৫ বছরের জেল হতে পারে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিনের

Print

শিলং আদালতের একাধিক আইনজীবী জানিয়েছেন, ভারতের দ- বিধিতে অনুপ্রবেশের মামলায় সালাহ উদ্দিন আহমেদ দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সাজা এবং অর্থদ-ও হতে পারে।
শিলং আদালতের একটি সূত্র জানিয়েছেন, ভারতীয় দ-বিধির ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট-৪৬’ তার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশের উপ-পরিদর্শক পি লামারে, পাঁচজন পুলিশ ও সালাহ উদ্দিনকে পর্যবেক্ষণকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত ছয়জন চিকিৎসকসহ চার্জশিটভুক্ত ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। এখন চুড়ান্ত পর্যায়ের শুনানি চলছে। খুব শিগগিরই শিলংয়ের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মুখ্য বিচারক কে এম লিংদো নংব্রি এ মামলার রায় দেবেন। এ মামলার রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হলে তবেই দেশে ফিরতে পারবেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। আর দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- হতে পারে।

শিলংয়ে অনুপ্রবেশের মামলা পরিচালনাকারী কয়েকজন আইনজীবী বলেন, ভারতের ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী, বিনা পাসপোর্টে অনুপ্রবেশের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বনিম্ন কয়েক দিন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদ- হয়ে থাকে। বেশির ভাগ মামলায় লঘু শাস্তি হয়েছে। শাস্তি ভোগের পর যথারীতি তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে সালাহউদ্দিন আহমেদ ব্যতিক্রম। কারণ শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন। এ কারণে তার পরিণতি অন্যদের মতো না-ও হতে পারে।
এ বিষয়ে সালাহ উদ্দিন আহমেরে এক আত্মীয় জানান, ‘তিনি (সালাহ উদ্দিন আহমেদ) স্ব-ইচ্ছায় ভারতে অনুপ্রবেশ করেনি- এ বিষয়টি আইনজীবীর মাধ্যমে আমরা উত্থাপন করেছি। মামলার চার্জশীটভুক্ত অন্যান্য সাক্ষী আদালতে যে সাক্ষ্য দিয়েছে, তা পজিটিভ হয়েছে। আমরা আশা করছি রায় আমাদের পক্ষে আসবে।’
এদিকে মামলা ও দেশে ফেরার বিষয়ে জিজ্ঞাস করলে সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার মামলার কার্যক্রম এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। এরপরই দেশে ফেরার বিষয়টি নির্ধারিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমার কিডনির সমস্যাটি জটিল হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছি। আশা করছি দু’একদিনের মধ্যে পেয়ে যাব। এরপর হারিয়ানার মেদান্তা হাসপাতালে কিডনির অস্ত্রপচার হবে। এরপর শিলংয়ে ফিরে মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকবো।’
উল্লেখ্য, প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর ২০১৫ সালের ১১ই মে ভারতের শিলংয়ে উদ্ধার হন সে সময়ের বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমেদ। পরে পুলিশ তাকে আটক করে মানসিক হাসপাতাল মীমহ্যানসে নিয়ে যায়। একদিন পর মীমহ্যানস থেকে আবার তাকে পাঠানো হয় সিভিল হাসপাতালে। ওই হাসপাতালের আন্ডার প্রিজনার সেলে (ইউটিপি) তাকে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। সিভিল হাসপাতালে বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় তাকে বিশেষায়িত হাসপাতাল নেগ্রিমসে এক সপ্তাহ ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। এরপর ৫ই জুন শিলংয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান সালাহ উদ্দিন আহমেদ। এরপর থেকে সালাহ উদ্দিন শিলংয়ের লাবান এলাকায় সানরাইজ গেস্টহাউসে অবস্থান করছেন।
গত বছর ১১ মার্চ আদালতের অনুমতি দিল্লির পার্শ্ববর্তী হারিয়ানার মেদান্তা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে তার ঘাড়ে একটি অস্ত্রোপাচারের পর ফের শিলংয়ে ফেরেন সালাহ উদ্দিন। শিলংয়ে উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জটিল রোগে ভূগছিলেন বিএনপির এই নেতা। সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশ মামলায় বিচারাধীন অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 157 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ