দু’ভাগে বিভক্ত হচ্ছে নগর বিএনপি

Print

%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%b9%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a6%b0মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিব করে ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই ‘হাই প্রোফাইল’ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছিল বিএনপি। বিধি বাম যা হওয়ার তাই। আব্বাস-সোহেলের কমিটিও খোকা-সালাম কমিটির পথেই অনুসরণ করায় রাজপথ আন্দোলনে সফল হতে পারেনি তারাও। ফলে ব্যর্থ তকমা থেকে শিক্ষা নিয়ে দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল নেতৃত্ব সৃষ্টির চেষ্টায় নগর বিএনপির নতুন কমিটি এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। সেজন্য বিএনপি চেয়ারপারসন নগর বিএনপিকে দু’ভাগে বিভক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শিগগিরই নতুন কমিটি ষোষণার অপেক্ষায় নগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই আভাস পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার বিগত সময়ের রাজনৈতিক আমলনামা বিচার বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করা হয়েছে। খোঁজে বের করা হয়েছে যে, খোকা-আব্বাসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিগত রাজপথ আন্দোলনে মহানগর বিএনপিকে সফলতার দাবিদার হতে দেয়নি। ফলে আন্দোলন সফলতার দ্বার প্রান্তে গিয়ে বারবার পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এবার খোকা-আব্বাস অনুসারীদের মধ্যে ব্যালেন্স রেখেই মহানগর বিএনপির কমিটি নতুন করে গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খালেদা জিয়া
এ রিপোর্ট লেখর সময় পর্যন্ত অতীতের ব্যর্থতার তকমা থেকে বের হতে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামের কাণ্ডারী নগর বিএনপি নতুন কমিটি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা কবে, কখন ঘোষণা করা হবে নগর বিএনপির নতুন কমিটি। সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপিকে দু’ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। ঢাকা মহানগর ‘উত্তর ও দক্ষিণ’ নামে আগামী ডিসেম্বর মাসে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের মতামত নিতে শুরু করেছেন।
এদিকে, মহানগর বিএনপিকে দু’ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও প্রথমে ‘সুপার ফাইভ’ না রাখার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন বিএনপি প্রধান। সুপার ফাইভ হলে দলের চেইন অব কমান্ড বজায় থাকলেও সুপার ফাইভ দীর্ঘদিন আহ্বায়ক কমিটিতে সীমাবদ্ধ ধাকার প্রবণতাকে দায়ী করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নগর বিএনপির সম্ভাব্য নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি পদে সাবেক কমিশনার এম এ কাইয়ূম, সিনিয়র সহ সভাপতি তাবিদ আউয়াল, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণে আব্দুস সালাম, নবী উল্লাহ নবী, হাবিবুর রশিদ হাবিব এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
তবে বিএনপির আরেকটি একটি প্রভাবশালী মহল চাচ্ছেন, নগর বিএনপি দক্ষিণে আবু সাঈদ খান খোকন, কাজী আবুল বাশার, ইউনুস মৃধা, হাবিবুর রশিদ হাবিব নেতৃত্বে আসুক।
নগর বিএনপির কমিটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বর্তমান কমিটি যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ খান খোকন ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মহানগর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। লোকমুখে শুনতে পাই ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) শীঘ্রই কমিটি ঘোষণা করবেন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে মহানগর রাজনীতিটা অনেকটা জটিল হয়ে পড়েছে। লবিং করে পদেও রাজনীতি করতে চাই না। বিশেষ করে ওমুখ ভাই কিংবা ইজম তৈরি করে রাজনীতি করতে চাই না। তবে নেত্রী যদি নগর বিএনপির রাজনীতির বিগত কাজ মূল্যায়ন করে দায়িত্ব দেয়, সেই দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী হবো না। কারণ সেখানে অনাগ্রহ দেখানোর সুযোগ নাই।’
চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে অবিভক্ত মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি খসড়া তালিকা খালেদা জিয়ার কাছে জমা দেয়া হয়েছে। শিগগিরই খসড়া তালিকাটি সিনিয়র নেতাদের মতামতের ওপর ভিত্তি করেই নতুন কমিটি চূড়ান্ত করবেন তিনি।
জানা গেছে, যে খসড়া তালিকা খালেদা জিয়ার হাতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে তা বর্তমান আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে তৈরি। কারণ বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা সাদেক হোসেন খোকা দেশের বাইরে এবং বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল কারাগারে। তাই নতুন কমিটি গঠনে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগর বিএনপির নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুক নেতারা বসে নেই। শুরু হয়ে গেছে নতুন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে লবিং, তদবির। শুধু তাই নয়, নিজের পাশাপাশি অনুগতদের পদ পাইয়ে দিতেও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা।
মহানগর বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, ‘আমরা যতদূর শুনতে পাচ্ছি, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হিসাবে সাবেক কমিশনার এম এ কাইয়ুমের নাম বেশ আলোচনায় রয়েছে। কারণ আব্বাস ও খোকা দু’জনের সঙ্গেই কাইয়ুমের ভালো সম্পর্ক আছে। তবে উত্তরের সাধারণ সম্পাদক পদে তাবিথ আউয়ালকে দেখা যেতে পারে। আর দক্ষিণে সভাপতি হিসেবে আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছেন বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের নাম। বিবেচনায় উঠে আসছে তিনি (সালাম) দীর্ঘদিন মহানগরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এর আগে তিনি অবিভক্ত ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন।’
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজী আবুল বাশারকে দেখা যেতে পারে। তবে সালাম ও আবুল বাশার দু’জনই সাদেক হোসেন খোকার বলয়ের হওয়ায় তাদের দু’জন একসঙ্গে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সে ক্ষেত্রে কমিটিতে ব্যালেন্স আনতে সাধারণ সম্পাদক পদটি আব্বাস অনুসারীদের দেয়া হতে পারে। আর সেই তালিকায় আছেন, এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ খান খোকন, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিবের নাম।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 54 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ