ইসলামি ব্যাংকিংয়ে ‘ইসলাম’ নেই

Print

%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%82%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%aeদেশে ইসলামি ব্যাংকগুলো মানুষের ধর্মীয় অনূভূতিকে পুঁজি করে প্রতারণা করছে। তারা সাধারণ আমানতকারীর সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাস নষ্ট করছে। ইসলামি ব্যাংকগুলোতে ইসলাম নেই। এগুলো আমানত সংগ্রহ, বিনিয়োগ, বাণিজ্য কোনো ক্ষেত্রেই ইসলামিক ব্যাংকিং করছে না।
বুধবার ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে এক সেমিনারে বক্তারা এভাবেই ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে সমালোচনা করেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) ইসলামি ব্যাংকিং এ সুশাসন শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।
প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হেলাল উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি ফরিদউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও বীমা বিভাগের অধ্যাপক এম মুজাহিদুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইয়াসিন আলী।
মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “ইসলামি ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহ, বিনিয়োগসহ আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কোন সূচকেই ইসলামি ব্যাংকিং করছে না। তারা অন্যান্য ব্যাংকগুলোর মতো সুদ ভিত্তিক ব্যাংকিং করছে। এটা বিশ্বাসী আমানতকারির সঙ্গে প্রতারণা। তাদের বিশ্বাস নষ্ট করা।”
তিনি বলেন,“ ইসলামি ব্যাংকগুলোও পরিচালকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে। কিছু বেশি দায় খয়রাত করে ইসলামি ব্যাংক হিসেবে ফায়দা নিচ্ছে। এটা ঠিক না। ইসলামি ব্যাংকিং হলো, পুঁজি সংগ্রহ করে ছড়িয়ে দেয়া। সেটি করে না কেউ। কেউ মুদি দোকানি, কাজের লোক, বাদাম বিক্রেতাকে ঋণ দেয় না।”
তিনি বলেন, “ব্যাংকগুলো কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করে না। বেতন কম দেয়। অন্যান্য ব্যাংকের থেকে সুযোগ সুবিধাও বেশি। এভাবে কেন চলবে।’
ইয়াসিন আলী বলেন, “ইসলামি ব্যাংকগুলো সঠিক পথে নেই। তারা ব্যবসা করতে মূলত এই ধরনের ব্যাংকিং করছে। ইসলামি ব্যাংকিং চর্চা কেউ করেন না।”
তিনি বলেন, “এমন উদাহরণও দেখেছি, ইসলামী ব্যাংক কলমানি মার্কেট থেকে ৪৫ শতাংশ হারে ঋণ নিয়েছে। এটা কোন ধরনের ইসলামি ব্যাংকিং। এগুলো কি প্রতারণা নয়। মানুষে ঠকানো নয়।”
সাবেক এই নির্বাহী বলেন, “অনেক আমানতকারী বিশ্বাস করে বিনা মুনাফায় অর্থ রাখেন। ইসলামি ব্যাংকগুলোতে এমন আমানত প্রায় ১৫ শতাংশ। কি হয় এসব অর্থের মুনাফা।”
হেলাল উদ্দিন বলেন, “ইসলামি ব্যাংকগুলো নিয়ে বির্তক আছে। বলা হয়, এগুলো বিশেষ গোষ্ঠী, রাজনৈতিক আদর্শের ব্যাংক। এগুলো ঢেকে রাখা যাবে না। এগুলোর জবাব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।”
ফরিদউদ্দিন বলেন, “ইসলামি ব্যাংকগুলো কতটা ইসলামি ব্যাংকিং করবে সেটি নির্ভর করে বোর্ডের ওপর। বোর্ড আসলে তা চায় কিনা। কিন্তু বাংলাদেশের বেশিরভাগ ব্যাংক পরিচালকরা ইসলামি ব্যাংকিং চায়না বা বুঝেন না। ”
সেমিনারের শুরুতে বিআইবিএম এর পক্ষে একটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 129 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ