তবু আশায় বিএনপি

Print

%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%81-%e0%a6%86%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%8f%e0%a6%a8%e0%a6%aa%e0%a6%bfসরকার আমলে নেবে না ধরে নিয়েই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। এই প্রস্তাব সামনে রেখে একটি শক্তিশালী কমিশনের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে চাপে রাখতে চায় দলটি। সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত এখনো না পেলেও বিএনপির নেতারা আশা ছেড়ে দিচ্ছেন না।
দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, তারা বিশ্বাস করেন গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকার একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে তাদের প্রস্তাব আমলে নেবে। এ কারণেই তারা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার দরজা খোলা রাখছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের কাছে প্রস্তাবটি পৌঁছে দিয়ে এর মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখার কৌশলও নিতে চায় বিএনপি। সে অনুযায়ী কার‌্যক্রমও ইতিমধ্যে শুরু করেছেন দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন গঠন ও শক্তিশালী করতে সম্প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থাপিত প্রস্তাব বিদেশি কূটনীতিক ও দূতাবাসগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে আসা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ট্রেড কমিটির সদস্যদের কাছেও প্রস্তাবের কপি সরবরাহ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মতামত দেয় প্রতিনিধিদলটি।
বিএনপির আন্তর্জাতিক লবি দেখভাল করেন এমন একটি দল প্রভাবশালী কয়েকটি দেশের সমর্থন আদায়ে সে দেশগুলোতে সফর করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। দলের কূটনৈতিক কোরের নেতারা এ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কূটনৈতিক দিক দেখভাল করেন বিএনপির মধ্যম সারির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইতিমধ্যে বেশির ভাগ কূটনীতিকের কাছে পৌঁছানো হয়েছে প্রস্তাবের কপি। দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে এসব পৌঁছে দেন। ১৮ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন গঠনসংক্রান্ত প্রস্তাবটি তুলে ধরার সময় সেখানে উপস্থিত কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধির কাছেও এর লিখিত কপি দেয়া হয়।
জানা গেছে, প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের নির্বাচন কমিশন গঠন করতে না পারে। আর এই প্রস্তাব পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন কমিশন গঠন করলে সরকার দেশে ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়বে।
কারণ বিএনপির ঘোষিত প্রস্তাবের সঙ্গে পুরোপুরি একমত না হলেও অনেকেই একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এর মাধ্যমে দেশের সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক মিত্রশক্তিগুলো সরকারকে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এমন ভাবনাও আছে বিএনপিতে।
দলের অপর একটি সূত্র বলছে, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে জনমত তৈরিতে দেশের সুশীল সমাজ, বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীদের মাঠে নামানো হতে পারে। দেশের অভ্যন্তরে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে দেশজুড়ে জনমত গড়ে তুলতে সভা-সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালনের চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। এরপর যে কমিশন দায়িত্ব নেবে, তাদের অধীনেই ২০১৯ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এই কমিশন কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করেন খালেদা জিয়া। এতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে ২০ দফা প্রস্তাব দেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব নিয়ে কথা বলতে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চায় বিএনপি। ইতিমধ্যে নানাভাবে চেষ্টা করেও সাক্ষাতের সুযোগ পায়নি দলটি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রস্তাব তুলে দিলেই যে তা কার‌্যকর হতে পারে এমনটা মনে করেন না দলটির শীর্ষ নেতারাও। তবে প্রস্তাবটি আরো আলোচিত করতে এবং এর গুরুত্ব বাড়াতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের এই চেষ্টা বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব তুলে ধরা নিয়ে তাদের আশাবাদী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিবের বলেন, ‘আমরা পজিটিভ ভাবতে চাই। তিনি রাষ্ট্রের অভিভাবক। আমরা বিশ্বাস করি তিনি আমাদের সাক্ষাতের সুযোগ দিয়ে এ বিষয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেবেন।’
জানা গেছে, শেষ পর‌্যন্ত রাষ্ট্রপতির সাক্ষাতের সুযোগ না পেলে প্রয়োজনে ডাক বা কুরিয়ারে খালেদা জিয়ার প্রস্তাব তার কাছে পৌঁছে দেয়া হতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, ‘চেয়ারপারসনের (খালেদা জিয়া) প্রস্তাব শুধু সরকারই নয়, সব রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজ, কূটনৈতিক মহল সর্বোপরি তা দেশের জনগণের কাছেও তুলে ধরা হচ্ছে। আমরা সব অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) কাছে পাঠাব এটি। এরই মধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।’
স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন,‘অতীতে কী হয়েছে আমরা তা নিয়ে ভাবতে চাই না। আশা করি সময় থাকতে সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। এই প্রস্তাব নিয়ে প্রয়োজনে আলোচনার ব্যবস্থা করবে। আমরা সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’ প্রস্তাবের পক্ষে দেশে-বিদেশে জনমত তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে শুক্রবার এক আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার উদ্যোগ নিলে বিএনপি সহযোগিতা করবে বলে জানান।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 53 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ