৩ দেশে ফেসবুক নিষিদ্ধ

Print

‘ফেসবুক হচ্ছে প্রত্যেকের কণ্ঠস্বর। যখন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ও ভিন্ন ভিন্ন মতের সব মানুষ তাদের নিজস্ব চিন্তা ও অভিজ্ঞতার কথা বলার সুযোগ পাবে, আমরা বিশ্বাস করি, পৃথিবীটা তখনই অনন্য হবে। আমরা হলাম এক বিশ্ব সম্প্রদায়।’ এ কথা মার্ক জাকারবার্গের। ফেসবুকের এই সহপ্রতিষ্ঠাতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি নিয়ে এক পোস্টে গত ১৩ মে এ কথা বলেন। তিনি তার পরিচিতিতে (ইনট্রো) লিখেছেন, ‘বিশ্বকে আরও উন্মুক্ত ও সংযুক্ত করছি।’ কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক ব্রিটিশ প্রকাশনা সংস্থা ইনডেক্স অন সেনসরশিপ জানিয়েছে, অন্তত তিনটা দেশে ফেসবুক সরকারিভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। দেশগুলো হলো : চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়া। তিন দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় দেড়শ কোটি। আর গত বছরের শেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৮৬ কোটির কিছু বেশি। ইনডেক্স অন সেনসরশিপের প্রতিবেদনে চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ায় ফেসবুক নিষিদ্ধ থাকার বিষয়ে যা বলা হয়েছে, এখানে তা তুলে ধরা হলো।
চীন : সেনসরশিপ ও নজরদারির জন্য আস্ত একটা প্রকল্পই রয়েছে চীন সরকারের। ওই প্রকল্পের নাম দ্য গ্রেট ফায়ারওয়াল অব চায়না। এই দেয়ালের মূল লক্ষ্যই ফেসবুককে ‘না’ করা।

চীন প্রথমবারের মতো ফেসবুক বন্ধ করে ২০০৯ সালের জুলাই মাসে। তখন ‘উরুমচি দাঙ্গা’ হয়েছিল। দেশটির সরকার ধারণা করে, ওই দাঙ্গার আগে জিনজিয়াংয়ের অ্যাকটিভিস্টরা ফেসবুক ব্যবহার করেই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। ফেসবুকেই তারা দাঙ্গার পরিকল্পনা ও ছক কষেছিল। দাঙ্গায় অন্তত ১৯৭ জন নিহত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে ফেসুবক বন্ধ করে দেয় চীন সরকার। ইন্টারনেটের ওপর বাড়তি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারিও বাড়িয়ে দেয়। ২০১৩ সালে সীমিত আকারে ফেসবুকের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল চীন। তবে তা ছিল কৌশলগত অবস্থান। সাংহাইয়ে মাত্র ১৭ বর্গমাইলের মুক্তবাণিজ্য এলাকায় ফেসবুক চালু রাখা হয়। যেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সেখানে গিয়ে অসুবিধায় না পড়েন।
ইরান : ইরানে সাধারণ জনগণের জন্য ফেসবুক নিষিদ্ধ। তবে রাজনৈতিক নেতাদের ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির নিজের ভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্ট আছে। ২০০৯ সালে ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনের সময়ই প্রথম সেখানে ফেসবুক নিষিদ্ধ হয়।
উত্তর কোরিয়া : বিদেশি পর্যটকদের জন্য থ্রিজি নেটওয়ার্ক রয়েছে। কিন্তু সাধারণ জনগণ ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ পায় না। ফেসবুক সেখানে পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এমনকি নেতা কিম জং উনেরও কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 116 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ