আউটডোরে বসে আজ আমি ও আমার কলিগ মিলে রোগী দেখছিলাম। রোগী দেখা অবস্থায় কলিগ আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখি সে মিটিমিটি হাসছে।

কি বিষয় জিজ্ঞেস করলে কলিগ তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীর দিকে ইশারা করলেন।

রোগীর হিস্ট্রি নিয়ে দেখি ছোটখাটো একটা এক্সিডেন্টে শরীরের দু’য়েক জায়গায় চামড়া ছিলে গেছে(ছবিতে দ্রষ্টব্য)। ছোটবেলায় দৌঁড়াতে গিয়ে এরকম চামড়া ছিলে নাই–সে ধরণের লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।

সমস্যা হলো –এইটুকুন ইনজুরি নিয়ে ভদ্রলোক ফার্মেসীর দোকানদারের কাছে গেলে দিলদরিয়া দোকানদার মহাশয় তার ওষুধের ভান্ডার ভালোভাবেই উন্মুক্ত করেন। যে ইনজুরির জন্য পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো মতো টয়লেটিং করলেই হয়, সেখানে ফার্মেসীর দোকানদার Cefuroxime এবং Moxifloxacin স্টার্ট করেছেন!

প্রথমটি Cephalosporin গ্রুপের সেকেন্ড জেনারেশনের সদস্য, আরেকটি Quinolone গ্রুপের ফোর্থ জেনারেশনের নবীণ সদস্য। ভালোই!

রামায়নে বর্ণিত লঙ্কার রাবণের ভাই কুম্ভকর্ণ বিখ্যাত ছিলো তার ঘুমের জন্য। ৬ মাস পরপর কুম্ভকর্ণ একবার জেগে উঠতো-তার আহারাদি সম্পন্ন করার জন্য।এদেশের নীতিনির্ধারকদের দেখে কুম্ভকর্ণও বোধ করি লজ্জা পেতো…..

ঢাকার কাছেই যদি অ্যান্টিবায়োটিকের এই অপব্যবহার চলে, সারাদেশে কি ম্যাসাকার চলছে–সেটা বোঝার জন্য আইনস্টাইন হবার প্রয়োজন দেখিনা। বলি, নীতিনির্ধারকদের ঘুম কবে ভাঙবে?