান দেবে আর আমরা ছাদে। কিন্তু আমাদের ছাদে যেতে দেওয়া হয়নি। বারবার হেনস্তা করা হয় আমাদের।

এ বিষয়ে জানতে রুয়েটের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জালালউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে আন্দোলন করছে। তবে তাদের ওপর হাত দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। কোনো শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর কাধে হাত রেখে বলে ক্লাসে যাও, আর সেটাকে যদি মারা বলা হয় তা দুঃখজনক।’

জালালউদ্দিন আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হবে এখনো তা পরিষ্কার নয়। এটা প্রশাসনিক বিষয়। এ নিয়ে প্রশাসনে এখানো আলোচনা চলছে। আলোচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে পরে সেটা জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 123 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ