৭২টি কোম্পানি ও ফান্ডের দাম অভিহিত মূল্যের নিচে

Print
অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালুর নিচে নেমে গেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ৪১ কোম্পানির শেয়ার। আর তালিকাভুক্ত ৩৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩১টিরই দাম রয়েছে অভিহিত মূল্যের নিচে। কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড মিলিয়ে এ সংখ্যা ৭২। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত ৩২৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৭২টির বাজারমূল্য এখন ১০ টাকার কম। ডিএসইর ওয়েবসাইট থেকেই এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিএসইর সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবারের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দরপতনে বাজারে শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে যাওয়ায় তালিকায় সর্বোচ্চসংখ্যক কোম্পানি রয়েছে বস্ত্র খাতের। বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত ৪৪ কোম্পানির মধ্যে ১০টিরই শেয়ারের দাম ১০ টাকার নিচে রয়েছে।
বস্ত্র খাতের পর অভিহিত মূল্যের নিচে শেয়ারের দাম নেমে আসার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক। তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ৮টি ব্যাংকের শেয়ারের দাম ১০ টাকার নিচে রয়েছে। এর বাইরে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭টি, খাদ্য খাতের ৬টি, বিমা, ওষুধ ও রসায়ন এবং ভ্রমণ ও বিনোদন খাতের ২টি করে মোট ৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে এসেছে। এ ছাড়া সিরামিকস, প্রকৌশল, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং খাতের একটি করে মোট চারটি কোম্পানির শেয়ার ১০ টাকার কমে লেনদেন হচ্ছে।
বাজারের এ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বাণিজ্য অনুষদের ডিন মোহাম্মদ মুসা প্রথম আলোকে বলেন, এতগুলো কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের দাম অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে যাওয়াটা মোটেই সুস্থ বাজারের লক্ষণ নয়। বাজারের এ অবস্থা থেকে আমরা যে বার্তাটি বুঝতে পারি তা হলো এখনকার বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। ফলে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নতুন করে খুব একটা বিনিয়োগ আসছে না। আবার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।
বস্ত্র খাতের যে ১০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে অভিহিত মূল্যের নিচে অবস্থান করছে, সেগুলো হলো সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, ডান্ডি ডায়িং, ডেলটা স্পিনিং, দুলামিয়া কটন, ফ্যামিলিটেক্স, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস, ম্যাকসন্স স্পিনিং, মেট্রো স্পিনিং, সোনারগাঁও টেক্সটাইল ও তুংহাই নিটিং।
বস্ত্র খাতের সর্বাধিক সংখ্যক কোম্পানির শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের নিচে চলে আসার বিষয়ে মোহাম্মদ মুসা বলেন, ‘একদিকে আমরা দেখছি বস্ত্র খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ভালো। অথচ বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস আগের বছরের চেয়ে ভালো নয়। এ ছাড়া এ খাতে বাজে কিছু কোম্পানিও রয়েছে, যার প্রভাব গিয়ে পড়েছে অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারের দামের ওপর।’
ব্যাংক খাতের যে আটটি কোম্পানির শেয়ারের দাম ১০ টাকা নিচে নেমে গেছে সেগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, উল্লিখিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে মার্কেন্টাইল, ন্যাশনাল ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর নানা অনিয়ম, আর্থিক ও পরিচালনাগত দুর্বলতার কারণেই পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের যে ছয়টি কোম্পানির শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে গেছে সেগুলো হলো বিচ হ্যাচারি, ফাইন ফুডস, মেঘনা কনডেন্স মিল্ক, মেঘনা পেট, শ্যামপুর সুগার ও ঝিল বাংলা। এই ছয় কোম্পানির মধ্যে বিচ হ্যাচারি বাদে বাকি সব দুর্বল মৌলভিত্তি তথা ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানি।
খাতভিত্তিক অবস্থানের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ড। তালিকাভুক্ত ৩৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩১টিরই প্রতিটি ইউনিটের বাজারমূল্য নেমে এসেছে ১০ টাকার নিচে। এর মধ্যে কোনো কোনোটির বাজারমূল্য আবার ওই ফান্ডের প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভির চেয়েও কম।
মিউচুয়াল ফান্ডের এ দুরবস্থা সম্পর্কে মোহাম্মদ মুসা বলেন, নানা কারণে মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতি এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোনো আগ্রহ নেই। কারণ, ফান্ডগুলোর সম্পদ ও বিনিয়োগ নিয়ে একধরনের অস্বচ্ছতা রয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে গঠিত এসব ফান্ডের ব্যবস্থাপকেরা কোথায় বিনিয়োগ করছেন, তার কোনো স্বচ্ছতা নেই।
খাতভিত্তিক চিত্র
খাত তালিকাভুক্ত অভিহিত মূল্যের নিচে
মিউচুয়াল ফান্ড ৩৬ ৩১
বস্ত্র খাত ৪৪ ১০
ব্যাংক ৩০ ৮
খাদ্য ১৮ ৬
বিমা ৪৭ ২
ওষুধ ও রসায়ন ২৭ ২
ভ্রমণ ও বিনোদন ৪ ২

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 37 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ