ঝিনাইদহে বিকাশ প্রতারণা বেড়েই চলছে! (ভিডিও সহ)

Print

bkash
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহ সদর থানার হলিধানীর নাটাবাড়ীয়া গ্রামের শাপলা নামের এক গৃহবধু এবার বিকাশ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, নাটাবাড়ীয়া গ্রামের মো: জামাল উদ্দিনের স্ত্রী শাপলা খাতুনের আনুমানিক দুই বছর পূর্বে বিয়ে হয়।

বিয়ের পরপরই জামাল মালেশিয়ায় চলে যাওয়ার পরে শাশুড়ীকে নিয়ে শাপলা নাটাবাড়ীয়া গ্রামে বসবাস করে। শুক্রবার শাপলার কাছে অনুমানিক ১২ টার সময় অপরিচিত এই (০১৭৭৪১৭০৫০৮) নাম্বার থেকে গৃহবধু শাপলার কাছে ফোন আসে। অপরিচিত ব্যাক্তি শাপলাকে মোবাইলে বলেন, গ্রামীন ফোনের লটারিতে অপনি বিজয়ী হয়েছেন এবং সতের লাখ টাকা আপনি পাবেন বলে শাপলাকে জানায়। ষাট হাজার টাকা বিকাশ করলেই শাপলা সতের লাখ টাকা পাবেন, কাউকে না বলার শর্তে বলে, অপরিচিত ব্যাক্তি জানান।

সে মোতাবেক হলিধানী বাজারের জননী কসমেটিক্সের রোকনকে শাপলা বলে যে, আপনি ষাট হাজার টাকা ০১৭৩৩৪৮৩১৯২, ০১৭০৫১০০৬৬০, ০১৭৪৩ ৯৯০২৭৩, এই নাম্বারে পাঠায়ে দিন, আমি একটু পরেই আপনার টাকা দিয়েদেব।

শাপলার স্বামী বিদেশ থাকে এবং শাপলা একটু পরেই আমার সমুদয় টাকা দিয়েদেবে ভেবে বাকিতেই হলিধানীর জননী কসমেটিক্সের রোকনের বিকাশ এজেন্ট না থাকার কারণে কমিশনের শর্তে “মিজান সু গ্যালারী”র মালিক বিকাশ এজেন্ট মিজানকে ষাট হাজার টাকা ০১৭৩৩৪৮৩১৯২, ০১৭০৫১০০৬৬০ নাম্বারে বিকাশ করতে বলে।

পরে বিকাশ এজেন্ট মিজান ০১৯২২৪৮১৪৪৩ নাম্বার থেকে সাত হাজার পাঁচশত, ০১৯২২৪৮১৪৮৩ নাম্বার থেকে দশ হাজার, ০১৮৪৯ ৬৭৯৪৯১ নাম্বার থেকে দশ হাজার, ০১৮৫৯ ৮৭১১৫৩ নাম্বার থেকে ছয় হাজার দুই শত টাকা ০১৭৩৩৪৮৩১৯২, ০১৭০৫১০০৬৬০ নাম্বারে বিকাশ করে।

উক্ত টাকা পাওয়ার পরে প্রতারক চক্রটি আবারো ০১৭৪৩ ৯৯০২৭৩ নাম্বারে বাইশ হাজার পাঁচশত টাকা বিকাশ করতে বললে বিকাশ এজেন্ট মিজানের সন্দেহ হলে, বাকিতে আর টাকা দিতে পারবে না বলে রোকনকে সাফসাফ জানালে, রোকনও শাপলাকে আর বাকিতে বিকাশে টাকা দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দিলে, শাপলা কান্নাকাটি শুরু করে।

ততক্ষনে গ্রামীনফোনের স্টাফ পরিচয় দানকারী প্রতারক চক্রের সব কয়টি নাম্বারই বন্ধ পাওয়া গেলে হলিধানী বাজার জুড়ে হৈহুল্লোড় পড়ে যায়। জমা হতে থাকে বাজারের শত শত মানুষ। এবার শাপলার কথানুযায়ী রোকন বিকাশ করা টাকা ফেরত চাইলে, এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত শাপলার কাছে টাকা না থাকায় তার শাশুড়ী সহ শাপলাকে হলিধানীর আওয়ামিলীগ কার্যালয়ে বসিয়ে রাখা হয়।

এদিকে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, জননী কসমেটিক্সেও মালিক রোকনের বিকাশ এজেন্ট নাই তার পরেও এতগুলো টাকা একজন সহজ-সরল গৃহবধুর কথা মত কিভাবে বিকাশ করে ?

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 47 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ