ঢাকা- সিলেট মহা সড়কের নবীগঞ্জের আউশকান্দির রাস্তার বেহাল দশা

Print

1 (1)

নবীগঞ্জের ব্যস্ততম জনবহুল ঢাকা- সিলেট মহা সড়কের আউশকান্দি। এখানে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, গার্মেন্টস শিল্প, সাউথ সাউথ প্যাড, সরকারী- বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্টান সহ বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্টান রয়েছে। কিন্তু আউশকান্দি টু হবিগঞ্জ (পুরান রোড, মাদ্রাসা পয়েন্ট) দীর্ঘ এক যুগ যাবৎ ধরে রাস্তার কোন উন্নয়ন হয়নি। দিন দিন ওই রাস্তাটি ভেঙ্গেচুড়ে বড় বড় গর্ত হয়ে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমাট হলে ওই রাস্তা দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন যাতায়াতের বিঘœ ঘটছে। অপরদিকে আউশকান্দি- হীরাগঞ্জ সংলগ্ন মিঠাপুর, উত্তর দৌলতপুর, কিবরিয়া রোড- দেওতৈল ও আউশকান্দি গ্রামের রাস্তাটি পাকা করনের অনুমোদন হলেও ১বছর ধরে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। উন্নয়নের এমনই অবস্থা, কালভার্টের অর্ধেক কাচা আরেক দিকে অর্ধেক পাকা! ভাগ্যকেই দোষলেন ভূক্তভূগিরা। এ নিয়ে ওই এলাকার লোকজন নানা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আউশকান্দি ইউনিয়নে আঞ্চলিক সড়কগুলির বেহাল অবস্থা ধারন করেছে। এছাড়া সড়কের উপর নির্মিত কালভার্ট ভেঙ্গে যাওয়ায় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ দিয়ে কালভার্ট নির্মাণ করে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দেশের অনেক প্রত্যান্ত অঞ্চলে উন্নয়ন হলেও নবীগঞ্জ উপজেলা আউশকান্দি ইউনিয়নের আঞ্চলিক রাস্তাঘাট উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বনগাও গ্রামে ২০০৮ সালে গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হয় প্রায় ১ কিলোমিটার ইটসলিং রাস্তা। এমনকি ওই রাস্তায় একটি কালভার্টও নির্মাণ করা হয়। গাড়ি চলাচলের কারনে ওই কালভার্ট ভেঁেঙ্গ গিয়ে চলাচল অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে একাধিকবার জানালেও কোন কাজ না হওয়ায় অবশেষে এলাকাবাসী বাঁশ দিয়ে স্ল্যাব তৈরী করে কোন রকম চলাচলে উপযোগি করেন। এছাড়াও ওই ইউনিয়নের প্রায় ৩৭টি গ্রামের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বেশিরভাগ সড়কগুলি একই অবস্থা বিরাজ করছে।
খোজ নিয়ে আরো জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্বনামধন্য চেয়ারম্যান একটানা ১৩বছর ধরে ইউনিয়নের অভিভাবক হিসেবে কাজ করছেন এবং বর্তমান ক্ষমতাশীন আওয়ামীলীগের ওই ইউনিয়নের এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামীলগীর সভাপতির আসনে অলংকিত রয়েছেন।কিন্তু চেয়ারম্যান ও ক্ষমতাধর দরের সভাপতি পদ পেলে কি হবে? তার ইউনিয়নের অবহেলিত রাস্তা-ঘাটের দিকে কোন সু-দৃষ্টি নেই।
রাস্তাঘাট ও কালভার্টের এ অবস্থা থাকায় নিয়তিকেই দোষারুপ করছেন এলাকাবাসী। তাই আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আউশকান্দি ইউনিয়নের বর্তমান ও নতুন প্রার্থীদের মধ্যে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রচার ও প্রচারনা। সাধারন ভোটারাও বিচার বিশ্লেষন করছেন বিগতদিনের কার্যক্রম নিয়ে।
এ ব্যাপারে তরুন ব্যবসায়ী সুমন আহমদ চাপা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, মিঠাপুর, দেওতৈল, বেতাপুর, আউশকান্দি, উলুকান্দি, আমোকোনা ও উত্তর দৌলতপুর গ্রামের রাস্তা-ঘাট দিয়ে আমরা যাতায়াত খুব কষ্ট করে করছি। কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় আজ এই রাস্তার এমন অবস্থা। তাই আমি ওই ভাঙ্গাচুড়া রাস্তা সংস্কারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে লেবানন ভৈরুত শাখার আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (বর্তমান দেওতৈল গ্রামের বাসিন্দা) এইচ কে এম আরজু মিয়াও একই ক্ষোভ নিয়ে বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামীলীগ করি। আমার নেত্রী এ দেশ ডিজিটাল করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান দিলাওর হোসেন বিগত ১৩বছর যাবৎ ওই ইউনিয়নে অভিভাবক হিসাবে থেকেও রাস্তা- ঘাট, স্কুল- কলেজ ও মাদ্রসার বেহাল অবস্থা দেখা যাচ্ছে। অত্রএব এই চেয়ারম্যান কে যদি আমরা ভোট দেই তাহলে ইউনিয়নবাসী আরো ৫বছরের জন্য উন্নয়নের ছোয়া থেকে বঞ্চিত থাকবে। আমার জানা মতে বাংলাদেশের কোন জায়গাতেই রাজতন্ত্র নাই, কিন্তু আমাদের আউশকান্দি ইউনিয়নের সাধারন জনগণের কথা না ভেবে নিজের স্বার্থের নেশায় রাজতন্ত্র কায়েমে লিপ্ত রয়েছে ওই চেয়ারম্যান।
উপজেলা যুবদলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ক্বারী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমাদের এলাকার সাধারন মানুষের ভোটে নির্বাচিত হন চেয়ারম্যান। কিন্তু আমাদের কলিজার টুকরা ন্যায্য দাবী গ্যাস ও যোগ্যতা ভিত্তিক বেকার যুবক/ যুবতীরা চাকুরী থেকে আমরা বঞ্চিত। আমরা এই গ্যাস থেকে কেন বঞ্চিত আমাদের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সহ এলাকার কিছু পাতিনেতারা বড় অংকের টাকার বিনিময়ে জালালাবাদ কর্তৃপক্ষের সাথে আতাত করে আমাদেরকে বঞ্চিত রেখেছে। তাই এবার আমরা উন্নয়নমূখি ও নতুন মূখের প্রত্যাশায় কাজ করছি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 154 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ