এসএসসি’র ফরমফিলাপে অতিরিক্ত ফি আদায়, বিপাকে গরিব শিক্ষার্থীরা!

Print

%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%87-%e0%a6%85%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%bfসুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ইসহাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধানশিক্ষকের যোগসাজসে এ অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, এসএসসির ফরম ফিলাপের সময় স্কুলের উন্নয়ন ও কোচিং ফি বাবদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার ৭২০ টাকা এবং মানবিক বিভাগে ৫ হাজার ৬৩০ টাকা। এছাড়া নির্বাচনি পরীক্ষায় বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন হারে জামানত নেওয়া হচ্ছে। এক বিষয়ে ২ হাজার টাকা, দুই বিষয়ে ৪ হাজার টাকা, তিন বিষয়ে ৮ হাজার টাকা এবং চার বিষয়ে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্তও আদায় করা হচ্ছে।
জানা গেছে, চলতি বছর এ স্কুল থেকে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগে ৫৭ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।
স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী নাজমা বেগম জানায়, অতিরিক্ত অর্থ দিতে না পারায় সে ফরম ফিলাপ করতে পারেনি। রুকসানা বেগম জানায়, প্রতি বছরই এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে গলাকাটা অর্থ আদায় করেন শিক্ষকরা। তারা বোর্ডের কোনও নির্দেশনা না মেনে নিজেদের নিয়মে পরীক্ষার ফি আদায় করে আসছেন। একই স্কুলের শিক্ষার্থী ঝুমি বেগম জানায়, কোচিং ও উন্নয়ন ফি বাবদ মাত্রাতিরিক্ত ফি আদায়ের ফলে গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বিপাকে পড়েছেন।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্র ও বোর্ড ফি মিলিয়ে এসএসসির ফরম পূরণে ১৭৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর জহুর অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘কোচিং ও উন্নয়ন ফিসহ বিজ্ঞান বিভাগে ৫ হাজার ৭০০ ও মানবিক বিভাগে ৫ হাজার ৬০০ টাকা করে নিচ্ছি। অবৈতনিক স্কুল উন্নয়ন খাতে ৭০০ আর স্কুলে শিক্ষার মান ধরে রাখার জন্য স্যারদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয় তাই কোচিং ফি বাবদ ৩ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। যাদের সামর্থ নেই তাদের কোচিং ফি দিতে হয় না। এসব টাকা আদায়ের জন্য কোনও রেজুলেশন করা হয়নি। বোর্ডের টাকার মানি রিসিট দেওয়া হয়, কিন্তু উন্নয়নের টাকার কোনও রিসিট দেওয়া হয় না।’
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বদরুল ইসলাম ফরম ফিলাপ বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি নাকচ করে বলেন, ‘আমরা উপজেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ স্কুল। আমরা অতিরিক্ত কোনও টাকা নেই না। এখানে কোনও অনিয়ম হয়নি।’
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম মখলেছুর রহমান বলেন, ‘কেন্দ্র ও বোর্ড ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনও সুযোগ নাই। আর কোচিং এর নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী কোচিং বন্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের কোনও অভিযোগও আমাদের কাছে নেই। তবে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শেষ হলে আমি এসব বিষয় খতিয়ে দেখবো এবং প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন জানান, ‘আমি প্রধান শিক্ষকের কথা বলতে পারিনি। তবে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টি সরেজমিনে দেখার জন্য। তিনি সরেজমিনে গিয়ে দেখবেন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 66 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ