তনুর খুনি কেন চিহ্নিত হয়নি: মা

Print

%e0%a6%a4%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%b9%e0%a7%9f%e0%a6%a8নারী নির্যাতন প্রতিরোধের ডাক নিয়ে অনুষ্ঠান ঢাকায়। কুমিল্লা থেকে মোবাইল ফোনে যুক্ত হলেন খুন হওয়া তরুণী সোহাগী জাহান তনুর মা আনোয়ারা বেগম। চাইলেন বিচার। ‍তুললেন প্রশ্ন, কেন আট মাসেও বিচার পেলেন না তিনি। বললেন, ‘আমার মেয়েকে যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।’
রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা পরিস্থিতি ২০১৫-১৬’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই বক্তব্য দেন তনুর মা। সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে তনুর মায়ের কাছে ফোন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী। দুই জনের কথোপকথন ফোনের লাউড স্পিকারে শোনের উপস্থিত সবাই।
গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। আট মাসেও জানা যায়নি কে খুন করেছে এই তরুণীকে। এর মাঝে বদল হয়েছে তদন্ত সংস্থা, বদল হয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তও হয়েছে আবার। কিন্তু সেই তিমিরেই রয়ে গেলো তদন্ত।
তনুর মা বলেন, ‘আট মাস হয়ে গেল, এখনও আমার মেয়ের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে পারেনি প্রশাসন। ডাক্তার আমার বাসায় আসল কিন্তু কোন রিপোর্ট পাই নাই। এটা কেন হলো?’ তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই, তাদের ফাঁসি চাই। তাদের শাস্তি যেন সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে, ভবিষ্যতে যেন এই রকম আর কোন মায়ের কোল খালি না হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে গত দুই বছরে নারীর প্রতি সহিংসতা পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী। বলেন, গত দুই বছরে নারীর প্রতি সংহিসতা বেড়েছে পাঁচ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এ সময় নারীরা নৃশংস ও নির্মমভাবে সহিংসতার শিকার হচ্ছে বলে মলা হয় এই প্রতিবেদনে।
কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কমিটির কথা উল্লেখ করে সালমা আলী বলেন, যৌন নির্যাতন রোধে কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষাঙ্গনে কমিটি থাকতে হবে। আইনে আছে কমপক্ষে পাঁচ জন প্রতিনিধি নিয়ে এ কমিটি হবে এবং বাইরের দুই জন প্রতিনিধি থাকতে হবে।
কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কমিটি থাকলেও কাজ হচ্ছে না জানিয়ে সালমা আলী বলেন, ‘সকল গণমাধ্যমে নারীরা কাজ করে কিন্তু সব প্রতিষ্ঠানে নারির প্রতি সহিংসতা রোধে কমিটি নাই। অনেক জায়গায় কমপ্লেইন বক্স থাকলেও অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি হচ্ছে না, অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।’
পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছে
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নারী সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ জীবন যাপন করে নিজের ঘরে। ২০১৬ সালে ৬৯০ জন নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছে। যাদের ৫৮% স্বামী বা তার স্বজনরা হত্যা করেছে আর ১৪% নারী সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজা পারভীন বলেন, বিশেষ বিবেচনায় ১৮ বছরের নিচের মেয়েদের বিয়ের সুযোগ থাকায় বাল্যবিয়ে বেড়ে যাবে। কারণ, বিশেষ বিধানের অপব্যবহার করবে অনেকেই।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 50 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ