আমার মতো কর্মকর্তার পদোন্নতি না হওয়ায় বলছি, ‘আমার ফাঁসি চাই’

Print

অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি বঞ্চিত এক কর্মকর্তা রোববার সকালে যুগান্তরকে বলেন, আমার মতো কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হল না। আমার বেচে থাকার আনন্দটা কেড়ে নেয়া হয়েছে।
অথচ আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলছি, যারা পদোন্নতি পেয়েছেন তাদের চেয়ে আমি কোনো অংশে অযোগ্য নয়। বরং অনেকের চেয়ে অধিকতর যোগ্য ও দক্ষ বলে দাবি করতে পারি। আমি এসএসবি’কে (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলছি, পদোন্নতির যোগ্যতা যাচাইয়ে যে কোনো পরীক্ষা কিংবা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে রাজি আছি।
যদি সে পরীক্ষায় ফেল করি তবে আমাকে যে শাস্তি দেয়া হবে তা আমি মাথা পেতে নেব। প্রয়োজনে আমার ফাঁসি আমি নেব। আমার মতো কর্মকর্তার পদোন্নতি না হওয়ায় বলছি, ‘আমার ফাঁসি চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমার নাম-পরিচয় প্রকাশ করে লিখতে পারেন।
কোনো আপত্তি নেই। কারণ আজ আমার হারানোর কিছু নেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তরান্বিত করতে এ সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থাকাবস্থায় আমি সব ধরনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করেছি। অথচ বিনিময়ে কী পেলাম আজ? নিজেকে এখন রাজাকার বলতেই মনে হয় ভালো লাগবে। কারণ তাদের অনেকে পদোন্নতি পেয়েছেন।
বিকালে তিনি মুঠোফোনে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় লেখেন, ‘আমার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রমোশনটা হয়নি। কেন হল না, কারণ জানি না। আমি দুঃখী, অসহায়। আমার আনন্দটা কেড়ে নিল, আমার কেউ ছিল না, এ সমাজে বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে না, মরে যেতে ইচ্ছে করছে, কী করি, বুকটা ভারি হয়ে আছে।’
রোববার সকালে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর কাছে এভাবে দু’দফায় মর্মস্পর্শী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মনোয়ার হোসেন আকন্দ। নিজ জেলা মাদারীপুর। তিনি ১৯৮৫ ব্যাচের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। বর্তমানে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পরিচালক পদে কর্মরত।
অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি বঞ্চিত অপর একজন কর্মকর্তা শেখ আবদুল মান্নান। যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এ কর্মকর্তা বর্তমানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কর্মরত। ১৯৮৩ ব্যাচের গণপূর্ত ক্যাডারের এ কর্মকর্তা পদোন্নতি পাননি পরপর দু’বার।
রোববার তিনি যুগান্তরের কাছে ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ৩০ নভেম্বর চাকরি ছেড়ে দেবেন। আর চাকরি করবেন না। তিনি বলেন, ‘শিক্ষাজীবনে কখনও প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হইনি। ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছি ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হিসেবে। ছাত্রলীগ করার কারণে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর ৭৫ সালে জেলে গিয়েছি।
ক্যান্টনমেন্টে আমাকে টানা ৫ দিন চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়। রাজউকে চাকরিরত অবস্থায় সাফল্য ও সততার অনেক রেকর্ড গড়েছি। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এভাবে আমাকে পদোন্নতি বঞ্চিত করা হল।’
যারা পদোন্নতিবঞ্চিত হলেন- অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন ১৯৮৪ ব্যাচের এসএম মফিদুল ইসলাম, সৈয়দ আহসানুল হক, আবুল কালাম আজাদ, আবদুল হক, আমিনুল বর চৌধুরী, জাকির আহমেদ, আবু নূর বজলুর রহমান, ইউনুস ফকির, নেছার আহমদ রুমী, ফিরোজ খান নুন, শেখ আব্দুর রউফ, নছিহুল কামাল, আবু তালেব, শওকত আকবর, দিল জুয়ারা খানম, জিয়াউর রহমান খান, রাশিদা বেগম, নেপুর আহমেদ, পিএসএম শহীদুল ইসলাম হারুন, মোহাম্মদ রাশিদুল হাসান, ড. জাকিরুল ইসলাম, ফাইজুর কবীর, ১৯৮৫ ব্যাচের ফজলুল হক, এনএম জাহাঙ্গীর হোসেন, মলয় তালুকদার, শিবলী নজির, আনিছুর রহমান, নিমাই কুমার পাল, রুহিদাস জোয়াদ্দার, মনির হোসেন, স্বপন চন্দ্র পাল, ফজলুর রহমান ভূঁইয়া, বিশ্বনাথ বণিক, আনোয়ার হোসেন, রবিউল হক, কুতুব উদ্দিন, মতিয়ার রহমান, ইয়াসমিন সুলতানা, প্রণয় কান্তি বিশ্বাস, আব্দুল হাই, আলী আকবর, আখতারুজ্জামান, মোস্তফা কামাল, এসএস আবুল কালাম আজাদ, মাহবুবুল ইসলাম, কামাল উদ্দিন, সাবের হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন, আলম আরা, নূরুল আমীন, শাহাদাত হোসেন, কাউসার আলী, মামুনুর রহমান খলিলি, আনোয়ার ওয়াহেদ চৌধুরী, সরকার আবুল কালাম আজাদ, আহসান হাবিব তালুকদার, হেদায়েতুল্লাহ, হারুনুজ্জামান খলিল, মাসুম খান, ১৯৮৬ ব্যাচের ড. সুলতান আহমেদ, অশোক কুমার বিশ্বাস, আমিনুল ইসলাম খান, আবু সাঈদ চৌধুরী, ফারুক হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল হক, মোহাম্মদ আলমগীর, মুহাম্মদ শওকত আলী, আব্দুর রউফ খান, ইউসুফ আলী, ওবায়দুল আজম, গোলাম ইয়াহিয়া, আব্দুল মান্নান ইলিয়াস, আ. শ. ম. ইমদাদুল দস্তগীর, ওমর ফারুক, মিজানুর রহমান, হেলাল উদ্দিন, খুরশিদ আলম প্রমুখ।
যুগ্মসচিব ও উপসচিব পদেও বেশ কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 59 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ