ঐক্যমতে নির্বাচন কমিশন গঠনে খালেদার ৭ প্রস্তাব

Print

স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে ৭ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দেশের গণতন্ত্র সুসংহত করতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন জরুরি বলে মনে করেন বিএনপি নেত্রী।

আসছে ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে দলের প্রস্তাব তুলে ধরেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সব দলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার এ বিষয়ে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে ইসি পুনর্গঠনে ৭ দফার প্রস্তাব দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। খালেদার দেয়া প্রস্তাবগুলো হচ্ছে-

১. সব দলের ঐক্যমতে নির্বাচন কমিশন গঠন।

২. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠনে দেশের নিবন্ধিত সব দলের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন।
২.১ নির্বাচন কমিশন গঠনে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যোগ্যতা, অযোগ্যতা ও মনোনয়নের বিষয়ে সব দল ঐক্যমতে পৌঁছানো পর্যন্ত আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে।
২.২ নিরপেক্ষ কমিশন গঠনে সব রাজনৈতিক দল ও স্বাধীনতার পর সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত দলিলস্বরূপ সবার সই নিয়ে তা জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।

৩. বাছাই কমিটি গঠন।
৩.১ বাছাই কমিটি গঠনের কাঠামো সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সৎ, অভিজ্ঞ, নৈতিকতা ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে ৫ সদস্যের বাচাই কমিটি গঠন করতে হবে।
৩.২ বাছাই কমিটির আহ্বায়ক হবেন অবসরপ্রাপ্ত কিন্তু নিরপেক্ষ সাবেক প্রধান বিচারপতি। যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসরের পর সরকারের লাভজনক কোনো পদে ছিলেন না।
৩.৩ বাছাই কমিটির সদস্য হবেন বিতর্কিত নয় এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য বিচারক, সচিব, অবসরপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অথবা দেশের বিশিষ্ট কোনো নাগরিক ও জ্যেষ্ঠ নারী।

৪. দেশের সব রাজনৈতিক দল বা স্বাধীনতার পরে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে কমিশন গঠনে প্রতি পদের জন্য ২ জনের নাম সুস্পষ্টভাবে প্রস্তাব করবে।

৫. প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা।
৫.১ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সৎ, দক্ষ ও বিতর্কিত নন এমন ব্যক্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হতে পারবেন। তবে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কাজ করেছেন এমন কেউ সিইসি হতে পারবেন না।
৫.২ একজন নারীসহ সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সৎ, মেধাবী, সাহসী ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, বিতর্কিত নয় এমন ৪ জন নির্বাচন কমিশনার হতে পারবেন। তাদের যোগ্যতা নূন্যতম জেলা জজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ও যুগ্ম-সচিব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা বা সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র কোনো আইনজীবী।

৬. রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব করা দু’জন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ৮ জন কমিশনারের নাম বাছাই কমিটির কাছে পাঠাবে।

৭. বাছাই কমিটি বিচার বিবেচনা করে যাদের নাম প্রস্তাব করবে তাদের মধ্য থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ৪ জন কমিশনার নিয়োগ দেবেন রাস্ট্রপতি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 154 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ