আইভীকে শামীম ওসমানের তিনটি ‘এসএমএস’

Print

%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80%e0%a6%ae-%e0%a6%93%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে আলোচিত নেতা শামীম ওসমানের দ্বন্দ্ব নতুন নয়। আইভীকে নৌকার প্রার্থী করার পরও মনোমালিন্যের খবর পৌঁছে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছেও। পরে ডেকে নিয়ে দুজনের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, একসঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে নামতে।
দলীয় সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করে যাওয়ার পরেও নারায়ণগঞ্জের দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব বা দ্বন্দ্ব বা মান-অভিমান কতটা কমেছে সে প্রশ্ন এখনো আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের মুখে মুখে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম গত নির্বাচনে আইভী আর শামীম ওসমান পরস্পরের বিরুদ্ধ ভোটে লড়েছিলেন। তখন জয় হয়েছিল আইভীর।
পাঁচ বছর পরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নেই শামীম। তবে তার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না নানা কারণে। আর এসব কারণেই গত ২২ নভেম্বর গণভবনে আইভী এবং শামীম ও তার কয়েকজন অনুসারীকে ডেকে কথা বলে একজোট হয়ে ভোটে লড়ার নির্দেশ দেন সভাপতি শেখ হাসিনা।
এই বৈঠকের দুই দিন পর আইভী তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু আর আগে শামীম ওসমান বা নারায়ণগঞ্জ মহানগর থেকে প্রস্তাব পাঠানো তিন নেতা- কাউকেই দেখা যায়নি। আইভী আর শামীম ও তার অনুসারীরা থাকছেন দূরে দূরেই।
তাহলে কি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পরও মনোমালিন্য কমেনি? জানতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে ঢাকাটাইমস। এ বিষয়ে কথা বলেছেন কেউ কেউ, তবে সংবেদনশীল বিষয় বলে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন সবাই।
শামীম ওসমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন আইভীকে শামীম ওসমান মোট তিনটি এসএমএস পাঠিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, তিনি তার নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রস্তুত আছেন। আশা করেছিলেন আইভী তাকে নিয়ে যাবেন। কিন্তু কাউকে না নিয়ে নিজের অনুসারী কয়েকজন নেতাকে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন আইভী।
আইভীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেন, শামীম ওসমানের এই এসএমএস পাঠানোর বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। তবে আইভী এই বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেননি। আর তারাও বিষয়টি নিয়ে বেশি দূর আগাতে চাননি।
আইভী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরও পেরিয়ে গেছে এক সপ্তাহ। শেখ হাসিনা মিলিয়ে দেওয়ার পরও মুখ দেখাদেখি হচ্ছে না আইভী-শামীমের মধ্যে।
আইভী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরদিন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রকাশ্যে আসেন। তবে তিনি মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার ঢাকার একটি হাসপাতালে আনোয়ারকে দেখতে আসেন আইভী।
এর মধ্যে আইভী বলেছেন, তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এখন দলের প্রতি অনুগত থাকলে সব নেতা-কর্মীই তার হয়ে কাজ করবেন। তিনি শামীম ওসমানকে উদ্দেশ করেই যে কথাটি বলেছেন, সেই বিষয়টি স্পষ্ট। তার এই বক্তব্য অবশ্য শামীম ওসমানের এসএমএম পাঠানোর আগে।
শামীম ওসমান অবশ্য তার ঘনিষ্ঠজনদের বলেছেন, শেখ হাসিনা যেহেতু আইভীকে তার প্রার্থী ঘোষণা করেছেন, সেহেতু তিনি অবশ্যই তার বিপক্ষে যাবেন না। তবে আইভী নানা সময় তার বাবাকে নিয়ে কটু কথা বলায় তিনি কষ্ট পেয়েছেন।
আইভী অবশ্য এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি শামীম ওসমানের বিপক্ষে কথা বললেও তার প্রয়াত বাবা সামসুজ্জোহার বিরুদ্ধে কথা বলেননি। এই বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে দলের ভেতর বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে একটি মহল।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 197 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ