ছেলেকে ডাক্তার বানাতে তেলের ঘানি টানছেন বাবা-মা

Print

%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a7%87প্রতিটি বাবা-মাই চাই সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মত মানুষ করতে। বাবা-মা ধনী কিংবা গরীব হোক, প্রত্যেকের উদ্দেশ্য একই। কিন্তু সেই সক্ষমতা সমাজের সব বাবা-মার থাকে না। তবে সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে দারিদ্রতা যে কোনো বাধা নয়, নিজেদের ইচ্ছা শক্তিই যথেষ্ট সেটা প্রমাণ করছেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সরল গ্রামের নূরুল-পারুল দম্পত্তি।
তারা এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা-মা। গরু কেনার সামর্থ নেই তাই নিজেরাই ঘানি (তেল) টেনে ছেলেকে পড়াচ্ছেন বেসরকারি একটি মেডিকেল কলেজে। আর মেয়েটি পড়ছে স্থানীয় উচ্চ মাধ্যমিক একটি প্রতিষ্ঠানে।
ছেলে ও মেয়ে উভয়ই ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করেন। এরপর ছেলেটি ২০০৯ সালে জিপিএ গোল্ডেন এ প্লাস নিয়ে পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১১ সালে পাইকগাছা কলেজ থেকে জিপিএ ৫ নিয়ে এইচএসসি পাস করে প্রথমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিসারিজ বিভাগে ভর্তি হন।
এরপর খুলনার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ হওয়ায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অব্যহতি নিয়ে গরীব ও মেধাবী কোটায় বেসরকারি ওই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি মেডিকেলের শেষ বর্ষের ছাত্র।
পাইকগাছা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সরল গ্রামের গর্বিত নূরুল হক গাজী জানান, সহায়সম্বল বলতে মাত্র দুই শতক জমির উপর বসতবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। দিন মজুর ও ঘানি টেনে চালাতে হয় সংসার। এরপর রয়েছে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া। ঘানি টানা হচ্ছে তার বাবার পেশা। তবে তিনি যখন বেঁচে ছিলেন তারা গরু দিয়েই ঘানি টানতেন।
কিন্তু অভাব অনটনের কারণে আমার একটি গরু কেনারও সামর্থ নাই। তাই বাধ্য হয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনই গত ১৫ বছর যাবৎ ঘানি টানার কাজ করে আসছি। বাজার থেকে সরিষা কিনে এনে প্রতি ২-৩ দিন পরপর সরিষা মাড়াই করে তেল তৈরি করি।
তিনি জানান, প্রতিবার সাড়ে ৪ কেজি সরিষা মাড়াই করতে প্রায় ৪ ঘণ্টা দুই মণ ওজনের ঘানি টানতে হয়। প্রতি কেজি সরিষায় ৩শ মি.লি. তেল হয়। যা বাড়িতেই বসে ২শ ৫০ টাকা করে প্রতি লিটার বিক্রি করা হয়। এতে খরচ বাদে ১৫০ টাকা মত লাভ হয়। এছাড়া সময় পেলেই করেন দিন মজুরের কাজ।
এভাবেই অভাব অনটনের মধ্যদিয়েই সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে হয়। সংসার কোনো রকমে চললেও ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হয়। অনেক সময় ধার দেনা করে খরচ যোগাতে হয়।
এমন অভাব অনটনের মধ্যদিয়েও ছেলে মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করা প্রসঙ্গে এ দম্পত্তি জানান, ইচ্ছে ছিল ছেলে মেয়েকে মানুষের মত মানুষ করবো। শত অভাব অনটনের মাঝেও আল্লাহ সেই ইচ্ছা পুরণ করছেন। প্রথম দিকে সংশয় প্রকাশ করলেও এখন মনে হয় সন্তানের লেখাপড়ার জন্য দারিদ্রতা কোনো বাঁধা নয়। ইচ্ছা শক্তিটাই যথেষ্ট।
জীবন সংগ্রাম অনেক কষ্টের হলেও ছেলে মেয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে জেনে নিজেদেরকে গর্বিত পিতা-মাতা মনে হয়। সন্তানরা যখন লেখাপড়া শেষ করে দেশ জাতির ও সমাজের জন্য উপকারে আসবে তখন আমাদের সারা জীবনের ত্যাগ ও কষ্ট সার্থক হবে।
আমরা চাই, দারিদ্রতার কারণে যেন কোনো পরিবারের মেধাবী সন্তান ঝরে না পড়ে। এজন্য প্রত্যেক বাবা-মাকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 186 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ