‘অস্ত্র ছাড়লে চাকরি দেব’

Print

%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%acআওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শান্তিচুক্তি আওয়ামী লীগ সরকার করেছে, বাস্তবায়নও আওয়ামী লীগ সরকার করবে। এ জন্য কোনো আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হবেই। গতকাল বুধবার রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বান্দরবানে অনুষ্ঠিত পৃথক সভায় তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো যাঁরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত আছেন, তারা অস্ত্র ছাড়লে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দেব। পার্বত্যাঞ্চলে শান্তির ফল্গুধারা বইয়ে দেব।’
রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গতকাল সকালে এক গণসংবর্ধনা ও কর্মী সভার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দীপংকর তালুকদার সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বরসহ স্থানীয় নেতারা।
সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, অবৈধ অস্ত্র দিয়ে শান্তি সম্ভব নয়। পাহাড়কে অস্থিতিশীল করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র সক্রিয় আছে। শান্তিচুক্তি রাতারাতি হয়ে যায়নি। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে শেখ হাসিনা সরকার শান্তিচুক্তি করেছে। যেখানে এরশাদ থেকে শুরু করে খালেদা জিয়া সফল হননি। চুক্তি নিয়ে কোনো সমস্যা হলে টেবিল আছে। আমরা টেবিলে বসে কথা বলতে পারি। চুক্তি
বাস্তবায়নে বাধা এলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করুন। দেখা করতে কোনো বাধা এলে আমাকে বলুন। আমিই সব ব্যবস্থা করব। তার জন্য আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। উসকানিদাতাদের প্রশ্রয় দেবেন না। পাহাড়ে আর রক্ত চাই না, এখানে অনেক রক্ত ঝরেছে। এই এলাকার উপজাতীয় ও অ-উপজাতীয় সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন সন্তু লারমা, তাঁর গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা। চুক্তির বিষয়ে সমাধানের জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। অধৈর্য হলে কোনো কিছু পাওয়া যাবে না। যারা চুক্তি করেছে তারা চুক্তি বাস্তবায়ন করবেই।’
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় যেতে বিদেশিদের কাছে নালিশ দেওয়া ছাড়া বর্তমানে বিএনপির আর কোনো কাজ নেই। তাদের আন্দোলনে এখন আর কোনো জোয়ার আসে না। তারা এখন ‘বাংলাদেশ নালিশ পার্টি’। দুপুরে ওবায়দুল কাদের বান্দরবানের উদ্দেশে রাঙামাটি ত্যাগ করেন।
অস্ত্র ছাড়লে চাকরি : চিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশে গতকাল দুপুরে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগ এক কর্মী সভার আয়োজন করেছিল। এতে প্রধান অতিথি সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো যাঁরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত আছেন, তাঁরা অস্ত্র ছেড়ে দিলে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হবে। অস্ত্র কোনো দিন শান্তি আনে না। আপনি যার জন্য অস্ত্র মজুদ করছেন, একদিন তার পাল্টা আঘাতে আপনি নিজেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। আমাদের হাতে হাত রাখুন। আমরা সন্ত্রাস, মাদক ও ইয়াবামুক্ত পার্বত্যাঞ্চলে শান্তির ফল্গুধারা বইয়ে দেব।’
দুপুরে হেলিকপ্টারে চড়ে ওবায়দুল কাদের চিম্বুক এলাকায় পৌঁছেন এবং ওয়াই জংশন-চিম্বুক সড়ক পরিদর্শন করেন। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নির্মাণ প্রকৌশল বিভাগ, সড়ক ও সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
আওয়ামী লীগের কর্মী সভায় যোগ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা পাহাড়ের মানুষকে ভালোবাসেন বলেই শত বাধা পেরিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি করেছেন। এ অঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য ধাপে ধাপে চুক্তির বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এবারের মেয়াদকালের মধ্যে শান্তিচুক্তির প্রায় সবটা বাস্তবায়ন করা হবে। সে সময় বেশি দূরে নয়, যেদিন এই পাহাড় হয়ে উঠবে দেশের অর্থনীতির অন্যতম জোগানদার।’
বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্য শৈ হ্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামিম ছাড়াও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 70 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ