অপরাধীদের অভয়ারণ্য চট্টগ্রাম রেলস্টেশন!

Print

%e0%a6%85%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%ad%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%9a%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%97টিকেট কালোবাজারি, মাদকদ্রব্য সেবন ও বিক্রি, যৌনবৃত্তি, স্বর্ণপাচার, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ নিত্যদিন ঘটছে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে। বলা যায়, অপরাধীদের নিরাপদ সাম্রাজ্য যেন এটি, যা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে রেলওয়ে পুলিশ।
তবে মাঝেমধ্যে কিছু ছিনতাইকারী, যৌনকর্মী, টিকেট কালোবাজারি, স্বর্ণপাচারকারীসহ অপরাধীরা ধরা পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। এসব গণমাধ্যমে ফলাও প্রচারও হয়।
কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সঙ্গে দারুণ সখ্য রেলওয়ে পুলিশসহ গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যদের। নিয়মিত লেনদেন হয় মাসোহারা। কিন্তু এর হেরফের হলেই কেবল গ্রেপ্তার অভিযানে নামেন তারা।
অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত লিটন, রাসেল, কাউছারসহ কয়েকজন দবি করেন, গ্রেপ্তার আর গণমাধ্যমে প্রচারের ভয়ে অপরাধজগতের সম্রাটরা অন্তত ওই মাসোহারা নিয়ে কোনোরকম টালবাহানা করে না। বরং এটি ঠিকঠাক রাখতে পারলে বাহিনীর সহযোগিতা পাওয়া যায়। এভাবে অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন।
স্টেশন এলাকার লোকজন জানান, রেলওয়ে স্টেশনে অপরাধ এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধের ঘটনা আকছার ঘটছে। এ ছাড়া সকাল-সন্ধ্যা স্টেশন এলাকায় অবাধে বিচরণ করে যৌনকর্মীরা। স্টেশন এলাকার নানা জায়গায় দিনভর চলে মদ, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য সেবন ও বিক্রি। আর রাতদিন সমানে চলে টিকেট কালোবাজারি।
লোকজনের অভিযোগ, অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে স্টেশন এলাকার নিরাপত্তা-শৃঙ্খলা ভেঙে গেছে। যাত্রীসাধারণ থেকে ব্যবসায়ী- কেউ নিরাপদ নন এখানে।
স্টেশনের বিক্রয় কর্মকর্তা (টিকেট) মঞ্জুরুল আলম জানান, যৌনকর্মী, ছিনতাইকারী, মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের সঙ্গে পুলিশের দারুণ সখ্য রয়েছে। এটাই অপরাধীদের দৌরাত্ম্যের প্রধান কারণ।
শুধু তাই নয়, গোয়েন্দা পুলিশের লোকজন তাদের নখদর্পণে রাখে। অথচ তাদের গ্রেপ্তার করে না। তবে মাসোহারা এদিক-সেদিক হলে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক একরাম হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন কেন, যেকোনো বাস, ট্রেন ও নৌ-স্টেশনে অপরাধ কর্মকা- চলে, যা নিয়ন্ত্রণ করা সত্যিই কঠিন। তবে অপরাধীদের সঙ্গে পুলিশের সখ্য থাকা এবং অপরাধ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করার বিষয়টি সঠিক নয়।
এক প্রশ্নের জবাবে একরাম হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে টিকেট কালোবাজারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জড়িত। ভেতরে টিকেট সংকট কিন্তু বাইরে পাওয়া যায়। এ জন্য তো আর পুলিশ দায়ী নয়।’
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. কামরুজ্জামান বলেন, অপরাধ কর্মকাণ্ডে পুলিশের জড়িত থাকা এবং মাসোহারা নেয়া সেটা ঠিক নাও হতে পারে। পুলিশ যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে, এই আত্মবিশ্বাস উঠে যাওয়ায় হয়তো অভিযোগটি সচরাচর হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোনো কারণে হয়তো কিছু টিকেট কালোবাজারির হাতে চলে যায়। এ জন্য সবাইকে দায়ী করা ঠিক নয়। আর স্টেশনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য হয় কি করে?

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 51 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ