ক্রিকেটারদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে আসিনি : আমব্রিন

Print
ক্রিকেটারদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে আসিনি : আমব্রিন

‘লাক্স-তারকা’ বলে আলাদা একটা পরিচয় তার ছিলই। কিন্তু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) রীতিমতো তাকে বড় পরিসরে তারকাখ্যাতি এনে দিয়েছে। আমব্রিনা সারজিন আমব্রিন ২০ ওভারের এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণও। সঞ্চালনার থাকা বাকপটু এই মডেল, অভিনেত্রী রোববার মুখোমুখি হলেন পরিবর্তন ডটকমের। আড্ডায় বিপিএল অভিজ্ঞতার গল্প শোনালেন আমব্রিন। সেই কথোপকথনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো এখানে-

বিপিএল শেষ হতে চললো। কী, মন খারাপ?

আমব্রিন: এটা ঠিক খুব আনন্দে যে সময়টা কাটছে তা শেষ হতে যাচ্ছে। কিন্তু মন খারাপ হবে কেন? সব কিছুই তো একটা সময় শেষ হয়। আরেকটা কিছু শুরুর প্রতিশ্রুতি রেখেই তো একটা কিছু শেষ হয়। আবার বিপিএল আসবে, সেই প্রতীক্ষাতেই শেষ হবে এবারের আসর।

পরেরবার তো প্রচারস্বত্ব চ্যানেল নাইনের কাছে থাকছে না। জিটিভি আর মাছরাঙা দায়িত্ব নিচ্ছে। তাদের সঙ্গে কি আপনার কোনো কথা হয়েছে?

আমব্রিন: না; এখনো কোন কথা হয়নি। আমি অবশ্য বর্তমান নিয়েই ভাবছি। এই সময়টা, সঞ্চালনার এই দায়িত্বটা প্রাণভরে উপভোগ করছি। ভবিষ্যতের ব্যাপারটা ভবিষ্যতের জন্যই তোলা থাক।

প্রতিদিন দুটো করে ম্যাচ। বারবারই লাইভে হাজির হতে হচ্ছে। কেমন উপভোগ করছেন প্রতিদিনের এই রুটিন?

আমব্রিন: সত্যি বলতে কী, প্রতিদিনই একেকটা নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছি। যারা লাখো-কোটি মানুষের কাছে সেলিব্রেটি, প্রতিদিন তাদের মুখোমুখি হচ্ছি। কথা বলতে গিয়ে একটু একটু করে অনেক কিছু শিখছি।

আপনি নিজেও তো বিপিএলে সঞ্চালনা করতে গিয়ে সেলিব্রেটির মর্যাদা পাচ্ছেন। যখন হেঁটে যান, সবাই যখন তাকিয়ে বলে ওই যে আমব্রিন যাচ্ছে, তখন কেমন লাগে?

আমব্রিন: সেদিন আমি এটা শুনে অবাকই হলাম যে প্রত্যেক দিন আমাকে ৫০ লাখ মানুষ গোটা বিশ্বে দেখছে। এমন প্রচারণার আলোয় প্রতিটা দিন থাকছি, ধারণাই ছিল না। আবার এমনও হচ্ছে অনেকে আমাকে দেশের বাইরের কেউ বলেও ভুল করছেন। অনেক সময় কোনো প্লেয়ার কিংবা কোচের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে তখন তাদের কাছেও শুনতে হচ্ছে, হোয়ার আর ইউ ফ্রম? তখন আমি বলি যে আমি বাংলাদেশের। ওরা অনেকেই তখন চমকে যায়। এটা নিয়ে অনেক প্রাউড ফিল করি আমি। কারণ আমি দেশের আন্তর্জাতিক মানের একটা ইমেজ তৈরি করতে পেরেছি। আমি দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্র্যান্ডিং করছি।

বিপিএলের সঞ্চালক হওয়ার আগে ক্রিকেটে কি কোনো আগ্রহ ছিল আপনার? খেলা দেখতেন নিয়মিত?

আমব্রিন: সেই ছোটবেলা থেকেই আমি আমার ভাই, কাজিনদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতাম। ছোটবেলায় যখন আমাকে আউট দিত তখন মানতে চাইতাম না। বল করার চেয়ে ব্যাটিংই বেশি ভাল লাগতো। আমাদের বাড়ির উঠানে সবাই মিলে ক্রিকেটে মেতে থাকতাম।

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মেহরাব হোসেন অপি আপনার আত্মীয়?

আমব্রিন: হ্যাঁ; ঠিকই শুনেছেন। তিনি আমার কাজিন।

শুনেছি, আপনার একেবারে প্রথম জীবনটা কেটেছে দেশের বাইরে?

আমব্রিন: ঠিক তাই। আমার মা শ্রীলঙ্কান। বাবা তো বাংলাদেশি। আর আমার জন্ম লিবিয়ায়। আমার বাবা সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাসে চাকরি করতেন। অনেকগুলো সংস্কৃতি দেখে বেড়ে উঠেছি আমি।

ক্রিকেট সঞ্চালনায় এসে তাহলে অন্যসব ব্যস্ততা সরিয়ে রেখেছেন?

আমব্রিন: কিছুই করার নেই আসলে। এখন আমার ২৪ ঘণ্টা জুড়েই থাকছে বিপিএল। এই আসরের জন্য অন্য কোনো কাজ করতে পারছি না। বিপিএল শেষে লম্বা একটা ছুটি নিচ্ছি। গত কিছুদিন একটানা কাজ করলাম। ৯ ডিসেম্বর ফাইনাল শেষেই লাগেজ গুছিয়ে নেবো। কানাডা আর যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে যাবো। আমার ছুটি দরকার।

বিপিএলে কাজ করতে গিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বন্ধুত্বটাও নিশ্চয়ই হচ্ছে?

আমব্রিন: সত্যি বলতে কী, এখানে আমি বন্ধু তৈরি করতে আসিনি। আমার এখানে কাজ করতে হবে। কারণ, এখন যদি আমি ফ্রেন্ডশিপের দিকে বেশি খেয়াল রাখি, তবে আমার কাজের ক্ষতি হবে। এমন ঝুঁকি আমি কোনোভাবেই নিতে চাই না। সবচেয়ে বড় কথা আমি আমার দেশের ইমেজকে বহন করছি। তবে আমি যখন মাঠে যাচ্ছি, দেখছি সবাই আমার নামটা জানে।

ক্রিকেটের ব্যস্ততা শেষে ছুটি এরপরই যেমনটা বলছিলেন ক্যারিয়ারে মন দেবেন। সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব কি এসেছে? বিপিএলে কাজ করতে গিয়েই তো সিনা চৌহান মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর ‘পিপড়া বিদ্যায়’ ডাক পেয়েছিলেন?

আমব্রিন: বিপিএলের আগেই অবশ্য আমি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কিন্তু আমি বুঝে-শুনে এগিয়ে যেতে চাই। কে জানে আগামী বছরই হয়তো সিনেমায় প্রথমবারের মতো অভিনয় করতে পারি।

যেমনটা বলছিলেন, প্রতিদিন নতুন একটা চ্যালেঞ্জ; নতুন পরীক্ষা। নিজেকে এই পরীক্ষার জন্য কিভাবে প্রস্তুত করেন?

আমব্রিন: সত্যি বলতে কী নিজেকে প্রস্তত করার সময়ই পাই না। সকাল আটটায় ঘুম থেকে ওঠে আমি মেকাপের জন্য রেডি হয়ে যাচ্ছি। মাঠে আসছি। এমনকি গাড়িতে করে মাঠে আসার সময় ক্রিকেট নিয়ে আমাকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।  গাড়িতে বসে আগে যেমনটা করতাম; ফেসবুকিং। এখন ক্রিকেট নিয়ে চলে গবেষণা। কে খেলছে, কার কত পয়েন্ট। কে অফ-ফর্মে, কে রানের মধ্যে আছেন, এইসব নিয়ে পড়াশোনা করি। সত্যি বলতে কী এটাই আমি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 198 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ