গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রিচার্জ ব্যবসায়ীরা

Print

মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা নিয়ে বিটিআরসির গণশুনানি গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রিচার্জ ব্যবসায়ীরা      

মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা সম্পর্কিত গণশুনানির আয়োজন করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আজ মঙ্গলবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়৷ ছবি: আবদুস সালাম

মোবাইল অপারেটররা প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের অফার দিচ্ছে। সেই অফারের দিকে ঝুঁকছেন গ্রাহকেরাও। একজন গ্রাহকের অভিযোগ, ২৯ কিংবা ৫৯ টাকার মতো এমন অঙ্কে বিভিন্ন অফার দিয়ে রিচার্জকারীদের বাড়তি আয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর। কারণ, ২৯ টাকা রিচার্জের জন্য ৩০ টাকা দিলে ব্যবসায়ীরা বাকি এক টাকা ফেরত দেন না। এভাবে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন রিচার্জ ব্যবসায়ীরা।

মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আয়োজিত গণশুনানিতে এ অভিযোগ করেন মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নামের এক গ্রাহক। বিষয়টি বন্ধে তিনি বিটিআরসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আজ মঙ্গলবার বিকেলে বিটিআরসির গণশুনানি শুরু হয়। প্রথমবারের মতো আয়োজিত গণশুনানিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ব্যাংক কর্মকর্তা, আইনজীবী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী ও রিচার্জ ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। তারা অপরেটরদের স্বেচ্ছাচারিতা, মোবাইলে কলড্রপ, বয়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশন, টেলিটকের দুর্বল নেটওয়ার্ক বিষয়ে অভিযোগ করেন। কেউ কেউ মতামতও দেন।

 

গণশুনানিতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবীব খান, কমিশনার জহুরুল হক ও সালেহ আহমাদ হাকিম, মহাপরিচালক মো. এমদাদ উল বারি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট গ্রাহকদের কথা শোনেন।

অনেক সময় মোবাইল অপারেটররা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রিচার্জ করলে বিভিন্ন উপহার দেওয়ার অফার দেয়। এ বিষয়ে গ্রাহক ওয়াহিদ জুবায়েরের অভিযোগ, ‘এত টাকা রিচার্জ করলে মগ দেওয়া হবে। এটা কেমন যন্ত্রণা?’

জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন পুরান ঢাকায় যান তরুণ রুবেল হোসেন। কিন্তু পুরান ঢাকার অলিগলিতে প্রায়ই মোবাইলের নেটওয়ার্ক পেতে সমস্যা হয়। তাঁর পরামর্শ, থ্রিজি ও ফোরজি চালু করার আগে অপারেটরদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ জন্য বিটিআরসিকেই উদ্যোগ নেওয়া দরকার।untitled

অবশ্য রিচার্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, সবার বেতন বাড়লেও অপারেটরগুলো তাঁদের কমিশন বৃদ্ধি করেনি।। বিটিআরসির কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কত দিচ্ছে, আপনারা কেন প্রশ্ন করেন না।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী উম্মে কুলসুম বলেন, ‘হলের ভেতর রুমে গেলেই নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। কথা বলতে হলে রুমের বাইরে আসতে হয়। বিষয়টি নিয়ে হলের ছাত্রীরা খুব সমস্যায় আছেন।’ আরেক শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়। সে জন্য ৫০ টাকায় এক জিবি ইন্টারনেট দিলে শিক্ষার্থীদের উপকার হয়। সেই প্যাকেজে যেন সারা দিন ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়।

আমিনুল ইসলাম নামের এক গ্রাহক বলেন, ‘অপারেটরগুলো যেসব অফার দেয়, তার অধিকাংশই রাতের বেলায় প্রযোজ্য। এটি তাদের ব্যবসায়িক কৌশল হতে পারে। কিন্তু এসব অফার আমাদের তরুণসমাজকে ভিন্ন দিকে ধাবিত করছে। যখন তাঁদের বই নিয়ে পড়াশোনা করার কথা ছিল, তখন তাঁরা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকছেন। বিষয়টি নিয়ে বিটিআরসিকে চিন্তাভাবনা করা দরকার।’

কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে অপারেটরগুলো অগ্রিম অর্থ দেয়। পরে রিচার্জ করলে অগ্রিম যে অর্থ নেওয়া হয়েছিল তার চেয়ে বেশি অর্থ কাটা হয়। একজন গ্রাহকের নামে কয়টি সিম নিবন্ধন করা আছে, সেটির তথ্য গ্রাহক চাইলে জানতে পারছেন না। পথে-ঘাটে একজনের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে অন্যজনের সিম নিবন্ধন হচ্ছে। কলড্রপ হলেও অনেক সময় ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না অপারেটর। আবার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে কি পাচ্ছে না, সেটির তথ্যও জানছেন না গ্রাহক।

বিটিআরসির মহাপরিচালক এমদাদ উল বারি বলেন, ‘গ্রাহকদের ত্যক্ত-বিরক্ত করলে পয়সা দেওয়া উচিত। আমরা ইতিমধ্যে রাতে এ ধরনের এসএমএস পাঠানো বন্ধ করেছি। একই সঙ্গে কোনো গ্রাহক যদি প্রমোশনাল এসএমএস পেতে না চান, সেটির একটি ব্যবস্থা থাকতে হবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করব। তবে সরকারি তথ্যের এসএমএস আমরা বন্ধ করব না।’

চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ছয় মাস অন্তর গণশুনানি হবে। প্রয়োজনে ঢাকার বাইরে বড় শহরে গণশুনানি করা যায় কি না, সেটি ভেবে দেখা হবে। এ ছাড়া আজ গ্রাহকেরা যেসব উদ্বেগ ও প্রশ্ন করেছেন, তা আগামী শুনানির আগেই সমাধান হবে। কোনোটি না হলেও সেটির অগ্রগতি জানা যাবে।

গণশুনানিতে কোনো মোবাইল অপারেটর কোম্পানির প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। যদিও বিটিআরসি আগে বলেছিল, অপারেটরদের প্রতিনিধি থাকবে। আজ বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন প্রশ্ন করলে বিটিআরসির কর্মকর্তারা বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগ অপারেটরের কাছে পৌঁছে দেবে সংস্থাটি। ৪২০ জন নিবন্ধিত গ্রাহক গণশুনানিতে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও উপস্থিতি ছিলেন বেশ কম।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 58 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ