দালালের বিশেষ চিহ্ন ছাড়া পাসপোর্ট পেতে হয়রানি

Print

%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%beআপনি পাসপোর্ট আবেদনের ফর্ম পূরণ করে সেটা কার্যালয়ে নিয়ে গেছেন নিজে। কিন্তু জমা দিতে পারবেন কি না তার নিশ্চয়তা নেই। কিংবা নানা ভুল-ত্রুটি ধরে ফিরিয়ে দেবে আপনাকে। যাবার পথে পড়বেন নানা বায়ানাক্কায়। তবে দালালের মাধ্যমে কিংবা আবেদনপত্রে তাদের বিশেষ চিহ্ন নিয়ে গেলে সহজে ছবি তোলা ও পাসপোর্ট পাওয়া যাবে যথাসময়ে। তবে এ জন্য আপনাকে গুনতে হবে বাড়তি অর্থ। এভাবেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন চট্টগ্রামের পাসপোর্ট আবেদনকারীরা।
সোমবার সরেজমিন নগরের ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকায় অবস্থিত বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা কার্যালয় ঘুরে এবং আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য। গত কয়েক দিন ধরে এই কার্যালয়ে আবেদনকারীদের হয়রানি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন এই প্রতিবেদক।
এই সময়ে কথা হয় চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আবু সাইদের সঙ্গেও। তিনি এই কার্যালয়ে দালালদের উৎপাত ও বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, দালালদের বাড়তি টাকা দিয়ে কেউ পাসপোর্ট নিচ্ছে বলে তার জানা নেই।
পাসপোর্ট অফিস সূত্র জানায়, জরুরি ও সাধারণ দুই ধরনের পাসপোর্টই দেয়া হয় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে। জরুরি পাসপোর্টের জন্য সরকারি ফি ছয় হাজার টাকা এবং সাধারণ পাসপোর্টের জন্য তিন হাজার টাকা। ব্যাংকে ফি জমা দিয়ে রসিদ পাসপোর্টের আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর তোলা হয় ছবি। এরপর পুলিশের মাধ্যমে যাচাইয়ের পর নির্দিষ্ট সময়ে পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার কথা।
কিন্তু এই সরল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে খুব কম আবেদনকারীই পাসপোর্ট পেয়ে থাকেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাসপোর্ট কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটকের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছেন আনসার সদস্য রেজাউল করিম। এ সময় ওই পথে অফিসে যাচ্ছিলেন নগরের বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা সোহেল চৌধুরী। তিনি সাধারণ পাসপোর্ট করতে চান জানতে পেরে রেজাউল তাকে বলেন, সব করে দেবেন তিনি।
কত টাকা লাগবে? রেজাউল বলেন, ‘পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা দেবেন। আপনাকে কিছুই করতে হবে না। শুধু ছবি তুলে চলে যাবেন।’
এত টাকা কেন সোহেল জানতে চাইলে রেজাউলের জবাব, ‘পরিচালক সাহেবের পিএর মাধ্যমে করাব। কোনো অসুবিধা হবে না। তিন হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেব। দেড় হাজার টাকা অফিস খরচ। বাকিটা ভেরিফিকেশনের জন্য পুলিশকে দিতে হবে।’
এই পর্যায়ে সোহেল টাকা জোগাড় করে পরে আসবেন জানিয়ে চলে যান।
এরপর রেজাউলের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় হাটহাজারীর লাঙ্গলমোড়া থেকে আসা যুবক মুরাদকে। পরে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় রেজাউলের মাধ্যমে পাসপোর্ট করতে দিয়েছি। ছবি তোলা হয়েছে। পাসপোর্ট কবে পাব জানতে এসেছি।’
বাড়তি টাকা কেন দিয়েছেন জানতে চাইলে মুরাদ বলেন, নিজে ফরম পূরণ করে জমা দিলে নানা ভুলত্রুটি ধরে। দু-তিন দিন পরে ছবি তুলতে হয়। বাড়তি টাকা না দিলে আছে নানা হয়রানি।
মুরাদ চলে যাওয়ার পর বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তা অস্বীকার করেন রেজাউল। তিনি বলেন, ‘মানুষ এলে তাদের সাহায্য করি।’
আরও কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করে কথা হয় সন্দ্বীপের মো. খুরশেদ ও খুলশী এলাকার ভুক্তভোগী রফিকুল আলমের সঙ্গে। দুজনেরই অভিযোগ, তারা নিজেরা আবেদনপত্র জমা দিতে গেলে তা নেওয়া হয়নি। পরে দালালের মাধ্যমে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।
খুরশেদ, রফিকুল, কায়েসসহ আরও কয়েকজন আবেদনকারী জানান, দালালরা যেসব আবেদনপত্র জমা দেয় তাতে তারা বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করে। যেমন ইংরেজি ও বাংলা বর্ণমালার কোনো একটি বর্ণ বা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে টিক চিহ্ন ইত্যাদি। এসব চিহ্ন দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বুঝে নেন আবেদনপত্রটি তাদের নির্ধারিত দালালের মাধ্যমে এসেছে।
জানা গেছে, বছর খানেক আগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট কার্যালয়ের ৬৫ জন দালালের একটি তালিকা তৈরি করে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তালিকাটি পাঠানো হয় পুলিশকে। এরপর কয়েকজনকে আটক করা হলেও উৎপাত কমেনি দালালের।
ভুক্তভোগীরা জানান, চট্টগ্রাম পাসপোর্ট কার্যালয়ে শতাধিক দালাল রয়েছে। তারা সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা আদায় করে চুক্তিতে পাসপোর্ট করে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবে পাওয়া সময়ের চেয়ে কম সময়ে পাসপোর্ট হাতে এসে যায়। আর দালালদের সাহায্য ছাড়া কিংবা বিশেষ চিহ্ন ছাড়া যারা আবেদন করেন, হয়রানির শিকার হন এসব সাধারণ মানুষ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 50 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ