চার মাস ধরে খুঁজেও একটি কারখানা পাচ্ছে না পুলিশ!

Print

%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%a7%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%81%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%93-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%beচলতি বছরের ৩০ জুলাই। পুরনো ঢাকার সরদার মেডিসিন মার্কেটের সামনে থেকে শফিকুল ইসলাম (৩৭) নকল ওষুধসহ আটক হন। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ নকল ট্রাইসেফ ক্যাপসুল। এটি একটি অ্যান্টিবায়োটিক। ওষুধটির আসল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হলো এমবি ফার্মসিউটিক্যালস লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানটির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারাই হাতেনাতে ধরেন শফিকুলকে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাও হয় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। চার মাস হলেও এখন পর্যন্ত মামলাটির তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি নকল কারখানাটির সন্ধানও পায়নি তারা।
এমবি ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১৬ সালে ট্রাইসেফ ওষুধটির সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। এরই মধ্যে খবর পাওয়া যায় নকল ট্রাইসেফ ওষুধ বিক্রি করছে একটি চক্র। গোপন খবরের ভিত্তিতে জানতে পারেন, মিটফোর্ডে এক লোক তাদের কাছে নকল ওষুধ বিক্রি করতে আসছে। এমন খবরের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির সার্ভে কর্মকর্তারা শফিকুলকে নকল ওষুধসহ আটক করেন। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায়; মামলাও করা হয়। গ্রেপ্তারের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় জামিন পান শফিকুল। অবশ্য গত অক্টোবর থেকে ট্রাইসেফ ওষুধটির সরবরাহ ফের শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা আমাদের সময়ের কাছে অভিযোগ করেন, শফিকুলকে ধরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মামলা না করতে চাপ দিতে থাকেন ছাত্রলীগ পরিচয় দেওয়া একদল যুবক। তারা বলতে থাকেন, মামলা করে কোনো লাভ নেই। আদালতে হাজিরা দিতে এলে সবগুলোর পা ভেঙে দেওয়া হবে। নানা চাপ সত্ত্বেও ওই দিন ভোররাতে মামলা করা হয়।
এমবি ফার্মাসিউটিক্যালসের অপর এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ঈদে বকশিশসহ নানা সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। নকল ওষুধ পরীক্ষার জন্য নিয়েছেন আরও ১০ হাজার টাকা। তারপরও কারাখানাটি খুঁজে বের করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। কারখানাটি খুঁজে পাওয়া গেলে পুরো চক্রটি ধরা যেত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলায় শফিকুলকে ১ নম্বর আসামি করা হয়। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরেরর মতলব থানার ছোট মরাদোন। এক সময় ডেমরা থানার কোনাপাড়া এলাকায় একটি ফার্মেসি ছিল শফিকুলের। মামলায় ২ নম্বর আসামি করা হয় মোশাররফ হোসেন (৮২) নামে এক ব্যক্তিকে। শফিকুল দাবি করেন, মোশারফ হোসেনের কাছ থেকে ওষুধ আনতেন তিনি। মোশাররফ হোসেন নিজেও একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত বলে জানা গেছে।
এমবি ফার্মাসিউটিক্যালসের সার্ভে ইনচার্জ মো. জহিরুল হক আমাদের সময়কে বলেন, আমরা পুলিশকে বলেছিলাম অন্তত কারখানাটি খুঁজে বের করেন; কিন্তু এতদিন পেরিয়ে গেলেও তারা এখন পর্যন্ত সেটি করতে পারেনি।
এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার এসআই মুরাদ খান আমাদের সময়কে বলেন, এখনো কারাখানার সন্ধান পাওয়া যায়নি। মোশাররফ হোসেনের ব্যাপারেও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 54 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ