টিন বা লোহা দিয়ে হাত পা কেটে গেলে টিটেনাস নিতে হয় কেন? না নিলে কি ধরনের ক্ষতি?

Print

u34147_714653_844560

টিন বা লোহা (পিন, পেরেক ইত্যাদি) দিয়ে হাত-পা কেটে গেলে টিটেনাস টিকা নিতে বলা হয়। কারন, যে কোন ময়লা, টিন বা লোহা থেকে ক্ষতস্থানে ব্যাকটিরিয়া সংক্রমিত হয়ে খিঁচুনী/ধনুষ্টঙ্কার রোগ হতে পারে।
ক্লোসট্রেডিয়াম টিটানী (Clostridium tetani) নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে ধনুষ্টঙ্কার হয়। ব্যাকটিরিয়াটি টিটেনোপ্লাজমিন নামের বিষ বা টক্সিন তৈরি করে। টিটেনাস ভ্যাকসিন ব্যাকটিরিয়ার আক্রমণ প্রতিরোধ করে। টিটেনাস টক্স্যয়েডের টিকা সুরক্ষা দেয় ধনুষ্টঙ্কার হবার আশঙ্কা থেকে।

মাটি, ধুলাবালি, ময়লা-আবর্জনা, লোহার মরিচায় রোগের জীবাণু থাকে। শুধু কাটা ছেঁড়ার ক্ষত থেকেই না; চামড়া পুড়ে গেলে, মানুষ বা জীবজন্তুর কামড় ও দংশনে ক্ষত হলে, মায়ের জরায়ুতে ভ্রণের মৃত্যু হলে, দূষিত সিরিঞ্জ দিয়ে ইনজেকশন নিলে, হাড় ভেঙে চামড়া ভেদ করে বেরোলে, ত্বকে দীর্ঘ দিনের ঘা থাকলে টিটেনাস ইনফেকশন হতে পারে। শরীরের যে কোন কাটা স্থানে জীবাণুটি আক্রমণ করে এবং হাসপাতাল সমুহে সঠিক ভাবে অস্ত্রপচারের যন্ত্রপাতি সঠিক ভাবে পরিস্কার না করে ব্যাবহারের কারনে, নবজাতকের নাড়ি কাটার সময় পুরাতন ব্লেড কিংবা চাকুর ব্যবহারে বেশী সম্ভাবনা থাকে ধনুষ্টংকার বা টিটেনাস হওয়ার ।

টিটেনাস না নিলে মৃত্যুঝুঁকি থাকে। শরীরের কাটা জায়গার মাধ্যমে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে, সেখানে ইনফেকশন হতে পারে। এর জীবানু বংশবৃদ্ধি করে অক্সিজেন শূণ্য মাধ্যমে (এনেরবিক) এবং এটি অক্সিজেন শূণ্য কোষ তৈরী করতে পারে। এটি ক্ষতস্থানের কলাতে (টিস্যু) বংশবৃদ্ধি করে। সেই কোষে এরবিক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির ফলে অক্সিজেন শূণ্য পরিবেশ তৈরী করে এক বিশেষ ধরনের টক্সিন (বিষ জাতীয় পদার্থ) উৎপাদন করে। এই টক্সিন রক্তের মধ্য দিয়ে স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে এবং স্পাইনাল কর্ডের মাধ্যমে সারা শরীরের মাংসপেশিতে কাপুনি বা খিঁচুনির সৃষ্টি করে ।
জীবাণুটির আক্রমণ করতে সময় লাগে ৩ দিন থেকে ৩ সপ্তাহ । প্রথম দিকে ঘাড়, শরীরের পেছন দিক এবং পেটে ব্যথা হতে পারে।জ্বর থাকতে পারে। মাংসপেশিগুলো সংকুচিত হতে থাকে এবং প্রচণ্ড খিঁচুনি হতে পারে। মুখের মাংসপেশিগুলো শক্ত হয়ে যাওয়ায় হাঁ করতে অসুবিধা হয়। শরীরের পেছনের মাংসপেশিগুলো সংকুচিত হয় বলে পুরো শরীর ধনুকের মতো বেঁকে যায়। যে কোনো ব্যথা, শব্দ, আলো ইত্যাদির কারণে খিঁচুনি আরম্ভ হয় এবং ৩-৪ মিনিট স্থায়ী হয়। শ্বাসকষ্ট হয় এবং রোগী ঢোক গিলতেও পারে না। একসময় মৃত্যু হতে পারে।

জীবাণুটির নাম ক্লসট্রিডিয়াম টিটানি ব্যাক্টোরিয়া যা থেকে টিটেনোপ্লাজমিন নামের বিষ বা টক্সিন তৈরি করে। এই টক্সিন স্নায়ুকোষকে আক্রমণ করে। ফলে শরীরের মাংসপেশিগুলো শক্ত হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড খিঁচুনি হয়। প্রথম দিকে ঘাড়, শরীরের পেছন দিক এবং পেটে ব্যথা হতে পারে– জ্বর হতে পারে — মাংসপেশিগুলো সংকুচিত হতে থাকে এবং প্রচণ্ড খিঁচুনি হতে পারে। মুখের মাংসপেশিগুলো শক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে হাঁ করতে অসুবিধা হয় — শরীরের পেছনের মাংসপেশিগুলো সংকুচিত হয় বলে পুরো শরীর ধনুকের মতো বেঁকে যায় — যেকোনো ব্যথা, শব্দ, আলো ইত্যাদির কারণে খিঁচুনি আরম্ভ হয় এবং ৩-৪ মিনিট স্থায়ী হয়– শ্বাসকষ্ট হয় এবং রোগী ঢোক গিলতেও পারে না — শরীরের কাটা জায়গা, যার মাধ্যমে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে, সেখানে ইনফেকশন হতে পারে — খিঁচুনির পর বিরতি দিয়ে আবার খিঁচুনি হয় — খিঁচুনির সময় রোগী গোঙাতে থাকে৷ রোগ যত কঠিনের দিকে যায় ততই রোগীর ঘন ঘন খিঁচুনি হয় – তীব্রতা অনুযায়ী খিঁচুনি কয়েক সেকেন্ড থেকে ৩-৪ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে যা অনৈচ্ছিক, বেদনাদায়ক ও অত্যন্ত কান্তিদায়ক ।ফুস্ফুসের বায়ু থলি বন্ধ বা অচেতন হয়ে শ্বাসতন্ত্র বিকল হয়ে হেতে পারে – হার্ট ফেইলার, নিউমোনিয়া সহ ব্রেইনের কারজক্ষ্যামতা নস্ট হয়ে যাওয়া অথবা পরবর্তীতে স্থায়ী ভাবে মাংসপেশির কম্পন থেকে যেতে পারে।
নবজাতকদের বেলায় জন্মের ৩-২৮ দিনের মধ্যে শিশু অসুস্থ্য হয়ে পড়ে এবং শিশু বুকের দুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়, শিশুর মুখ ও চোয়াল শক্ত হয়ে যায় এবং জোরে কাঁদতে পারে না। শিশুর খিঁচুনী হয় এবং শরীর পেছনের দিকে ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে যায়। ( যাকে টিটেনাস নিওনেটরাম বলে এবং টিটেনাসের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত রোগ প্রকাশ পেতে ৬-১০ দিন সময় লাগে। এই রোগে আক্রান্ত রোগির মৃত্যুহার ৪০-৮০ শতাংশ)
টিটেনাস রোগের জীবাণু সাধারণত মাটি, ধুলাবালি, গোবর , ময়লা-আবর্জনা, লোহার মরিচা ইত্যাদির মধ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় লুকিয়ে থাকে বিধায়

নিম্নলিখিত কারনে অসুখ টি হতে পারে ।

  • যে কোন ময়লা ক্ষত বিশেষ করে সড়ক দূর্ঘটনা,ময়লা পেরেক,টিন,পিন ( বিশেষ করে জুতার নিচ দিয়ে অনেকের পায়ের তলায় পিন ঢোকে যাওয়া ) ইত্যাদি দিয়ে আঘাত প্রাপ্ত হলে ।
  • শরীরের চামড়া বেশী পরিমান আগুনে পোড়লে
  • মানুষের কামড় বা জীবজন্তুর দংশনে
  • দূষিত যন্ত্র দিয়ে অস্ত্রোপচার করলে
  • মায়ের জরায়ুতে ভ্রণের মৃত্যু হলে
  • হাড় ভেঙে চর্মভেদ করে বেরোলে
  • দূষিত সিরিঞ্জ দিয়ে ইনজেকশন নিলে

 

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 349 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ