৫, ৭ ও ১৩নং সংশোধনী বাতিল করতে পারলে হাইকোর্ট ১৬নং সংশোধনী বাতিল করতে পারবে না কেন?

Print
হাইকোর্ট কর্তৃক ষোড়শ সংশোধনী বাতিলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ দারুণ শোরগোল তুলেছে। এ সম্পর্কে গত রবিবার দৈনিক ‘ইনকিলাবের’ প্রথম পৃষ্ঠায় আমি একটি রাজনৈতিক ভাষ্য লিখেছি। সেটির শিরোনাম হলো ‘বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর আশঙ্কা।’ তারপরেও একই বিষয়ের ওপর আজ এই পোস্ট লিখতে বসেছি। কারণ, ওই সংবাদ ভাষ্যে সবগুলো পয়েন্ট ক্লিয়ার করা যায়নি এবং সব যুক্তিও পেশ করা হয়নি। আর করাটা সম্ভবও ছিল না। কারণ সংবাদ ভাষ্য বেশি বড় হলে পাঠকরা বিরক্তি বোধ করেন। তাই আজকের কলামে এ সম্পর্কে আরো দুটো কথা বলতে চাই। তার আগে ভূমিকা হিসেবে একটি কথা বলা দরকার। এই সরকার আগের টার্মে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী এনেছে। ওই সংশোধনীর অনেকগুলো অংশের সাথে আমরা একমত নই। তবুও যতক্ষণ সরকার আছে, যতক্ষণ সেই সংবিধান আছে ততক্ষণ সেগুলো মানতেই হবে। আজ হোক আর দুই দিন পরে হোক, যদি সংবিধানের ওইসব সংশোধনী অথবা অনুচ্ছেদ পুনরায় সংশোধিত হয় তাহলে একটি নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তখন আবার নতুন সংশোধনী মেনে চলতে হবে। মোট কথা, যখন আপনি লিখছেন তখন যে আইনকানুন দেশে চালু থাকবে সেটি আপনাকে মেনে চলতে হবে। পঞ্চদশ সংশোধনীর অনেকগুলো অনুচ্ছেদ আমি সমর্থন করি না। তৎসত্ত্বেও যতদিন সেগুলো বহাল আছে ততদিন আমাকে সেগুলো মেনে চলতেই হবে। পঞ্চদশ সংশোধনীতে অন্তত ৫১টি সংশোধনী আছে যেগুলোকে পরিবর্তন করা যাবে না। এই অনুচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, এমন কোনো আইন পাস করা যাবে না। সংবিধানের কোন কোন অনুচ্ছেদকে এই ধরনের প্রোটেকশন দেওয়া হয়েছে সেটি বিধৃত রয়েছে সংবিধানের ৭-খ অনুচ্ছেদে। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোনো পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।” এই পটভূমিতে গত ৫ মে হাইকোর্টের ৩ সদস্যের একটি বেঞ্চে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ঘোষিত হয়। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ঘোষিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আওয়ামী লীগ থেকে এই রায়ের বিরুদ্ধে শুরু হয় প্রচ- তর্জন-গর্জন। আর এই তর্জন-গর্জনের প্রকাশ ঘটে জাতীয় সংসদে। গত ৫ মে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আদালতের রায় শুনে আমি বিস্মিত হয়েছি। হাইকোর্টের বিচারপতিদের কাছে আজ আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি। অথচ আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলে অনেকে বিচারপতি হয়েছেন। শেখ সেলিম বলেন, সংবিধান বলে দিয়েছে, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক। আমরা জনগণের প্রতিনিধি। বিচারপতিদের মনগড়া রায় দেখে অবাক হয়েছি। এ রায় সংসদকে অকার্যকর করার শামিল। ১৯৭২-এর সংবিধানের দাঁড়ি, কমা বাতিল করার অধিকার কারও নেই। বিচারপতিরা যদি ভাবেন তারা আইনের ঊর্ধ্বে তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করবেন তারা। এই বিচারপতিদেরও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আপনারা কে কোথা থেকে এসে ওখানে বসেছেন তা জানা আছে। বলাবাহুল্য, জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় সদস্যরা সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদের বর্ম পরে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন। সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “সংসদের কার্যধারার বৈধতা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।” সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ বলে তারা হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতিদের বিরুদ্ধে তর্জন-গর্জন করেছেন। কিন্তু এসব করার আগে তারা জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ওপর একবারও কি চোখ বুলিয়েছিলেন? কারণ ওই কার্যপ্রণালি বিধির ২৭০ অনুচ্ছেদে ৫টি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে যেগুলো জানা থাকলে তারা এই ধরনের ওহভষধসসধঃড়ৎু বক্তৃতা করতে পারতেন না। কার্যপ্রণালি বিধির ২৭০ অনুচ্ছেদের ৫টি উপ-অনুচ্ছেদ নি¤œরূপ:- ২৭০। কোনো সদস্য বক্তৃতাকালে (১) বাংলাদেশের যে কোনো অংশের কোনো আইন-আদালতের বিচারাধীন কোনো বিষয় উল্লেখ করিবেন না; (৩) কোনো আলোচনা যথাযথ ভাষায় লিখিত বাস্তব প্রস্তাবভিত্তিক না হইলে রাষ্ট্রপতি বা সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারকের ব্যক্তিগত আচরণ সম্পর্কে কটাক্ষের সমতুল্য কোনো মন্তব্য করিবেন না; (৫) সংসদের পরিচালনা বা কার্যবাহ সম্পর্কে কোনো অপ্রীতিকর ভাষা ব্যবহার করিবেন না; (৬) কোনো আক্রমণাত্মক, কটু বা অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করিবেন না। (৯) কোনো বিতর্কের অসৌজন্যমূলকভাবে কোনো সদস্যের উল্লেখ করিবেন না এবং সংসদ-বিগর্হিত কোনো কথা বলার অনুমতি তাঁহাকে দেওয়া হইবে না। ॥ দুই ॥ শেখ সেলিম বলেছেন, ১৯৭২-এর সংবিধানের দাঁড়ি, কমা বাতিল করার অধিকার কারও নেই। কীভাবে তিনি এ কথা বলেন? তিনি তো একজন ঠবঃবৎধহ পার্লামেন্টারিয়ান। ৫ টার্মে বা তারও বেশি টার্মে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলুন, সংবিধানে সংশোধনী আনার ব্যবস্থা থাকে কেন? এই বাংলাদেশের সংবিধানেই এ পর্যন্ত ১৬টি সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের বেশ কয়েকটি ধারা বেশ কয়েকবার সংশোধিত হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়েছিল আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যদের দ্বারাই। এ কথা ঠিক, ১৯৭২ সালের সংবিধানে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন, তদন্ত চালানো এবং অপসারণের ব্যাপারে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছিল জাতীয় সংসদকে। ’৭২-এর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই ক্ষমতা পার্লামেন্ট থেকে সরিয়ে প্রেসিডেন্টের হাতে কে বা কারা দিয়েছিল? সেটি কি মার্শাল ল’? সেটি কি ১৫ আগস্টের পর খন্দকার মোশতাক? সেটি কি জেনারেল জিয়াউর রহমানের মিলিটারি শাসন? কোনোটাই নয়। সেটি করা হয়েছিল বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে। যখন শেখ মুজিব দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের তদন্ত ও অপসারণের ক্ষমতা ছিল পার্লামেন্টের। কিন্তু যখন শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা অর্থাৎ বাকশালী শাসন ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন তখন বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন এবং তাদের বিচার করার ক্ষমতা পার্লামেন্ট থেকে সরিয়ে প্রেসিডেন্টের হাতে দেওয়া হয়। কাজেই যখন আওয়ামী লীগের সদস্যরা বলেন যে ৭২-এর সংবিধানের দাঁড়ি কমা বা সেমিকোলন বদলানোর ক্ষমতা কারো নাই, তখন তারা নিজেরাই নিজেদের সাথে প্রবঞ্চনা করেন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ৭২-এর সংবিধানের খোলনলচেসহ সব কিছুই বদলে ফেলা হয়। পার্লামেন্টারি সিস্টেম হয়ে যায় প্রেসিডেন্সিয়াল। বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা হয়ে যায় এক দলীয় এবং সংসদীয় সরকার হয়ে যায় প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার। বহু দলীয় সংসদীয় ব্যবস্থা হয়ে যায় এক দলীয় প্রেসিডেন্টের শাসন। এখন আওয়ামী লীগের এমপি সাহেবরাই বলুন, জনপ্রতিনিধিরা প্রয়োজনীয় সংখ্যক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে শুধুমাত্র ৭২-এর সংবিধান নয়, যে কোনো সংবিধান সংশোধন করতে পারেন, যেটা করেছিলেন শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজনৈতিক সরকার। শেখ মুজিবের পর প্রেসিডেন্ট হন খন্দকার মোশতাক। তারপর প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম এবং তারপর জেনারেল জিয়াউর রহমান। জেনারেল জিয়ার আমলে ১৯৭৮ সালে চতুর্থ সংশোধনী বাতিল করে পঞ্চম সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তখনো দেশে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকারই বহাল ছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়ার আমলে একদলীয় সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বহুদলীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু সরকারের ধরন প্রেসিডেন্সিয়ালই রাখা হয়। প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার বহাল রাখা হলেও বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা শেখ মুজিবুর রহমানের আমলের মতো প্রেসিডেন্টের হাতে অর্থাৎ জিয়াউর রহমানের হাতে রাখা হয়নি। বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে। এই সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠিত হয়েছিল প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের পরবর্তী দুজন সিনিয়র মোস্ট বিচারপতির সমন্বয়ে। এগুলো করা হয় পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে। ॥ তিন ॥ বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত বিচারক হলেন বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। তিনি যখন হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন তখন তিনি এবং অপর একজন বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবিরের বেঞ্চ পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করেন। পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের সাথে সাথে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বিলুপ্ত হওয়ার কথা। কিন্তু বিচারপতি খায়রুল হক পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করা সত্ত্বেও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে বাতিলের বাইরে রেখে দেন এবং এই জুডিশিয়াল কাউন্সিল থেকে যায়। এরপর সপ্তম এবং ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল হয়। কিন্তু তারপরেও জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে বাতিল না করে সেটিকে রেখে দেওয়া হয়। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত নির্বাচনের আগে যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাস হয়। তখনও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল অক্ষত থাকে। একমাত্র ষোড়শ বা ১৬ নম্বর সংশোধনীতেই বিচারক অপসারণের ক্ষমতা বাতিল করে পার্লামেন্টের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এখন হাইকোর্ট সেই ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করেছে। এখন দেখা যাক সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে কিনা। ॥ চার ॥ জনাব ফখরুল ইমাম এমপি প্রশ্ন করেছেন, হাইকোর্টের এখতিয়ার কতটুকু? এটি তাদের জানার অধিকার আছে। হাইকোর্টের এখতিয়ার সম্পর্কে এমপি সাহেব জানবেন না কেন? পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করেছিল কে? সেটি তো ওই হাইকোর্ট। সপ্তম সংশোধনী বাতিল করেছিল কে? সেটিও তো ওই হাইকোর্টই। ত্রয়োদশ সংশোধনী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছিল কে? সেটিও তো ওই হাইকোর্টই। শুধু তাই নয়, হাইকোর্টের রায়েই মোশতাকের সরকার, বিচারপতি সায়েমের সরকার, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকার এবং প্রেসিডেন্ট এরশাদের সরকারও বাতিল হয়ে যায়। খায়রুল হক সাহেব এসব রায় দেন। হাইকোর্ট যদি এতগুলো সাংবিধানিক সংশোধনী বাতিল করতে পারে, তাহলে সেই হাইকোর্ট ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করতে পারবে না কেন? এসব প্রশ্ন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা ভেবে দেখেছেন বলে মনে হয় না। হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট, এক কথায় উচ্চ আদালতের এখতিয়ার কতটুকু, সেটি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ পড়লেই তারা বিলক্ষণ বুঝতে পারবেন। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার বর্ণনা করা হয়েছে। সব শেষে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেটা হলো, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের প্রধান যুক্তি। হাইকোর্টের ওই সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়েছে যে, ৬টি কারণে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রধান যুক্তি হলো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভ। সংবিধানের ৭-খ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক স্তম্ভ পরিবর্তনের এখতিয়ার জাতীয় সংসদেরও নেই। বর্তমান সংবিধানের ৭-খ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোনো পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।” এই অনুচ্ছেদ মোতাবেক অন্তত ৫১টি অনুচ্ছেদ (উপ-অনুচ্ছেদ গণনার মধ্যে ধরলে সংখ্যাটি বাড়তেও পারে) হলো সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, যেগুলো পরিবর্তনযোগ্য নয়। এই আইনটি বিএনপি-জামায়াত সরকার বানায়নি। বানিয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সরকার। এই ৫১টি অনুচ্ছেদের বলে বলীয়ান হয়েই সেদিন হাইকোর্ট বলেছে যে, ষোড়শ সংশোধনী সংবিধান পরিপন্থী। পক্ষান্তরে আইনমন্ত্রী বলেছেন যে, হাইকোর্টের রায় সংবিধান পরিপন্থী। এখন দেখা যাক, কার বক্তব্য সঠিক হয়Ñ হাইকোর্টের, না সরকারের? আমরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের দিকে তাকিয়ে থাকলাম

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 37 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ