৫ হাজার সন্দেহভাজন জঙ্গির নাম, সারাদেশে গ্রেফতার ৭৭

Print

জঙ্গি সন্দেহে বাংলাদেশ পুলিশের তালিকায় উঠে গেছে ৫ হাজার জনের নাম। তাদের মধ্যে বিশেষ অভিযানে জেএমবিসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের ৭৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জেলা পুলিশ সুপারদেরকে সন্দেহভাজনদের আটকের নির্দেশ দেওয়ার পর ৯ মার্চ থেকে ১০দিনব্যাপী অভিযান শুরু করে পুলিশ।

বুধবার পর্যন্ত ৭৭ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি), নয়া জেএমবি, হিযবুত তাহরীর, শাহাদাত-ই আল হিকমাহ এবং আল্লাহর দলসহ আরও বেশকিছু জঙ্গি সংগঠনের সদস্য।
সাম্প্রতিক বেশকিছু জঙ্গি কর্মকা-ের পরপরই এই নির্দেশ পাঠানো হয়। এই জঙ্গি কার্যক্রমের মধ্যে একটি প্রিজন ভ্যান থেকে এক শীর্ষ জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাও উল্লেখযোগ্য।
বুধবার আলাপকালে পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা সকল পুলিশ সুপারকে এই জঙ্গিদের নামের তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছি এবং নিজ নিজ জেলায় বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, আগে গ্রেফতার করা জঙ্গিদের কাছ থেকে এবং পুলিশের গোয়েন্দা কার্যক্রম থেকে এই নামগুলো উঠে এসেছে। তারপর তারা এই তালিকা প্রস্তুত করেন। এই নামের তালিকায় কিছু ভুয়া এবং ছদ্মনাম থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ সুপাররা তদন্ত করে এসব নাম খতিয়ে দেখবেন।
এই তালিকা প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন সদর দপ্তরের এমন একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, তালিকায় সারাদেশে লুকিয়ে থাকা প্রায় ৫হাজার লোকের নাম রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের আরেকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গত ৭ মার্চ কুমিল্লা থেকে মাহমুদ হাসান এবং আহমেদ আজওয়াদ ইমতিয়াজ তালুকদার ওরফে অমিকে গ্রেফতার করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই দুই জঙ্গি জানায়, নয়া জেএমবির সদস্যরা বর্তমানে ঢাকা থেকে সরে গিয়ে বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় অবস্থান করছে এবং তারা চট্টগ্রামকে তাদের ‘রাজধানী’ হিসেবে বেছে নিয়েছে।
মার্চের ৬ তারিখ এই দুই সন্দেহভাজন জঙ্গি টঙ্গিতে চারটি প্রিজন ভ্যানের বহরের ওপর বোমা হামলা চালায়। এ সময়ে গাড়িটিতে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত হুজি জঙ্গি সংগঠনের প্রধান মুফতি হান্নানকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পুলিশের সন্দেহ, হান্নানকে উদ্ধার করার জন্যেই ওই হামলা চালানো হয়।
মনিরুজ্জামান জানান, এই দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করতে স্থানীয় মানুষ পুলিশক সাহায্য করেছে।
পুলিশ স্থানীয় জনগণ এবং থানার সমর্থনে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে যাতে করে কোন জঙ্গি প্রত্যন্ত এলাকায়ও আস্তানা গাড়তে না পারে। তিনি জানান, পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ ইউনিট মূলত জঙ্গিবাদের বিষয়টি দেখাশোনা করছে। সারাদেশে এই ইউনিটের অফিস না থাকায় প্রতি জেলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজস ইউনিটের কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করছেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 92 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ