ওষুধ কোম্পানিতে চিঠি দিয়ে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের চাঁদাদাবী

Print

%e0%a6%93%e0%a6%b7%e0%a7%81%e0%a6%a7-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a0%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a7%9fবরিশালে ওষুধ কোম্পানিতে চিঠি দিয়ে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের চাঁদাদাবীবঙ্গবন্ধু ইন্টার্নি ডক্টর্স এ্যাসোসিয়েশনের নামে প্রায় ১১ লাখ টাকা চাঁদাবাজীর মিশনে নেমেছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কতিপয় ইন্টার্নি চিকিৎসক। বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন, ভুরিভোজ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে এ চাঁদাবাজী করা হচ্ছে।
এমনকি বঙ্গবন্ধু ইন্টার্নি ডক্টর্স এ্যাসোসিয়েশনের প্যাডে এমনই একটি বাজেটের ফর্দ ইতিমধ্যে পৌছে দেয়া হয়েছে কোম্পানি গুলোতে। যে কোম্পানি চাঁদা না দিবে তাদের ওষুধ লেখা বন্ধ করে দেয়ার হুমকিও দিয়েছে চিকিৎসক নামধারী চাঁদাবাজরা। আর তাই চাঁদার দাবী পুরনে খুব শিঘ্রই আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির আরএসএমরা।

শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে কর্মরত বিভিন্ন কোম্পানির মেডিকেল প্রতিনিধিরা জানান, ওষুধ কোম্পানির টাকায় চিকিৎসকদের ঘরের বাজার থেকে শুরু করে গোপনীয় জিনিসপত্র কেনা হয়। কোম্পানির ওষুধ লোখার জন্য চিকিৎসকরা উপঠৌকন হিসেবেই এসব নিয়ে থাকেন।
কিন্তু বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালের বঙ্গবন্ধু ইন্টার্নি ডক্টর্স এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এক প্রকার চাঁদাবাজী শুরু করেছে। কোম্পানির গলায় পাড়া দিয়ে চাঁদার টাকা আদায় করছে। এমনকি ইতিপূর্বে যা ঘটেনি তাও করেছেন বঙ্গবন্ধু ইন্টার্নি ডক্টর্স এ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। আর তা হলো কমিটির বাজেটের নামে বিশাল এক ফর্দ তৈরী করে কোম্পানিকে চিঠি দিয়ে প্রায় ১১ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছে তারা।
বঙ্গবন্ধু ইন্টার্নি ডক্টর্স এ্যাসোসিয়েশন (বিআইডিএ) সংগঠনের প্যাডে দেয়া ফর্দতে তারিখ দেয়া রয়েছে ২৩ নভেম্বর ২০১৬। তবে সংগঠনের সভাপতি ডা. অনুপ সরকার এবং সাধারন সম্পাদক নাছিম এর ছিল সহ স্বাক্ষর এর তারিখ দেয়া আছে ২৪ নভেম্বর। ব্যায় হিসাবের উপর অংশে লেখা রয়েছে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বঙ্গবন্ধু ইন্টার্নি ডক্টর্স এ্যাসোসিয়েশন (বিআইডিএ) এর প্রস্তাবিত বাজেট। এর নিচের অংশে দেয়া হয়েছে বাজেটে বিভিন্ন খাতে বিলাশবহুল ব্যায়ের বিফিরিস্থি।
১নং ক্রমিকে উল্লেখ্য করা হয়েছে প্রাক্তন কমিটি হস্তান্তর বাবদ ব্যায় ৩০ হাজার টাকা, এছাড়া পর্যায়ক্রমে ২ থেকে ১০ পর্যন্ত ক্রমিকে উল্লেখ্য করা হয়েছে- ১৫ই আগস্ট পালনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল উপলক্ষে ২০ হাজার টাকা, আওয়ামীলীগের জাতীয় সম্মেলন-২০১৬ উপলক্ষে ৩০ হাজার টাকা, নতুন কমিটি ঘোষনার পর ভুরিভোজের খরচ ৪০ হাজার টাকা, শীত কালিন ভ্রমন (বান্দরবান, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন) খরচ ৩ লাখ টাকা, ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ১০ হাজার টাকা, ইন্টার্নি ডক্টর্স হোস্টেল উন্নয়ন খবর ১ লাখ টাকা, ডক্টর্স কেন্টিন উন্নয়ন খরচ ১ লাখ টাকা, ২১ শে ফেব্রুয়ারী মহান মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের জন্য ১০ হাজার টাকা, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং র‌্যাগ ডে ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ৪ লাখ সহ মোট ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা চাঁদা নির্ধারন করা হয়েছে।
ওষুধ কোম্পানির বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু ইন্টার্নি ডক্টর্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. অনুপ সরকার এবং সাধারন সম্পাদক নাসিম এক বছরের চাঁদার ফর্দ তৈরী করে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কোম্পানিতে পৌছে দিয়েছেন। অতিদ্রুত তাদের বাজেটের টাকা সকল কোম্পানিকে মিলে পরিষদ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেই কোম্পানি টাকা দিবে না তাদের কোম্পানির ওষুধ লেখা হবে না বলে বঙ্গবন্ধু ইন্টার্নি ডক্টর্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি-সম্পাদক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বলে ওষুধ কোম্পানির বেশ কয়েকজন মেডিকেল প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে ওষুধ কোম্পানির বেশ কয়েকজন আরএসএম এর সঙ্গে কথা হয়। তারা ইন্টার্নি ডাক্তারদের চাঁদা দাবীর বিষয়টি স্বীকার করলেও কোম্পানির সার্থে নিজেদের নাম ও প্রতিষ্ঠানের নাম গোপন রাখেন। বলেন, কোম্পানি কিছুটা হলেও চিকিৎসকদের কাছে দায়বব্ধ। তাই চাঁদা পরিষদের বিষয়ে দু-একদিনের মধ্যেই আমরা সকল ওষুধ কোম্পানির আরএসএমরা বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো। যে কয়টি কোম্পানির প্রতিনিধিরা শেবাচিম হাসপাতালে কাজ করে সে কয়টি কোম্পানি মিলে চাঁদার টাকা পরিশদ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
তারা বলেন, এই হাসপাতালে সর্বদলীয় সংগঠন ইন্টার্নি ডক্টর্স এ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। কিন্তু তাদের চিঠি দিয়ে এ ধরনের চাঁদাবাজীর নজির নেই। অথচ বঙ্গবন্ধু ডক্টর্স এ্যাসোসিয়েশনের নামে চাঁদাবাজীর ফর্দ তুলে দিয়েছে ওষুধ কোম্পানির কাছে।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বঙ্গবন্ধু ইন্টার্নি ডক্টর্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. অনুপ সরকার কোম্পানিকে প্রায় ১১ লাখ টাকার বাজেটের ফর্দ ধরিয়ে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কোম্পানি আমাদের মাঝে মধ্যে সহযোগিতা করে। এজন্য সংগঠনের প্যাডে ঐ এক বছরের সম্ভব্য বয় নির্ধারন করে চিঠি আকারে ওষুধ কোম্পানিতে পাঠানো হয়েছে। তবে এখানে চাঁদাবাজীর কোন বিষয় নেই।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 85 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ