‘আপা আর পারছিনা এই যন্ত্রণা সহ্য করতে’

Print

%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%9b%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%af%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0সাভারের আশুলিয়ায় গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুনে দগ্ধ শ্রমিক ও তাদের স্বজনদের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটের আবহাওয়া। আহত শ্রমিকদের শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হওয়ার কারণে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তারা। তাদের এই যন্ত্রণার দৃশ্য দেখে স্বজনরাও ধরে রাখতে পারছেন না চোখের পানি।
ঢামেকের বার্ন ইউনিটে মঙ্গলবার রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে দগ্ধ হওয়ায় যন্ত্রণায় চিৎকার করছেন তারা। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে কেউ কেউ চিৎকার ডাকছেন মা বাবাকে। আবার কেউবা ডাকছেন তাদের সঙ্গে আসা নিকট কোনো আত্মীয়কে। তাদের এই যন্ত্রণা কমাতে সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া কোনো ধরণের সাহায্য না করতে পেরে অসহায়ের মত চোখের পানি ফেলছেন স্বজনরা।
অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ লাইটার কারখানায় নারী শ্রমিক হালিমা (১৬) তার কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বোন রতনা বেগমকে বলছেন, ‘আপা আমি আর পারছিনা এই যন্ত্রণা সহ্য করতে। আপা তুমি আল্লাহকে বল আমাকে তুলে নিতে।’
নিজের এই আর্তনাদ কমানোর জন্য কিছু না করতে পেরে অসহায়ের মত চোখের পানি ফেলছেন বোন রতনা।
রতনা বেগম কান্নাজর্জরিত কণ্ঠে বলেন, ‘সকাল বেলায় আমার বোন হাসি মুখে বাসা থেকে বের হয়েছিল, আর রাতে হাসপাতালে সে এমন যন্ত্রণায় ভুগবে তা মেনে মিতে পারছিনা। চোখের সামনে বোনটা আমার এমন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে আর আমি কিছু করতে পারছি না।’

বার্ন ইউনিটের ১০৫ নাম্বার রুমের ২ নাম্বার কেবিনে শুয়ে থাকা নারী শ্রমিক মুক্তির বাবা বলেন, ‘পেটের দ্বায়ে আমার ১৪ বছরের মেয়েটিকে মাত্র ২২ দিন আগে এই কারখানা কাজ দিয়েছিলাম। কিন্তু যদি জানতাম আমার সোনা মানিকের এই অবস্থা হবে তাহলে কোনো দিন কাজ করতে দিতাম না। আজ মেয়ে আমার সামনে যন্ত্রণায় ছটফট করছে কিন্তু আমি কিছুই করতে পারছি না।’
আগুনে দগ্ধ শ্রমিক ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফেলতির কারণে শ্রমিকরা বেশি আহত হয়েছে। তারা যদি গাফলতি না করত তাহলে এত শ্রমিক নির্মমভাবে দগ্ধ হত না।

অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ শ্রমিক নাজমা আক্তার (১৭) বলেন, ‘কারখানার প্রতিটি রুমে মাত্র একটি করে দরজা, আর দরজাগুলো এত ছোট যে দুই জন মানুষ কোনো রকমের আসা যাওয়া করতে পারে। দরজাগুলো যদি একটু বড় হত তাহলে শ্রমিকরা তাড়াতাড়ি বের হতে পারত। কিন্তু দরজাগুলো ছোট হওয়ায় সবাই একসঙ্গে বের হতে গিয়ে পড়ে যায়, যার কারণে বেশি মানুষ আগুনে পুড়ে গেছে।’
অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ শ্রমিক রাখি বেগমের খালা খাদিজা বলেন, ‘কারখানাটিতে আগুন নিভানোর যথেষ্ট ব্যবস্থা ছিলনা। তাছাড়া গেইটম্যানরা সময় মত গেইট খুলেনি। তারা যদি প্রথম দিকে মেইন গেইট খুলে দিত তাহলে এত মানুষ আহত হত না। তদের গাফিলতির কারণে আরো বেশি করে মানুষ দগ্ধ হয়েছে।’

আহত রোগীদের সম্পর্কে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান প্রফেসর আবুল কালাম জানান, এ পর্যন্ত আমরা ২১ জন দগ্ধ শ্রমিককে পেয়েছি। এদের সবারই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। যাকে আমরা মেজর বার্ন বলি। রোগীদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭০ শতাশং ও সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে। কয়েকজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হচ্ছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 56 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ