ঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশ, বন্ধুর যাবজ্জীবন

Print

%e0%a6%98%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%9d%e0%a7%87-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%81%e0%a7%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b6-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%81কিশোরগঞ্জে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রুবেল হত্যা মামলায় তাঁর বন্ধু রফিকুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের বিচারক এ জি এম আল মাসুদ।
আজ মঙ্গলবার দেওয়া রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশের পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানার আদেশ দেন বিচারক। রায় ঘোষণাকালে আসামি এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।
২০১১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ড শহরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। নিহত রুবেল দুই শিশু ছেলের জনক ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, জেলা শহরের চর শোলাকিয়া বাগপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম রুবেলের (৩৬) সঙ্গে একই এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের (৩৫) বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। রুবেল জেলা শহরের তেরীপট্রি এলাকায় ফুটপাতে গেঞ্জির ব্যবসা করতেন। রফিকুল ইসলাম এলাকার এইচ এম সুপার মার্কেটের মালিক ছিলেন। একপর্যায়ে ব্যবসার জন্য রফিকুল ইসলামের মালিকানাধীন মার্কেটের একটি দোকান এক লাখ টাকা জামানত ও মাসিক চার হাজার টাকা ভাড়ায় নিতে রুবেলের মৌখিক সমঝোতা হয়। সেই মোতাবেক ২০১১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রুবেল অগ্রিম বাবদ ৮০ হাজার টাকা দেন এবং ২ অক্টোবর দোকানঘর বুঝিয়ে দেবে বলে রফিকুল ইসলাম আশ্বস্ত করেন।
পরে ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে দোকান হস্তান্তর সংক্রান্ত আলোচনার জন্য রুবেলকে মুঠোফোনে খবর দিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন রফিকুল ইসলাম। রাত ১১টার দিকে এক পর্যায়ে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত পানি পান করিয়ে রুবেলকে অচেতন করে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রফিকুল ইসলাম। হত্যার পর রফিকুল ইসলাম নিজ বাড়ির একটি কক্ষের মেঝে খুঁড়ে রুবেলের লাশ পুঁতে রাখে।
অপরদিকে বহু খোঁজাখুঁজির পরও রুবেলের সন্ধান না পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ এ ব্যাপারে তদন্ত চালিয়ে প্রথমে রফিকুল ইসলামকে আটক করে। তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তি মতে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে তৎকালীন পুলিশ সুপার মীর রেজাউল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই ঘরের মেঝে খুঁড়ে রুবেলের লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় রুবেলের স্ত্রী কল্পনা আক্তার বাদী হয়ে রফিকুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক শামসুল হাবীব ২০১২ সালের ১ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আমিনুল হক চৌধুরী চুন্নু এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন মামলাটি পরিচালনা করেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 70 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ