দেশের প্রথম খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পাঞ্চল হচ্ছে নাটোরে

Print

%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় তিন দিনব্যাপী ‘বাপা ফুডপ্রো’তে গতকাল শেষ দিনে আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে খাদ্যপণ্য দেখেন।
নাটোরের লালপুরে দেশের প্রথম খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পাঞ্চল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এই শিল্পাঞ্চল করার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল শনিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ‘চতুর্থ বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো-২০১৬’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) ও এক্সট্রিম এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট সলিউশন তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করে। গতকাল সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
শাহরিয়ার আলম বলেন, দেশে একসময় খাদ্যে ঘাটতি থাকলেও বর্তমান সরকারের গত আট বছরে খাদ্য বিপ্লব ঘটেছে। খাদ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি হচ্ছে। আর এই উন্নতি হয়েছে দেশের সাধারণ কৃষক এবং রাজনৈতিক সরকারের সদিচ্ছার কারণে। তিনি বলেন, গত অর্থবছরে শুধু প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি করে দেশের আয় হয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। এ জন্য সরকার রপ্তানিতে নগদ সহায়তা ছাড়াও কৃষি কাজে সার, বিদ্যুতে ভর্তুকি দিয়েছে। প্রতিমন্ত্রী প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে উৎপাদনকারীদের না ঠকিয়ে যথাযথ সম্মান দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, নাটোরের লালপুরে যে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত অঞ্চল হচ্ছে তাতে সরকার প্রায় তিন হাজার একর জমি বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। আর এটাই হবে দেশের সবচেয়ে বড় শিল্পাঞ্চল। তিনি বাপাতে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের রপ্তানি বাড়াতে বাজার বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন। এ জন্য একটি বড় গবেষণাপত্র তৈরিরও তাগিদ দেন উদ্যোক্তাদের। তিনি বলেন, ‘এটা হবে বাপার সবচেয়ে বড় কাজ।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার উৎপাদন পর্যায় থেকে শুরু করে খাবারের টেবিল পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। এ জন্য ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্য আইন করেছে। এ জন্য খাদ্য অধিদপ্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
খাদ্য ঘাটতি থেকে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মানুষের আয় বেড়েছে। একজন রিকশাওয়ালারও প্রতিদিন গড় আয় ৫০০ টাকার বেশি। ফলে দেশের বাজারে মোটা চালের কদর নেই। তাই দেশের হাসকিং মিলগুলোকে দ্রুত অটো রাইস মিলে রূপান্তরের পরামর্শ দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি এসব মিলের রূপান্তরের সময় আর বাড়ানো হবে না এবং কোনো নিবন্ধনও দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন।
এর আগে বাংলাদেশ অটো মেজর হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে এম লায়েক আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বর্তমানে দেশ-বিদেশের বাজারের ভোক্তারা উন্নতমানের চাল চায়। তাই বিশ্বের মতো বাংলাদেশের চালকলগুলোর আধুনিকায়ন চলছে। আমাদের দেশের হাসকিং মিলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য আমাদের উদ্যোক্তারাও কাজ করছে। তবে আর্থিক সহায়তার অভাবে উদ্যোক্তারা এগোতে পারছে না।’ তাই তিনি হাসকিং মিল থেকে অটো মিলে রূপান্তরে সরকারের কাছে এক অঙ্ক সুদে ঋণ দেওয়ার আহ্বান জানান।
লায়েক আলী জানান, বর্তমানে ১৬ হাজার হাসকিং মিল আছে। এসব মিল এবং অটো মিলসহ বর্তমানে বছরে পাঁচ কোটি টন চাল পাওয়া যায়। হাসকিং মিলগুলো অটো মিলে রূপান্তর হলে এই উৎপাদন আট কোটি টনে পৌঁছবে বলে তিনি মনে করেন। এ ছাড়া আধুনিকায়নের ফলে একই সঙ্গে চালের গুঁড়া থেকে চার-পাঁচ লাখ টন রাইস ব্রান তেল উৎপাদন করা যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাপার সভাপতি এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী বলেন, বাংলাদেশ প্রক্রিয়াজাত খাদ্য থেকে আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা আয় করতে চায়। তিনি এই খাতের রপ্তানি আয় বাড়াতে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সরকারের কাছে সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) একটি কোয়ালিটি ল্যাব করার দাবি জানান। এ ছাড়া এ খাতের উন্নয়নে উন্নত দেশগুলোর মতো বিনা সুদে ঋণ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাপার সভাপতি বলেন, সরকার এ খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স করেছে। এ ছাড়া ২০১৬ সালের শিল্পনীতিতে এ খাতকে উচ্চ অগ্রাধিকার শিল্প খাত হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাপার সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান, মেলা কমিটির চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 67 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ