গুলি ছুড়ে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে যুবলীগ নেতার বিয়ে

Print

%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%9b%e0%a7%81%e0%a7%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%95%e0%a7%87রাজশাহীর বাগমারায় ফিল্মি স্টাইলে গুলি ছুড়ে এক স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে বিয়ে করেছেন এক যুবলীগ নেতা। শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ কাজে তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সাহায্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়রের বাড়িতে ছাত্রীর পরিবারের অনুপস্থিতি ও অমতে বিয়ে হয় বলে জানা গেছে। অপহৃত স্কুলছাত্রী স্থানীয় জামগ্রাম স্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। জানা যায়, উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা ও তার সহযোগী মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী শুক্রবার রাত আটটার দিকে নুরপুর মহল্লার আবদুল জব্বারের মেয়ে স্কুলছাত্রী পিংকি খাতুনকে (১৪) অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে মেয়রের বাড়িতে নিয়ে যায়। ছাত্রী অপহরণের খবর পেয়ে বাগমারা থানা পুলিশ মেয়রের বাড়িতে যায়। তবে কিছুক্ষণ অবস্থান করে পুলিশ বেরিয়ে আসে। পুলিশ চলে যাওয়ার পরই ছাত্রীর পরিবারের উপস্থিতি বা সম্মতি ছাড়াই অপহরণকারী যুবলীগ নেতা সোহেল রানার সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে দেন মেয়র। মেয়ের পরিবার যাতে পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে না পারে সে জন্য যুবলীগ ক্যাডাররা শুক্রবার রাত থেকেই পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। শনিবার সারা দিন মেয়ের বাবার বাড়ির আশপাশে ও বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তার মুখে ছিল পাহারা।
নাম প্রকাশ না করে অপহৃত স্কুলছাত্রীর এক ভাই বলেন, ‘আমরা খুবই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার বোনকে অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সরাসরি মেয়রের বাড়িতে নিয়ে যায় সোহেল রানা। পরে কাজী ডেকে মেয়র আমার বোনকে জোরপূর্বক সোহেল রানার সঙ্গে বিয়ে দেন। আমাদের পরিবারের কেউ ওই বিয়েতে উপস্থিত ছিল না। বিয়েতে আমাদের সম্মতি নেই। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে আমরা কোনো অভিযোগ দিতে পারছি না।’
প্রতিবেশী কয়েকজন জানান, তাহেরপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা (২৪) কিছু দিন ধরে ওই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। শুক্রবার বিকালে সে ও তার সহযোগী মিজানসহ ১০/১২ জন সরাসরি নুরপুর মহল্লায় স্কুলছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এ সময় স্কুলছাত্রীর বাবা-মা মেয়ের বয়স না হওয়ায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাত আনুমানিক আটটার দিকে সোহেল রানা ও মিজানের নেতৃত্বে সশস্ত্র ১২/১৪ জন ৮টি মোটরসাইকেলযোগে ওই ছাত্রীর বাড়িতে হানা দেয়। তারা বাড়িতে ঢুকে প্রথমে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতংক সৃষ্টি করে এবং ভাংচুর চালায়। পরে পরিবারের সদস্যদের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ওই ছাত্রীকে ঘর থেকে বের করে এনে কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়।
জানতে চাইলে বাগমারা থানার ওসি বলেন, অপহরণের খবর পেয়ে পুলিশ সম্ভাব্য স্থানে উদ্ধারে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ জানতে পারে মেয়েটি তাহেরপুর পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে রয়েছে। পরে মেয়রের সহযোগিতায় মেয়েটিকে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে পুলিশের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন স্কুলছাত্রীর পরিবারের এক সদস্য। নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ মিথ্যা কথা বলছে। পুলিশ কোনো উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেনি। বরং পুলিশ যখন মেয়রের বাড়িতে যায় তখন মেয়ে, অপহরণকারী সোহেল রানাসহ সশস্ত্র ক্যাডাররা ওখানেই ছিল। পুলিশ মেয়রের বাড়িতে কিছুক্ষণ অবস্থান করে ফিরে যায়।’
স্কুলছাত্রী অপহরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তাহেরপুর পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘অপহরণের খবর পেয়ে যুবলীগ নেতা সোহেল ও মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়েটিকে তিনি নিজের হেফাজতে নেন। পরে পুলিশকে ডেকে মেয়েটিকে পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেন। তবে রাতে দুই পরিবারের সম্মতিতে ছেলেমেয়ের বিয়ে পড়ানো হয়। এ ব্যাপারে কারও কোনো অভিযোগ নেই।’
জানতে চাইলে বিয়ের কাজী আবদুল মালেক বলেন, ‘বিয়েতে ছেলেমেয়ের সম্মতি ছিল। তাই বিয়ে পড়িয়েছি।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 63 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ