ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণেই আসছে জেলা পরিষদ

Print

%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%87প্রথমবারের মতো নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জেলা পরিষদগুলোতে। তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইসি এরই মধ্যে তফসিলও ঘোষণা করেছে। নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট জেলার যে কোন ব্যক্তিই প্রার্থী হওয়ার অধিকার রাখেন। এর পরও পরিষদগুলোর ভোটে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মিলছে না। ফলে অনেকটা বিপাকেই পড়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থীরা।
বিব্রতকর পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনও (ইসি)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি ও প্রথমবারের মতো সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসা জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী প্রার্থীর বিপক্ষে এলাকার সাধারণ কোনো লোক প্রার্থী হতে এগিয়ে আসছেন না। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও। অনেক এলাকায় ভোটকে কার্যকর করতে নিজেদের লোকদেরই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। যে কারণে জেলা পরিষদগুলো মূলত আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণেই চলে আসছে।
তিন পার্বত্য জেলা বাদ দিয়ে বাকি ৬১ জেলায় প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে ভোট হচ্ছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে। বাছাই ৩ ও ৪ ডিসেম্বর; প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১১ ডিসেম্বর। ভোট হবে ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত। নির্দলীয় এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ৬১ জেলায় একক প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করে শুক্রবার তালিকা প্রকাশ করেছে। তবে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি এ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশের যে কোনো ভোটার জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারলেও ভোট দিতে পারবেন না। আর জনপ্রতিনিধিরা ভোটার হলেও প্রার্থী হতে পারবেন না। সংসদ, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন হলেও জেলা পরিষদ আইনে প্রত্যক্ষ ভোটের বিধান নেই। প্রত্যেক জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি কর্পোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউপির চেয়ারম্যান ও সদস্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটার হবেন। তাদের ভোটেই পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হবেন। এ হিসেবে স্থানীয় সরকারের চার ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬৭ হাজার নির্বাচিত প্রতিনিধি এ নির্বাচনে ভোট দেবেন।
বিএনপির দায়ত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। ‘গত কয়েক বছরে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি, তাই নির্বাচন অর্থহীন’ এই উপলব্ধি থেকেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না দলটি। বিএনপি মনে করছে, ২০১৪ সালের পর স্থানীয় সরকারের কোনো স্তরেই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। সব জায়গায় ভোট ডাকাতির মাধ্যমে দলের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করেছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচন ব্যবস্থাকে আওয়ামী লীগ ধ্বংস করে ফেলেছে। এ অবস্থায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ হাস্যকর। বিএনপি মূলত দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন আশা করছে এবং সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
এবিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বিএনপি জেলা পরিষদ নির্বাচন চায় না, বিএনপি চায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন। এসব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার আসলে কালক্ষেপণ করছে। জনগণের মূল দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে এই নির্বাচনকে অর্থহীন আখ্যা দিয়ে এতে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় পার্টিও। দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এ বিষয়ে জানিয়েছেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকায় এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কোনো লাভ হবে না। এ কারণে জাপা নির্বাচনে যাচ্ছে না।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথমবারের মতো নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করার উদ্যোগটি খুবই আশাব্যঞ্জক ছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ নির্বাচনে অংশ না করায় এটিতে আর আগ্রহ নেই সাধারণ মানুষের। সব জেলা পরিষদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়ে আসছেন, এটা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়তো সম্ভব কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নাও আসতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নতুন করে জেলা পরিষদ আইন প্রণয়ন করে। এরপর জোট সরকারের আমলে এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। পরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জেলা পরিষদ পরিচালনা করছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকারের বৃহত্তম এই প্রতিষ্ঠানটির নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়া হয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 47 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ