ঢাকার অলিতে গলিতে ছিনতাইকারী বেশে সাপুড়ে তরুণী?

Print

ছিনতাইকারী বেশে সাপুড়ে তরুণী ।

 

ঢাকায় একেক  সময় একেক ধরনের পেশাজীবীদের দেখা যায়। কিন্তু ভিক্ষাবৃত্তি  কোন সঠিক পেশা নয় তারপরও দিনের পর দিন এদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। হিজড়া কিংবা শাররীক বিকলাঙ্গ মানুষ পেটের দায়ে মানুষের কাছ থেকে ভিক্ষা করে জীবন যাপন করে, কিন্তু এরা কারা? এরা হিজড়া,যৌনকর্মী না ছিনতাইকারী? কোন গোষ্ঠীর নামের তালিকায় এদের নাম পাওয়া যাবে না।

এরা সাপুড়ে তরুণী, একসময়ের বাংলা চলচিত্রের প্রধান উপদান। এদের জীবন যাযাবরের মতো, নদীতে কিংবা পাহাড়ে সাপ ধরা ছিল এদের কাজ, সাথে সাপের খেলা দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করা এদের প্রধান পেশা। কিন্তু ঢাকার ধানমন্ডি সাতাশ নাম্বারে যাদের দেখা গেছে তাদের কোন কার্যকলাপে উপরের বাক্য গুলোর সাথে মিলানো যায় না। দূর থেকে দেখলে যেকেউ ছিনতাইকারী ভেবে এদের থেকে বাঁচার উপায় খুঁজবে কিংবা ভিন্ন পথে যাতায়াত করবে, অনেকে তাই করেছে কিন্তু তারপরও রেহায় পায়নি এদের হাত থেকে।

রাস্তা আটকিয়ে টাকা নেওয়ার দৃশ্য ছবিঃ আনোয়ার হোসেন

রাস্তা আটকিয়ে টাকা নেওয়ার দৃশ্য

সর্দার প্রধান যা বলেন তাই তারা আদেশ হিসেবে গণ্য করে। সাপ ধরার ক্ষেত্রে সর্দারই একমাত্র  পথ প্রদর্শক কিন্তু সেই সাপুড়ে সর্দার সাপ ধরার পরিবর্তে রাস্তায় রাস্তায় সধারন পথচারীর পথ আটকিয়ে টাকা তোলার আদেশ দেন বলে জানান মধ্য বয়স্ক সাপুড়ে নারী আলেয়া। তিনি আরও বলেন, আমিন বাজার থেকে প্রতিদিন আসি,আমরা অনেক দিন ধরে এই কাজ করছি, কাম কাজ নাই নদীর পানিও শুঁকিয়ে যাচ্ছে, এখন আর সাপ ধরা যায় না। অপরদিকে সাভারের বাঁশেরহাট এলাকার সাপুড়ে সর্দার সুলতানের মা বলেন’পথে মানুষ থেকে টাকা নেওয়া কোন ভাল কাজ না।সাপ ধরা আরও ভয়ংকর, কতজন যে মারা গেছে তার হদিস নাই’। একই এলাকায় দেখা যায় কিছু তরুণ মিলে সাপুড়েদের সচেতন করারা জন্য বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন মূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় টাকা তুলার ব্যাপারে তাদের জিজ্ঞেস করা হলে পোড়াবাড়ি সমাজ সংঘের সভাপতি বলেন, যদি এমন কাউকে দেখেন আমাদের খবর দিবেন আমরা পুলিশে ধরিয়ে দিব’। বেদে সম্প্রদায়ের মেয়েরা পড়াশুনা করছে বলেও জানা যায়। সরেজমিনে পোড়াবাড়ী এলাকায় অনেক তরুণীকে দেখা যায় যারা এখন পোশাক কারখানায় কাজ করছে এবং পড়াশুনা করছে যথারীতি।

সারা বাংলাদেশে লাখের অধিক  সাপুড়ে আছে যাদেরকে বেদে বলা হয়। সাপের খেলা দেখানো বিভিন্ন ধরণের তাবিজ বিক্রি করা এবং দেশের আনাচে কানাছে ঘুরে বেড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। এক সময় পুরা এই জনগোষ্ঠী নদীর মধ্য ভাসমান অবস্থায় বাস করতো কিন্তু এখন তাঁরা বেশির ভাগই সমতলে বাস করেন।

বেদে পরিবারের সাথে তাদের স্কুল পড়ূয়া মেয়ে, পোড়াবাড়ী সংঘ। ছবিঃ আনোয়ার

বেদে পরিবারের সাথে তাদের স্কুল পড়ূয়া মেয়ে, পোড়াবাড়ী সংঘ। ছবিঃ আনোয়ার

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘরের বাইরে থাকে ঘরণী  কিন্তু তাদের পুরুষরা বাসায় থেকে সন্তানের দেখাশুনা করেন। সাভারের বাঁশের হাঁট এলাকায় সাপুড়ে সুলতানের বাস দীর্ঘ দিন ধরে পরিবারসহ আছেন ওইখানে, দুই বউয়ের প্রথম বউ থাকে চট্টগ্রামে বড় বউ ঢকায়। মাঝে মাঝে ঢাকায় আসে এর জন্য আলাদা একটি রুম তৈরি করেছেন সাপুড়ে সর্দার সুলতান। জীবনের অর্জন বলতে পঞ্চাশের অধিক ডাক্তারি সনদ। যেখানে সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্বারা সত্যায়িত। কবিরাজি করতো এখনও করে কিন্তু কম।কারণ মানুষ এখন কিনে না আগে মতো। রাস্তায় মানুষকে হয়রানি করে টাকা নেওয়ার  বিপক্ষে সুলতান।

সুলতান  বলেন,তাঁদের পূর্ব পুরুষ ইরানী বংশধর। তাঁদের বেশির ভাগই মুসলমান। জন্মের পর থেকে শিশুদের সাপের খেলা শিখতে অভ্যস্ত করা হয় যাতে বড় হয়ে নামধারি সাপুড়ে হয় কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।তাঁদের ছেলে মেয়েয়া স্কুলে পড়াশুনা করছে। এই পেশাটা ভাল ভাবে নিচ্ছে না অনেকেই।

পুরাতন সংস্কৃতির মরণ হলে নতুন সংস্কৃতির সাথে তাল মেলানো খুবই কঠিন কারণ সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে থাকে জীবন ও জীবিকা। হয়তো নতুন সংস্কৃতির  রোষানলে সাপুড়ে তরুণী জীবিকার সন্ধানে ছিনতাইকারীর বেশে ঘুরে ফিরছে ঢাকার অলিতে গলিতে। সাপের খেলা দেখিয়ে টাকা নয় সরাসরি বলে,’টাকা দে ‘

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 97 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ