‘কোরআনের আর্ট’, ইসলামের পবিত্র গ্রন্থের এক দুর্লভ প্রদর্শনী

Print

%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9f-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aaতুর্কি মিউজিয়াম ও ইসলামিক আর্টস সেন্টারের রক্ষিত কোরআনের দুর্লভ বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি নিয়ে ‘দি আর্ট অব কোরআন’ শিরোনামে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থার এম সাকলার গ্যালারিতে প্রথমবারের মত ইসলামের পবিত্র গ্রন্থের হাতে লেখা কপি প্রদর্শন করা হয়েছে।
এটা একটি গৌরবময় প্রদর্শনী যা এর আগে কখনো দেখা হয়নি। সেখানে ৬০টিরও বেশি চকচকে এবং সোনালী রং দিয়ে গিলটি করা কোরআন স্থান পেয়েছে। যার কিছু দেখতে স্মার্টফোনের চেয়েও ছোট, কিছু কার্পেট আকারের।
এসবের অধিকাংশই ইস্তাম্বুল জাদুঘর থেকে আনা। এসব পাণ্ডুলিপি সপ্তম থেকে ১৭শ’ শতকের যা বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, মিশর, ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও তুরস্ক। কিছু খণ্ড এখনো অক্ষত আছে। অন্যগুলো শুধু একক পৃষ্ঠারূপে টিকে আছে।
ঐতিহ্যগতভাবে কুরআনের আধ্যাত্মিক ক্যারিশমা এত বড় যে প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র টুকরো সংরক্ষণের যোগ্য। সাকলার গ্যালারির কিউরেটর মাসুমাহ ফরহাদ এবং সাইমন রেটিং এর সাজানো এসব উপাদানের সবকিছুই যেন দীপ্তিময় এবং মাধ্যাকর্ষণ-মুক্ত বলে মনে হয়।
কোরআন শব্দটি আরবি ক্রিয়াপদ থেকে আগত যার অর্থ স্মৃতি থেকে বলা বা জোরে জোরে পড়া। গ্রন্থটি উৎপত্তি লাভ করেছে মক্কার ইবনে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ কর্তৃক একটি আওয়াজ শ্রবণের মাধ্যমে।
শিরোনামে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থার এম সাকলার গ্যালারি
পেশায় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর একটি অভ্যাস ছিল মক্কার কাছাকাছি হেরা গুহায় সময় কাটানো। ৬১০ খ্রিস্টাব্দে যখন তার বয়স ৪০ তখন ওই গুহায় এক দর্শনে তিনি আরবি শব্দে একটি আদেশ শুনতে পান।
পড়! তোমার প্রভুর নামে,
যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন,
মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না।
এই আওয়াজে তিনি মানসিকভাবে ভয় পেয়ে যান। ভয়ে তিনি গুহা থেকে পালিয়ে আসেন। আল্লাহর তরফ থেকে আসা ফেরেস্তা জিব্রাইলের মাধ্যমে প্রাপ্ত সেই বাণী ফিরে এসে পুনরায় পাঠ করতে থাকেন।
ওই বার্তার মূল অর্থ হচ্ছে নতুন একেশ্বরবাদী ধর্মের নবী হচ্ছেন মুহাম্মদ (সা.) এবং তার মাধ্যমে এর (কোরআনের) মতবাদ ও বিশ্বাসের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি যা শুনেছেন তা মানুষের সঙ্গে শেয়ার করতে শুরু করেন কিন্তু সহিংস প্রতিরোধের সম্মুখীন হন এবং কাফেরদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে তিনি মদিনায় অগ্রসর হন। কুরআনের এসব বাণী ৬৩২ সালে মুহাম্মদ (সা.) এর ওফাতের পর থেকে আজো অবধি অব্যাহত আছে।
নতুন এই ধর্ম ইসলাম নামে পরিচিত হয় যার অর্থ ‘আনুগত্য’ বা ‘আত্মসমর্পণ’।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক শ্রবণকৃত কিছু অংশ বিক্ষিপ্তভাবে লেখা ছিল। কিছু অংশ নবী মোহাম্মদ (সা.) এবং তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা মুখস্ত করতেন। তাদের বয়স হওয়ার কারণে আয়াতসমূহ হারিয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। এ কারণে পাণ্ডুলিপিগুলো কপি করার উদ্যোগ নেয়া হয়।
একটি মহান প্রচেষ্টা হিসেবে বিক্ষিপ্ত আয়াতসমূহ সংগ্রহ করে তা ক্রমানুসারে সাজিয়ে এগুলো কপি করা হয় এবং সপ্তম শতাব্দীর শেষ নাগাদ এটি সম্পূর্ণ হয়। এই মহান প্রচেষ্টার চূড়ান্তরূপই হচ্ছে ‘কোরআন’। ওই যাদুঘরে প্রদর্শন করা কিছু দুর্লভ পাণ্ডুলিপি নিচে তুলে ধরা হল।
প্রদর্শনীতে আগত দর্শকরা প্রায় ১৪০০ বছরের পুরনো বড় একটি কোরআন নিয়ে অধ্যয়নরত। এটি তুর্কি মিউজিয়াম ও ইসলামিক আর্টস সেন্টার থেকে নেয়া।
কাঠ এবং চামড়ার তৈরি একটি বাঁধাই করা কোরআন যেটি নবম শতাব্দীতে তৈরি করা হয়। ১৯১১ সালে টোপকাপি প্রাসাদ থেকে এটি দামেস্কের গ্রেট মসজিদে স্থানান্তর করা হয়। পরে ১৯৪৩ সালে তুর্কি জাদুঘর ও ইসলামিক আর্টস সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।
যাদুঘরে আগত একজন পরিদর্শক পবিত্র একটি কোরআন নিয়ে অধ্যয়নরত। শত শত বছর ধরে কোরআন ক্রমবর্ধমানভাবে একটি নান্দনিক এবং ধর্মীয় শাস্ত্রীয় আচারপালনের বস্তুতে পরিণত হয়েছে।
১০২৮ সালের দুই ভাগে বিভক্ত কোরআনের একটি ভলিউম। এই ভলিউমটি সম্ভবত কায়রোতে ইমাম হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ কর্তৃক কপি করা হয়েছে।
৭৫০ সালের আগের একটি ভলিউম যেটিতে চামড়ার তৈরি কাগজের উপর কালি ও রং দিয়ে লেখা হয়েছে। এটি কাঠ এবং চামড়া দিয়ে বাঁধাই করা।
প্রায় ১৫৮০ সালের পূর্বের কোরআনের একটি একক ভলিউম। ভলিউমটি ইবনে আল কাদীর ইবনে আব্দিল ওয়াহহাব সিরাজ কর্তৃক কপি করা হয়েছে।
প্রদর্শনীতে আগত দর্শকরা তাদের স্মার্টফোনে এসব দুর্লভ পাণ্ডলিপির ছবি তুলে নিচ্ছেন। এর কিছু দেখতে স্মার্টফোনের চেয়েও ছোট, কিছু কার্পেট আকারের।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 64 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ