নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আশাবাদী বিএনপি, তবে শঙ্কাও আছে

Print

%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%a3%e0%a6%97%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9c-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আগামী ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে মনোনয়ন দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। এ কারণে উজ্জীবিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতা কর্মীরা। তবে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। এতে ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ সাংবাদ শামিম ওসমান ও তার অনুসারীরা। স্থানীয় আওয়ামী লীগে বিরোধের ফলে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বিএনপি। দলটির নেতারা সুষ্ঠু নির্বাচনের শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন,ভোট সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হবেন।
২০১১ সালে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন শেষ মুহূর্তে বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই সিদ্ধান্তে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছিলেন, নেত্রীর সিদ্ধান্তে নিজেকে ‘কুরবান’ দিয়েছেন তিনি। জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর এবারও মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী হবেন বলে জানাগেছে। নির্দলীয় ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা সেলিনা হায়াৎ আইভী দলের আরেক নেতা এ কে এম সেলিম ওসমানকে বিপুল ভোটে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় প্রার্থীর তালিকায় তৈমুরের নাম ছিল এবং তিনি সাত হাজারের বেশি ভোটও পেয়েছিলেন।
তবে এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এই প্রথম দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের মূল লড়াই আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। গত বৃহস্পতিবার বিএনপি নির্বাচন করার ঘোষণা দিলে উজ্জীবিত হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা। নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি হয়। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে নানা শঙ্কা। সরকারি দল নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। বিএনপি গণতান্ত্রিক দল ও নির্বাচনমুখী দল। কিন্তু বিগত নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোটসহ নানা অনিয়ম করে নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিক করেছে।
তিনি বলেন, মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য দল, জনগণের চাপ রয়েছে আমার প্রতি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি শক্তিশালী হওয়ার পরও গত নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে আমাকে বসিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে দলের কী লাভ হয়েছে, তা আমি জানি না।
তৈমুর বলেন, আমি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের প্রতি অনুগত। আমি দল ও দেশনেত্রী খালেদার জিয়ার অনুগত হয়ে কাজ করতে চাই। তাই এবার দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করবো।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও নগর বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নারায়ণগঞ্জে ৬০ শতাংশ ভোটার বিএনপির। যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হয় এবং ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে পরিবেশে ভোট দিতে পারে তবে বিএনপি দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হবেন। কিন্তু যেহেতু দলীয় প্রতীকে মেয়র পদে নির্বাচন হচ্ছে তাই সুষ্ঠু পরিবেশ বা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এবার দলীয় প্রভাব পড়বে বলে তিনি মনে করেন। বলেন, আমি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। দল যদি মনে করে আমাকে মনোনয়ন দেবে। না হলে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করবো।
নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, বিএনপি নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণায় দেয়ায় নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। আমি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তবে আমি নির্বাচন করবো। আমাকে না দিয়ে অন্য কাউকে দিলে আমি তার হয়ে দলের জন্য কাজ করবো। সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে তিনিও সংশয় প্রকাশ করেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 69 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ