৯৩ বছর ধরে বিনা মূল্যে দুপুরের খাবার

Print

হাড়ভাঙা খাটুনির পরও অনেকেরই দুই বেলা জোটে না পেটভরা খাবার। এমন মানুষদের জন্যই ৯৩ বছর ধরে বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করে চলেছে পুরান ঢাকার নবাবপুরের মদনমোহন অন্নছত্র ট্রাস্ট। প্রতিদিনই দুই থেকে আড়াইশো মানুষের জন্য রান্না হয় খাবার। এমনকি বিশেষ দিনে থাকে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও।

নামটা আহ্লাদি। কিন্তু ছোটবেলা থেকে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটার অভাব তার নাম আহ্লাদ। বাবা মারা গেছে জন্মের পরই। অন্য একজনকে বিয়ে করে মাও চলে গেছে আরেক জায়গায়। প্রতিদিন তাই ঠিকমতো খাবারও জোটে না আহ্লাদির।

বর্ণিল রাজধানীতেও যাদের জীবন আহ্লাদির মতো সাদাকালো তাদের জন্য প্রশান্তির দুয়ার খুলে দিয়েছে পুরান ঢাকার মদনমোহন অন্নছত্র ট্রাস্ট। আহ্লাদির সাথে অনেকেই তাই প্রতিদিন জড়ো হন এখানে।

১৯২৪ সালে ঢাকায় দেখা দিয়েছিলো ভয়াবহ খাদ্যাভাব। স্থানীয়দের কষ্ট দেখে মর্মাহত হন নবাবপুরের জমিদার মদনমোহন পালের তিন ছেলে রজনীকান্ত, মুরলীমোহন আর প্রিয়নাথ। ক্ষুধার্তদের বিনামূল্যে খাবার দিতে বাবার নামে খুলেন একটি অন্নছত্র।

১২৫ জন নিয়ে শুরু হলেও এখন দুই থেকে আড়াইশ লোকের জন্য খাবার রান্না হয়। তালিকায় নেই আহামরি কোন পদের খাবার। কিন্তু ক্ষুধার রাজ্যে এই ডাল-ভাতই বা মেলে কোথায়?

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একেবারে বিনামূল্যে পেটপুরে খাওয়ানোর এ আয়োজনে সামিল হতে পারেন যে কেউ। নেই জাত, ধর্ম, শ্রেণি-লিঙ্গের ভেদাভেদ। এমন অনেকে আছেন ২০ বছর ধরে যাদের একমাত্র সম্বল এই অন্নছত্র।

জমিদারির নয়টি বাড়ি তারা দান করেন ট্রাস্টের নামে। সেই নয়টি বাড়ি এখন নয়টি মার্কেট আর দোকানের আয়ে মেটানো হয় খাবারের সব খরচ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 226 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ