নাক বন্ধ? জানুন ঘরোয়া চিকিৎসা !

Print

নাক বন্ধ?

ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে খুব সর্দি-কাশি হয়। নাক বন্ধ থাকে, নাক দিয়ে পানি ঝড়ে। খুব অস্বস্তিকর। নিঃশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হয়। নাক বন্ধভাব তাই যত দ্রুত দূর করা যায় তত ভালো। কিন্তু সব সময় কি ওষুধ সেবন করেই নাক বন্ধভাব দূর করতে হবে? তা ছাড়া ওষুধ সব সময় নাক বন্ধভাব ঠিক করতে ভালো কাজও করে না। অ্যালার্জিজনিত চিকিৎসার জন্য যে ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয় তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে ঘুম ঘুমভাব অনুভব করার কথা বলে থাকেন অনেক রোগী। তার পরও যাঁরা ওষুধ সেবন করে নাক বন্ধভাব দূর করতে চান, তাঁদের উচিত সিটিরিজিন, ফেক্সোফেনাডিন, লোরাটিডিনজাতীয় ওষুধ সেবন। সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত অ্যান্টাজল ধরনের ন্যাসাল ড্রপ। শিশুদের জন্য নরমাল স্যালাইনের বিশেষ ন্যাসাল ড্রপ। তবে ঘরোয়া চিকিৎসা কিন্তু অনেক সময় বেশি উপকারে আসে।

কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল : শীতের জন্যও এ ধরনের পানি দিয়ে গোসল করা আরামদায়ক হতে পারে। গরম পানি দিয়ে গোসল করলে নাক বন্ধভাব কমে যায়। সবচেয়ে বড় কথা পুরো শীতকালই যদি কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল সারেন, তবে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকেও মুক্ত থাকতে পারবেন।

স্যালাইন স্প্রের ব্যবহার : এখন নরমাল স্যালাইন ড্রপ ছাড়াও স্যালাইন স্প্রেও বাজারে পাওয়া যায়, যা নাকে ব্যবহার করলে এর ভেতরের পাতলা মিউকাস মেমব্রেনের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ফলে দ্রুত নাক বন্ধভাব কমে আসে। এটার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। শিশুদের জন্যও নিরাপদ।

গরম ভাপ নিন : গরম পানিতে একটু মেনথল মিশিয়ে এর ভাপ শ্বাস হিসাবে নিলে দ্রুতই নাক বন্ধভাব কমে আসে। হাতের কাছে মেনথল না থাকলেও ক্ষতি নেই। শুধু গরম পানির ভাপ নিলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।

নিতে পারেন গরম সেঁক : সেঁক নেওয়ার সময় লক্ষ রাখুন তা যেন অতিরিক্ত গরম না হয়। গরম সেঁক নিতে সুতির কাপড় কয়েক ভাঁজ করে নিন। অনেকে গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে, চিপে পানি ঝড়িয়েও সেঁক নেন।

কেন হয় নাক বন্ধ?

শুধু কি ঋতু পরিবর্তনের জন্যই নাক বন্ধভাব হয়? না। মূলত নাকের ভেতরের মিউকাস মেমব্রেনে প্রদাহ হয়েই রোগটি হয়। ঋতু পরিবর্তনের সময় এ ধরনের প্রদাহ বেশি হয়। প্রদাহের কারণ হতে পারে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া। বাতাসে ভেসে বেড়ানো ধুলোবালি ও ছত্রাকও প্রদাহ করতে পারে। এ ছাড়া যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাদেরও নাক বন্ধভাব অনেক বেশি হয়।

নাক বন্ধ হলে কি ডাক্তার দেখাবেন?

সাধারণত ডাক্তার দেখানোর প্রয়োজন পড়ে না। তবে যদি নাক থেকে সবুজ রঙের পানি, নাক বন্ধের সঙ্গে কানে ব্যথা, জ্বর, বুকে চাপবোধ ইত্যাদি উপসর্গ থাকে, তবে ডাক্তার দেখানো উচিত।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 54 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ