৪৭তম বছরে পদার্পন করলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Print


আরিফুল ইসলাম আরিফ,জাবি প্রতিনিধি:
দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলে খ্যাত, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। দিবসটি উপলক্ষ্যে নানামুখী উৎসব আর অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
১৯৭০ সালের এইদিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর রিয়ার এডমিরাল এস.এম. আহসান ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম আইন’ এর অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্বোধন করেন। পরে স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের এক আদেশ বলে মুসলিম শব্দটি উঠিয়ে দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে একটি নতুন মাত্রা এনে দেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উত্থান-পতনের নানা পর্ব পার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। অনিন্দ্য সুন্দর এই প্রতিষ্ঠানে পথচলা থেমে থাকেনি কখনো । শত প্রতিকুলতার মাঝেও এগিয়ে গেছে সামনের দিকে। চেষ্টা করে চলেছে সুন্দর আগামীর একেকটি কারিগর নির্মাণে। সেইসাথে হয়ে উঠছে আস্থার প্রতীক।
প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিশ^বিদ্যালয় দিবস পালন করা হতো না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০০১ সাল থেকে এ দিনটিকে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল বায়েস ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ পালনের প্রচলন শুরু করেন। তবে এর আগে ১৯৯৬ সালের ১২ জানুয়ারি ২৫ বছরপূর্তি উৎসব পালন করেছেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী ।
পূর্ব বাংলায় একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবি শুরু হয় ইংরেজ শাসনামল থেকেই। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে পূর্ব বাংলার মানুষের দাবির মুখে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইংরেজ সরকার ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট ভারত- পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করলে পূর্ব বাংলার নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান। ১৯২১ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় এবং কৃষি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলেও পূর্ব পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার কাছাকাছি একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে গাজীপুরের সালনায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তার অব্যবহিত পরই পূর্বক্তো ভিত্তিপ্রস্তর বাতিল করে নতুন স্থান নির্বাচন করা হয় ঢাকা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এশিয়ান হাইওয়ের পাশে সাভার এলাকায়। এর দক্ষিণ পাশে রয়েছে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, উত্তর পাশে সাভার সেনানিবাস ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং বিপরীত পাশে রয়েছে ডেইরি ফার্ম ও বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট।
১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান সরকার এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রাখে ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন রসায়নবিদ অধ্যাপক ড. মফিজউদ্দিন আহমদ। তবে এর আগেই প্রথম ব্যাচে ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ৪ জানুয়ারি অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত ও পরিসংখ্যান বিভাগে ক্লাস শুরু হয়। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট পাস করে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়’ নাম রাখা হয়।
চারটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ৪৬ বছরে আজকের এই দিনে ৩৩টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। রয়েছে আটটি করে ছাত্র ও ছাত্রী হল । বর্তমানে শিক্ষকের সংখ্যা ৬৮১, অফিসার প্রায় ৩০০ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী রয়েছে প্রায় ১৫০০ জন। বিশ^বিদ্যালয়টির প্রথম সমাবর্তনে নিবন্ধনকৃত গ্রাজুয়েটের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৪৮৪, দ্বিতীয় সমাবর্তনে ৫ হাজার ১২, তৃতীয় সমাবর্তনে ৪ হাজার ৩৮৩, চতুর্থ সমাবর্তনে ৩ হাজার ৮৭৪ এবং পঞ্চম সমাবর্তনে প্রায় ৯ হাজার গ্রাজুয়েট, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তৎপর অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে গ্রাজুয়েট ডিগ্রিপ্রাপ্তরা এ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ লাভ করেন। অ্যালামনাসদের আগমনে পুনর্মিলনী উৎসব পূর্ণতা লাভ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উন্নত, এ্যালামনাইদের মধ্যে একতা, সৌহার্দ্য, ভাতৃত্ববোধ স্থাপন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সহযোগীতা করার জন্যই ২০১১ সালে জাবি এ্যালামনাই এ্যসোসিয়শন গঠন করা হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের অনুষ্ঠানে দ্বিতীয়বারের মতো আগামী ১৩ই জানুয়ারি এ্যালামনাই ডে মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এবারও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক উপাচার্য এবং পিএসসির সদস্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির। এবারের এ্যালামনাই ডে তে ২য় ব্যাচে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। জাতীয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন করে দুইদিনব্যাপী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের উৎসবের উদ্বোধন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।
অনুষ্ঠান সূচি তুলে ধরা হলঃ
১২ই জানুয়ারী (বৃহস্পতিবার): সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন এবং বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০১৭ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা, সকাল ১১ টায় জহির রায়হান মিলনায়তনে সিনেমা প্রদর্শনী, বিকাল সাড়ে ৩টায় মুক্তমঞ্চে পুতুল নাচ, সন্ধ্যা ৫ টায় নাটক ও নাট্যতত্ব বিভাগের উদ্যোগে নাটক এবং সন্ধ্যা ৭টায় ফানুস উড়ানো।
১৩ই জানুয়ারী (শুক্রবার) : সকাল সাড়ে ৯টায় বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ চত্বর থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা, সাড়ে ১০ টায় মুক্তমঞ্চে ২য় ব্যাচে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, সাড়ে ১১ টায় আলোচনা সভা, দপুর ১ টায় মধ্যাহ্নভোজ, আড়াইটায় স্মৃতিচারণ, বিকাল ৫ টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যা ৭টায় র‌্যাফেল ড্র।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 178 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ