ইস্তাম্বুলে হচ্ছে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বিমান বন্দর

Print

%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%beইস্তাম্বুলের নতুন বিমানবন্দরের প্রথম ধাপের প্রায় ৪০% নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী নাগাদ এর প্রথম ধাপের নির্মাণ সম্পূর্ণ হবার এর মধ্য দিয়ে বছরে প্রায় ৯ কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। আর সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে বছরে প্রায় ১৫ কোটি যাত্রীকে সেবা দেবার মাধ্যমে এটিই হবে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিমানবন্দর।

কাজ শেষ হবার পর এই নতুন বিমানবন্দর বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোর চেয়েও তিনগুণ যাত্রীকে সেবা দিতে পারবে। এক ছাঁদের নিচে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ টার্মিনাল ভবন এবং ডিউটি ফ্রি এরিয়া ছাড়াও এটিই হতে যাচ্ছে পৃথিবীর প্রথম ‘সবুজ বিমানবন্দর’।
তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং কলাকৌশলের দিক থেকেও জটিল এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ইস্তাম্বুল গ্র্যান্ড এয়ারপোর্ট কোম্পানি, যেটি তুরস্কের ভিশন ২০২৩ কে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রকল্প যথাসময়ে শেষ করতে প্রায় ২২,০০০ মানুষ সপ্তাহে সাতদিন তিন শিফটে চব্বিশ ঘন্টা কাজ চলছেন।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারীতে যখন প্রথম ধাপের কাজ শেষ হবে, তখন থেকেই দৈনিক প্রায় ২০০০ বিমান এই বিমানবন্দর ব্যবহার করবে। ২৫০টি এয়ারলাইন্সের সেবা গ্রহণের সুযোগের মাধ্যমে এই বিমানবন্দর থেকে পৃথিবীর নানা দিকে প্রায় ৩৫০টি শহরে যাওয়া যাবে।
গত ১৪ বছরে তুরস্কে বিমানবন্দরের সংখ্যা ২৬ থেকে বেড়ে ৫৫ তে উন্নীত হয়েছে। তবে বিমানযাত্রীর সংখ্যা সাড়ে তিন কোটি থেকে পাঁচগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটিতে।
এই বিমানবন্দরটি প্রথম ধাপ চালু হলেই প্রায় ৯ কোটি বিমানযাত্রীকে সেবা দিতে পারবে, আর সর্বোচ্চ যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে ১১ কোটি। ইস্তাম্বুলের বর্তমান আতাতুর্ক এয়ারপোর্টের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ৬ কোটি, যা নতুন এয়ারপোর্টের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতার এক তৃতীয়াংশ মাত্র।
বর্তমানে বার্ষিক ৯ কোটি যাত্রীকে সেবা দিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত আমেরিকার হার্টসফিল্ড জ্যাকসন আটলান্টা বিমানবন্দর। সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে ঐ এয়ারপোর্টের দ্বিগুণ সংখ্যক ১৮ কোটি যাত্রী নিয়ে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরই পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ততম বিমানবন্দরে পরিণত হবে।
এয়ারপোর্টস কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনালের মতে, ২০১৫ সালে আটলান্টা বিমানবন্দর ব্যবহার করেছিলেন প্রায় ১০ কোটি মানুষ। বেইজিং বিমানবন্দরে ৮.৯ কোটি, দুবাই বিমানবন্দরে ৭.৮ কোটি, শিকাগো বিমানবন্দরে ৭.৭ কোটি, টোকিও বিমানবন্দরে ৭.৫ কোটি, হিথ্রো এবং লস এঞ্জেলস বিমানবন্দরে ৭.৪৯ কোটি যাত্রী যাতায়াত করেছেন।
আয়তনের দিক ২৩৩০ হেক্টর জমির ওপরে নির্মিত বেইজিং বিমানবন্দর বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত। তবে প্রায় ৭৯৯৪ হেক্টর জমির ওপর নির্মিতব্য ইস্তাম্বুলের এই নতুন বিমানবন্দর এর চেয়ে তিনগুণ বেশি জায়গা নিয়ে তৈরি হচ্ছে। আটলান্টা বিমানবন্দরের আয়ত্ন ১৯০২ হেক্টর, হিথ্রো বিমান বন্দরের আয়তন ১২২৭ হেক্টর এবং ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দরের আয়তন ১১৬৫ হেক্টর।
এছাড়াও এই বিমানবন্দরে তৈরি হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল ভবন, যেখানে ৩৪৭টি বিমানকে জায়গা দেয়া যাবে, যেখানে ১১৪টি বিমান প্রধাণ টার্মিনালে অবস্থান করতে পারবে। পাশাপাশি, প্রায় ৭০,০০০ গাড়ীর জন্য মূল পার্কিং সুবিধা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় আরও ১৮,০০০ গাড়ী রাখার জায়গা এখানে থাকবেম যা হবে ইউরোপের বৃহত্তম পার্কিং লট।
এছাড়াও বিমানবন্দরের ৫৬০০০ বর্গমিটার ডিউটি-ফ্রি এরিয়াতে থাকবে দেশী-বিদেশী প্রায় ৪০০টি ব্র্যান্ড আউটলেট। তবে সকল ব্যবসায়িক স্থাপনাই হবে পরিবেশবান্ধব, যে কারণে এই বিমানবন্দরকে বিশ্বের প্রথম ‘সবুজ’ বা পরিবেশবান্ধব বিমানবন্দর বলা হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 104 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ