ধর্ষণ চেষ্টার শাস্তি ৫টি বেত্রাঘাত!

Print

%e0%a6%a7%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a7%ab%e0%a6%9f%e0%a6%bfলক্ষ্মীপুরের রামগতিতে এক ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রীকে (১০) ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যাক্তির নাম মো. ফেরদৌস (৩৮)। তিনি চরগাজী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজুল হক ওরফে শের আলীর ছেলে এবং রামগতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদের ভাতিজা। যৌন হয়রানির শিকার শিশু চর আফজাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী।
এদিকে, ওই ছাত্রী সংখ্যালঘু হওয়ায় প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হচ্ছে না। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়নি। এরআগে মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) উপজেলার চরলক্ষ্মী গ্রামে এ ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটে। তবে থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলছে, ওই ছাত্রীর পরিবার থানায় অভিযোগ করেনি। তাদের মামলার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৭ টার দিকে ওই শিশু প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। ফেরদৌসের বাড়ি পাশে পৌঁছলে ধারালো দায়ের ভয় দেখিয়ে শিশুটিকে একটি সুপারি বাগানে নিয়ে যায়। এসময় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে তার চিৎকারে ফেরদৌস পালিয়ে যায়। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের জানায়।
থানা পুলিশ সূত্র জানায়, ধর্ষণ চেষ্টার খবর পেয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ ও মাইন উদ্দিন ঘটনাস্থল গিয়ে সংশ্লিষ্ঠদের সাথে কথা বলেন।এসময় তারা ঘটনার সত্যতা পায়। ছাত্রীর পরিবারকে থানায় এসে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, অভিযুক্ত ব্যাক্তি ও তার পরিবার প্রভাবশালী। তারা বেশ ক্ষমতাধরও। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে এলাকা থাকা যাবে না। এজন্য বাধ্য হয়েই তারা মুখে কুলুপ এনেছেন।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার রাতে অভিযুক্ত ফেরদৌস, তার ভাই বিপ্লব ও স্থানীয় কয়েকজন গন্যমান্য ব্যাক্তি শিশুটির বাড়িতে যায়। এসময় ফেরদৌসকে ৫ টি বেত্রাঘাত এবং শিশুর পরিবার কাছে ক্ষমা চাওয়ানো হয়।
ওই শিশুর এক নিকাত্মীয় বলেন, বিষয়টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ সমাধান করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে তার সাথে কথা বলেন। তবে, উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ জানান, ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগটি সঠিক নয়। শিশুটিকে ছুরি দেখিয়েছে, এতে সে ভয় পেয়েছে। বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধান হয়ে গেছে।
কী ধরনের সমাধান হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফেরদৌস পলাতক।
এ ব্যাপারে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, শিশুর পরিবারের সদস্যদের বারবার বলার পরও তারা থানায় অভিযোগ করেনি। এ ধরনের অভিযোগ সমাধানযোগ্য না জানালেও তারা স্থানীয়ভাবে বিচার পেয়েছেন বলে মামলা করতে আসেনি। তারা যদি অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 66 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ