‘জামায়াতকে নিয়েই চলবে বিএনপি’

Print

%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bfজোটসঙ্গী জামায়াতকে নিয়ে কম সমালোচনা শুনতে হয়নি বিএনপিকে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরা তো আছেই, সেই সঙ্গে আছে আন্দোলনের নামে নাশকতার অভিযোগ। দেশের ভেতর, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল এমনকি আদালত থেকেও জামায়াত পরিত্যাগের পরামর্শ বা পর্যবেক্ষণ এসেছে। মাঝেমধ্যে বিএনপি নেতারাও প্রকাশ্যেই জামায়াতের বিষয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। গত জুলাইয়ে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিএনপির একাধিক নেতা প্রকাশ্যেই জামায়াত ছাড়ার কথা বলে আসছিলেন। বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী এমাজউদ্দিন আহমেদ স্পষ্টতই বলেছিলেন, জামায়াত ছাড়ার সময় এসেছে। আর জামায়াতও সরে দাঁড়াতে পারে- এমন কথাও তিনি জানিয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে জোটবদ্ধ হওয়ার পর ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতকে নিয়ে দারুণ ফলাফল করে বিএনপি। কিন্তু ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতকে নিয়েই ভরাডুবি হয় বিএনপির। ওই নির্বাচনের পরই বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াত ছাড়ার দাবি উঠে। নির্বাচনে ভরাডুবির কারণ অনুসন্ধানে গঠন করা বিভাগীয় কমিটির মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সবগুলো প্রতিবেদনেই জামায়াত ত্যাগের পরামর্শ দেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু সেই সুপারিশ মানেননি খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতারা জানান, আন্দোলনে জামায়াত-কর্মীদের দরকার- প্রধানত এই চিন্তা থেকেই বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন জোটনেত্রী। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে নজিরবিহীন সহিংসতার পর জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট নিয়ে প্রকাশ্য আপত্তি জানায় বাংলাদেশের দাতা ও বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর একটি অংশ। নির্বাচনের পর বিদেশি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও খালেদা জিয়া সময় মতো জামায়াত ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় আসেনি। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। ফলে দলের প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নেয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে দলটি। তারপরও জামায়াত সমর্থকদের ভোটের কথা চিন্তা করে জোট টিকিয়ে রেখেছেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যেও প্রায়ই দুই দলের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির খবর আসে। আর নানা সময় বিএনপির জামায়াত ত্যাগের সম্ভবনার কথা আসে গণমাধ্যমে। তবে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া গত শুক্রবার নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাকে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। খালেদা জিয়ার প্রস্তাবটি এমন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল অথবা স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সবগুলো দলের সঙ্গে পৃথক পৃথক আলোচনায় বসতে হবে। এই শর্ত মানলে জামায়াতের সঙ্গেও বৈঠক করতে হবে রাষ্ট্রপতিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান ‍কলিমুল্লাহ বলেন, ‘বিএনপি জামায়াতকে ছাড়বে না, সেটার আভাস দলটির চেয়ারপারসন দিয়েছেন। আর দলটি তো তাদের সঙ্গে এখনো জোটে আছে। সুতরাং জামায়াতকে নিয়েই বিএনপি এগুবে বিষয়টি এখন স্পষ্ট।’ জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘জামায়াতকে তো বিএনপি বাদ দেয়নি। সুতরাং জামায়াত ছাড়ার প্রশ্ন তো আসে না।’ মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের পাঁচ শীর্ষ নেতার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। একজনের আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় কার্যকর হয়েছে। আরও দুই নেতার ফাঁসির আদেশ হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বন্ধের দাবিতে জামায়াতের কর্মসূচিতে সহিংসতায় দলটির অনেক নেতাকর্মী নিহত-আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন সকল পর্যায়ের অধিকাংশ নেতা। এসব কারণে দলটি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ট্রাইব্যুনালে একাধিক রায়ের পর্যবেক্ষণে জামায়াতকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগে সব সামাজিক, রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করা হয়েছে। আদালতের এমন পর্যবেক্ষণের পর জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা উচিত কি না- জানতে চাইলে বিএনপি নেতা জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘জামায়াতের বিচারে যে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়েছে, সেটির মান তো আন্তর্জাতিক নয়। আর যারা মূল অপরাধী তাদের বিচার না করে সহযোগীদের বিচার করা হল। এর তো মানে হয় না। এসব তো ইতিহাস হবে একদিন।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতের বিষয়টি তো বিতর্কিত। তবে দলের চেয়ারপারসন যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেটি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হতে পারে। আলোচনায় বসলে সমাধান বের হয়ে আসবে।’ গত ১ জুলাই গুলশানে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঐক্য চাইলে বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে হবে। ১৪ জুলাই খালেদা জিয়া বিশিষ্ট নাগরিক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানেও জামায়াত ছাড়ার দাবি ওঠে। বিএনপির অভ্যন্তরেই জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের দাবি জোরালো হয়। ১৬ জুলাই একই আভাস দেন বিএনপিঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ। তিনি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, জাতীয় স্বার্থে জামায়াতই হয়ত জাতীয় ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে দাঁড়াবে। তবে বিএনপি নেতারা এ ইস্যুতে কোনো কথা বলেননি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যের আলোচনা যখন শুরু হবে, তখন জামায়াতের ব্যাপারটি দেখা যাবে।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 70 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ