আরাকানের বাতাসে লাশের গন্ধ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দিকে সাঁজোয়া বাহিনী

Print

%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%a8আরাকান রাজ্যের মংডুর আরও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দিকে ধাবিত হচ্ছে মিয়ানমারের সাঁজোয়া বাহিনী। প্রতিদিনই রোহিঙ্গা মুসলিম নির্মূলে পরিচালিত কিয়ারেন্স অপারেশনে সৈন্য সমাবেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সাথে বাড়ছে গণধর্ষণ।
সাঁজোয়াবহরে নতুন করে যুক্ত হয়েছে হেলিকপ্টার গানশিপ, মর্টারশেলবাহী কামান ও মেশিনগান। এসব মারণাস্ত্র নিয়ে অসহায় গ্রামবাসীর ওপর সৈন্যরা হামলে পড়ছে। ইতোমধ্যে বর্মী বাহিনীর ধ্বংস করে দেয়া গ্রামগুলো থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে লাশ পচা গন্ধ। এরই মধ্যে ২২টি গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। মংডুর দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে রোহিঙ্গা বুড়াসিকদার পাড়ার পাশে কিউনংটং নামক এলাকার মুসলিম জনবসতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তা-ব চালিয়েছে সেনারা। হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে রোহিঙ্গা পল্লীতে গুলি করা হয়েছে। এবারের অভিযানে নতুন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে পালাতেও পারবে না রোহিঙ্গারা। কেননা মংডুর উত্তরাঞ্চলে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নাফ নদী সরু থাকায় যেসব রোহিঙ্গা প্রাণে বেঁচে গেছে তারা নতুন আশ্রয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এতে পালিয়ে আসা নারী-পুরুষদের প্রাণ রক্ষা হলেও এবারের অভিযানে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কারো আর পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেননা সেনাবাহিনী দক্ষিণে ধাবিত হয়ে রোহিঙ্গাদের কোণঠাসা করে ফেলছে।

এখন তাদের পালানোর একমাত্র জায়গা সমুদ্র। আর প্রাণ বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপ দিয়েও কোনো লাভ নেই। কেননা সাগর পাড়ি দেয়া কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। নৌকা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও সেখানে ওৎ পেতে আছে বর্মী নৌবাহিনী। কাজেই জলে স্থলে কোথাও নিস্তার নেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের। অনেকটা জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘের মতো অবস্থা। অর্থাৎ অবধারিত মৃত্যু।
ইতোমধ্যে আরাকানের মংডু, বুচিদং, আকিয়াবসহ মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার গ্রাম-মহল্লা-পাড়াগুলোর বাড়িঘর প্রায় পুরুষশূণ্য হয়ে পড়েছে। পালিয়ে আশ্রয় নেয়া প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা পুরুষদের নির্বিচারে হত্যা, কেটে কেটে টুকরো অথবা গলা কেটে আর পিটিয়ে হত্যা করছে। আর রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণ করছে। অপর দিকে বুচিদং থানার আশপাশ এলাকার রোহিঙ্গা যুবকদের ধরতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এতে ওই এলাকায় রোহিঙ্গারা দিশেহারা হয়ে পড়ছে।
এ দিকে টেকনাফ উপজেলার চারটি পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা বোঝাই ১১টি নৌকা বাংলাদেশে এলে তাদের বাধা দেয় বিজিবির সদস্যরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল ছিদ্দিকী। তিনি জানান, গতকাল ভোরে বাংলাদেশে ঢুকতে না পেরে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফেরত যায়। যেসব পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা বেশি প্রবেশের চেষ্টা করছে সেসব পয়েন্টে বিজিবির সর্বোচ্চ নজরদারি আছে। পাশাপাশি সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 74 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ